
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। শুক্রবার তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার সফর করে। এদিকে, আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গোরের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সম্প্র্রসারিত ৮-ওয়েস্ট এবং ৬ নম্বর ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন তারা। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। পরিদর্শনের সময় অনেক রোহিঙ্গা সদস্যকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ইউ হ্যাভ অ্যা হোম, উই মিস আওয়ার হোম’। এই বার্তার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং সংকটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চান।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, বিকালে কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধান হিসাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। একইদিন বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এ সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আলোচনায় আনতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, সে বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।