বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশির মৃত্যু

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাইফুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বাঁশ কাটতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে সাইফুলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি দোছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সাবেরের ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের শূন্যরেখা পেরিয়ে অনেকটাই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাঁশ কাটতে গিয়েছিল সাইফুল। বাঁশ কাটার সময় অসতর্ক অবস্থায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাত জাহান ইতু বলেন, সীমান্ত এলাকায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করতে স্থানীয়দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত পিলার ৫১ থেকে ৫৪-এর আশপাশের এলাকায় বসবাসরত কিছু বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ জীবিকার তাগিদে নিয়মিত বাঁশ কাটতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গিয়ে থাকেন।সীমান্তের দুর্গম এলাকার এসব বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে বাঁশসহ বিভিন্ন বনজসম্পদ সংগ্রহ করে আসছেন। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত এবং বিভিন্ন স্থানে স্থলমাইন পুঁতে রাখার কারণে সীমান্তবর্তী মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।