
জাহিদূল ইসলাম বেলাল:পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা একটি বিরোধীয় জমিতে ফের দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন তার চাচি ফাতেমা বেগম।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম জানান, কলাপাড়া উপজেলার ইছবপুর মৌজার জে.এল. নং-২৭, বি.এস. দাগ নং-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নং-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর মোট ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন এবং তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ দিয়ে পাটাতন নির্মাণ করে দুটি ঘর তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা বেগম আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এরপর আবারও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ‘মিথ্যা, ফাঁসানো ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ করা দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই জমিতে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, “উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।” তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “বিষয়টি আদালতের বিষয়। আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। শুক্রবার নামাজের সময় তারা ঘর উত্তোলন করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।”
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, একই জমিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।