শেরপুরে মাদক কেনার টাকা দিতে অস্বীকৃতি;গলা কেটে হত্যা

শেরপুর সদর উপজেলায় চার মাসের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম (৩৬) নামের এক গৃহবধূকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। মাদক কেনার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভাতিজা আরিফুল ইসলাম (২০) পেছন থেকে এসে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী কামারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোকেয়া বেগমের (৩৬) স্থানীয় লাল মিয়ার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২০) স্থানীয় আমিনুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রোকেয়া বেগম বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে তার চার মাসের শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় মাদক কেনার টাকা চাওয়া নিয়ে ভাতিজা আরিফুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আরিফুল ঘর থেকে ধারালো দা এনে পেছন থেকে রোকেয়া বেগমের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রোকেয়া।হত্যাকাণ্ডের পর আরিফ রক্তমাখা পোশাক পরা অবস্থাতেই নিজ ঘরে গিয়ে গোসল সেরে আত্মগোপনের চেষ্টা চালান। সংবাদ পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার চাচিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে তার পরিহিত রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।