1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : বরিশাল ব্যুরো প্রধান : বরিশাল ব্যুরো প্রধান
  3. [email protected] : cmlbru :
  4. [email protected] : চট্রগ্রাম ব্যুরো প্রধান : চট্রগ্রাম ব্যুরো প্রধান
  5. [email protected] : ঢাকা ব্যুরো প্রধান : ঢাকা ব্যুরো প্রধান
  6. [email protected] : স্টাফ রিপোর্টারঃ : স্টাফ রিপোর্টারঃ
  7. [email protected] : ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান : ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান
  8. [email protected] : সম্রাট শাহ খুলনা ব্যুরো প্রধান : সম্রাট শাহ খুলনা ব্যুরো প্রধান
  9. [email protected] : ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান : ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান
  10. [email protected] : আমজাদ হোসেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
  11. [email protected] : রংপুর ব্যুরো প্রধান : রংপুর ব্যুরো প্রধান
  12. [email protected] : রুবেল আহমেদ : রুবেল আহমেদ
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

মামলার চাপ উপেক্ষা করে রাজপথে থাকবে বিএনপি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

সরকারি দলের কর্মী ও পুলিশের তরফ থেকে হামলা-মামলার চাপ উপেক্ষা করে রাজপথে থাকবে বিএনপি। আপাতত আশু জনস্বার্থসংশ্নিষ্ট দাবিগুলোতে কর্মসূচি পালন করে গণজমায়েত বাড়াতে চেষ্টা করবে। দলের লক্ষ্য ‘সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন’ গড়ে তোলা, তবে চূড়ান্ত প্রস্তুতির আগে সরকারের পাতা কোনো ফাঁদে পা দিতে চান না দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। এখনই রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি না দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন তাঁরা।

অভিন্ন ইস্যুতে সরকারবিরোধী সব দলকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা, বিশিষ্টজন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, আন্দোলনকালীন সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনেক সেল গঠনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারির শুরুর দিকে ‘এক দফার আন্দোলনের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি বলে জানা গেছে।
সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম দফা সংলাপে যুগপৎ আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে তাঁরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফা সংলাপে তাঁরা কোন কোন দাবিতে বা কোন কোন ইস্যুতে আন্দোলন করবেন, সে বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে যে দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এবং অর্থনীতিতে সংস্কার করতে হবে। এই দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য- সরকারের পদত্যাগ। গত জুলাই থেকে জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করছে বিএনপি। গত ২২ আগস্ট থেকে সব জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম জোরদার আন্দোলনে রাজপথে নামলেও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে তারা। অনেক স্থানেই ক্ষমতাসীন দলের বাধা ও হামলার মুখে পড়েন দলটির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে প্রশাসনেরও বাধার মুখে পড়েন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুলাই থেকে বিএনপির চার নেতাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে, আওয়ামী লীগের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। সারাদেশে অর্ধশতাধিক স্থানে তাদের সমাবেশে হামলা হয়েছে, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫টি স্থানে। মোট মামলা হয়েছে ৮২টি। এজাহারভুক্ত আসামি প্রায় পাঁচ হাজার। অজ্ঞাত আসামি ৩০ হাজার। হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজার নেতাকর্মী। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাড়িতে হামলা ছাড়াও অনেক নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে বিএনপির দপ্তর শাখা জানিয়েছে।

 

 

নেতাকর্মীরা জানান, সারাদেশে কর্মসূচিতে হামলা-মামলার পরও সভা-সমাবেশে উপস্থিতি বাড়ছে। অনেক স্থানে হামলার জবাবে পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন তাঁরা। এখন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দলের শীর্ষনেতৃত্ব রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, আর্থিক সহযোগিতা, এমনকি সুদিন এলে তাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়ায় নেতাকর্মীরা ভরসা পাচ্ছেন।

দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ঘরছাড়া। পরিবার, আত্মীয়স্বজন থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসপ্রায়। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তাঁরা মরিয়া। এবারও পরিবর্তন না হলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনেক জটিল হয়ে যাবে। অনেকেরই রাজনৈতিক মামলা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাজা হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই যে কোনো কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীরা পিছুটান দিতে চান না।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। যে কোনো পরিস্থিতি এবার মাঠেই মোকাবিলা করা হবে। হামলা করা হলে গড়ে তোলা হবে প্রতিরোধ। তিনি বলেন, ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্থান পরিবর্তন করে হয়রানি করা হচ্ছে। এরপরও দুই-তিন ঘণ্টার নোটিশে প্রত্যেক কর্মসূচি তাঁরা সফল করছেন।

নেতাকর্মীদের অনেকে জানান, এর আগে আন্দোলনে তাঁদের ক্ষয়ক্ষতি হলে দলের পক্ষ থেকে কেবল খোঁজখবর নেওয়া হতো, তবে জুলাই থেকে আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের পাশে পুরো বিএনপি দাঁড়িয়েছে। তাদের সব দায়িত্ব দল বহন করছে। একজন নেতার বড় অঙ্কের ব্যক্তিগত ঋণ ছিল। সেটা শোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দল। সন্তানদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় দল বহন করছে। মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর মাদবরের বড় ধরনের অপারেশন হয়েছে। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ দলীয় তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে। দলসমর্থক চিকিৎসকরা স্বেচ্ছায় সেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন। এসব বার্তা তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক নেতাকর্মী এখন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

Facebook Comments
১ view

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২২ দৈনিক শিরোমনি