1

নীলফামারীর ডিমলায় টিকে আছে হারিয়ে যাওয়া পাতকুয়া

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ গয়াবাড়ি গ্রামের মাস্টারপাড়ায় এখনো টিকে আছে এমন একটি কুয়া। আধুনিক পানির ব্যবস্থার ভিড়ে এটি এখন আর নিয়মিত ব্যবহৃত হয় না। তবে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা কুয়াটি বহন করছে গ্রামীণ জীবনের পুরোনো দিনের নানা স্মৃতি।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও ডিমলার গ্রামাঞ্চলের বহু বাড়িতে এমন কুয়া ছিল। তখন টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবহার এতটা সহজলভ্য ছিল না। তাই কুয়াই ছিল অনেক পরিবারের অন্যতম প্রধান পানির উৎস।তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই চিত্র। বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল স্থাপন এবং বিদ্যুতের সুবিধা বাড়ার ফলে বৈদ্যুতিক মোটর ও সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবহার সহজলভ্য হয়। এতে কুয়ার ওপর মানুষের নির্ভরতা কমতে থাকে। একপর্যায়ে অনেক কুয়া পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরিচর্যার অভাবে কোনোটি ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোনোটি ঢেকে গেছে ঝোপঝাড় ও আগাছায়।

দক্ষিণ গয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও সাংবাদিক মামুনুর রশিদ বলেন, একসময় পাতকুয়া ছিল গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। পানি সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে এর ব্যবহার ছিল। এখন আধুনিক পানির ব্যবস্থার কারণে সেই প্রয়োজন নেই। তবে টিকে থাকা কুয়াগুলো সংরক্ষণ করা গেলে গ্রামের পুরোনো জীবনযাত্রার স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব।একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই কুয়াকে ঘিরে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও কুয়ার পানি ছিল ঠান্ডা। গ্রামের মানুষ এখান থেকে পানি সংগ্রহ করত, আর কুয়াপাড় ছিল পরিচিত একটি জায়গা। এখন টিউবওয়েল ও পাম্পের কারণে কুয়ার ব্যবহার নেই বললেই চলে।