
২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার খনন প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পুরোনো ব্রহ্মপুত্রে শুষ্ক মৌসুমে চর জাগছে, বর্ষায় তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ফলে প্রকল্পটির সুফল, সফলতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বন্ধ এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া এসব অভিযোগ নাকচ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এর সফলতা মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার তিব্বত অংশের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে যমুনা নদী তৈরি হওয়ার পর ব্রহ্মপুত্র তার প্রমত্ত রূপ হারাতে থাকে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে নদটি মরা খালে পরিণত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এর অধিকাংশ অংশ হেঁটে পার হওয়া যায়, আর বর্ষায় শুরু হয় ভাঙন।
নাব্য সংকট ভয়াবহ হয়ে উঠলে বিআইডব্লিউটিএ গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২২৭ কিলোমিটার নৌপথ খননের প্রকল্প নেয়। ২০১৯ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০০ মিটার বা ৩০০ ফুট প্রশস্ত এবং তিন মিটার বা প্রায় ১০ ফুট গভীর.নৌপথ তৈরির মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকে দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে উন্নীত করার কথা, যাতে সারা বছর নৌযান চলতে পারে। প্রথম পর্যায়ের সীমান্ত থেকে জামালপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এবং পরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল থেকে গাইবান্ধার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীর চর পর্যন্ত আরও ৩৭ কিলোমিটার খনন করা হবে। তিনটি স্তরে খননের পরিকল্পনার প্রথম স্তরের কাজ চলছে।