
রাকিবুল হাসান, গাজীপুর প্রতিনিধি:শরতের শেষভাগে এসে গাজীপুরের শ্রীপুরে ভোরের প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে শীতের মৃদু আমেজ। রাতের শেষ প্রহর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা ঠান্ডা বাতাস আর ফজরের নামাজের পর কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ভাংনাহাটি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা মাঠজুড়ে হালকা কুয়াশার চাদর। কুয়াশার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। কোথাও নতুন ধানের চারা রোপণ করা জমি, আবার কোথাও চলছে জমির পরিচর্যা ও নিড়ানি দেওয়ার কাজ। সবুজ মাঠের ওপর কুয়াশার আবরণে গ্রামীণ প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ধানের জমিতে নতুন চারা রোপণের পর এখন চলছে জমির পরিচর্যা, নিড়ানি ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগও করছেন তারা। ভোরের ঠান্ডা পরিবেশে এসব কাজে মাঠে নামছেন কৃষকেরা।
কৃষক কাউসার সরকার বলেন, “ভোরের দিকে এখন আগের তুলনায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশাও দেখা যায়। নতুন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে, তাই জমির পরিচর্যার কাজও চলছে।”
আরেক কৃষক সেলিম শেখ বলেন, “সকালে মাঠে এলে ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার মধ্যে কাজ করতে বেশ ভালো লাগে। এখনো শীত তেমন পড়েনি, তবে ভোরের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে শীতের আমেজ বাড়ছে।”
স্থানীয়রা জানান, সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত পরিবেশ বেশ ঠান্ডা থাকে। এরপর সকাল গড়িয়ে দুপুর ও বিকেলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার অনুভূতিও বাড়তে থাকে। রাত গভীর হলে বাতাসে শীতের আমেজ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে এখনো স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে শীতের সেই চেনা ব্যস্ততা শুরু হয়নি। সকালে চায়ের আড্ডায় শীতের আমেজ তেমন জমে না উঠলেও কাজের উদ্দেশ্যে ভোরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষের কাছে এই সময়ের ঠান্ডা আবহাওয়া বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।
ভোরের কুয়াশা, সবুজ মাঠ, নতুন ধানের চারা আর কুয়াশার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া সূর্যের আলো—সব মিলিয়ে ভাংনাহাটি গ্রামের প্রকৃতিতে এখন দেখা মিলছে ঋতু পরিবর্তনের নীরব বার্তা। শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি, তবে ভোরের বাতাসে তার আগমনী স্পর্শ যেন ধীরে ধীরে জানান দিতে শুরু করেছে।