টানা সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে মাছভর্তি নৌযান নিয়ে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। এর আগে সোমবার দিনগত রাত ১২টার পর থেকে মাছ ধরা শুরু হয়।
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছভর্তি নৌযান ঘাটে ভিড়েছে। নৌযান থেকে মাছ খালাস, মাছ ওজন করা, ট্রাকে তোলাসহ নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন জেলে, শ্রমিক ও আড়তদারেরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি রয়েলেটি দিয়ে মাছ পাঠানো শুরু করে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু করতে সোমবার বিকেল থেকেই জেলেরা জাল নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্য জেলে পল্লী থেকে রওনা হন। সকাল ৬টা থেকে রাঙামাটি ফিসারীঘাটসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ ঘাটগুলোতে আসতে শুরু করে জেলেদের বোট। সচল হয়েছে জেলার বরফ কলগুলো।
রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, তিন মাসেরও বেশি সময় পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এতে আমরা আনন্দিত। প্রথম দিন চাপিলা কাঁচকি মাছই বেশি এসেছে। তবে মাছের সাইজ ছোট। আরও কয়েকদিন গেলে বুঝা যাবে বড় কেমন হয়েছে।বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে অবতরণ ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। এ ঘাট থেকে মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। তবে মাছ ছোট এই বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা চেয়েছিলাম আরও ১৫দিন পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে। কিন্তু মৎস্য ব্যবসায়ীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল হতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুত ও ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সব ধরনের মৎস্য সম্পদ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়।