হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে উজানের ঢলে পানি বেড়েছে

ভারতের ত্রিপুরায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের ঢলে হঠাৎ করে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে পানি বেড়েছে। রোববার দুপুরে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকায় খোয়াইয়ের সংস্কারাধীন বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় হাওড়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে থাকে। বাঁধ ভাঙনে হাওড়ের কৃষকদের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে।লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, এখানে কিছুদিন আগে বাঁধটি ভেঙেছিল। বর্তমানে সেখানে মেরামতের কাজ চলছিল। তবে কাজের গতি কম ছিল। রোববার হঠাৎ করে নদীতে পানি বেড়ে বাঁধটি ভেঙে যায়। এই হাওড়ে এবার কৃষকরা ১২শ’ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। এগুলো সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বনগাঁও গ্রামের মাসুক মিয়া বলেন, বাঁধটি এমনভাবে যেনো দেওয়া হয় ভবিষ্যতে আর যেন না ভাঙে। যাদের এবার কাজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের আর যেন না দেওয়া হয়। এরা কাজ পেলে আবারও ভাঙন দেখা দেবে।লস্করপুর গ্রামের মাসুক মিয়া বলেন, প্রায় ২ মাস আগে এ জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। পরে খোয়াই নদীর মাটি দিয়েই এ ভাঙা বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু এ বাঁধটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। যেভাবে পানি প্রবেশ করছে, তাতে হাওড় তলিয়ে যেতে আর বেশি সময় লাগবে না বলে মনে হয়।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে বোরবার দুপুর দেড়টায় খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে এরপর থেকেই পানি কমতে শুরু করে। আশা করছি, সোমবার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে। আর পানি কমলেই আমরা দ্রুততম সময়ে বাঁধটি সংস্কার করবো।গত জুলাইয়েও খোয়াই নদীর পানি মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। সে সময়ে বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ৯ জুলাই রাতে লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে পানিতে তলিয়ে যায় অন্তত ২০টি গ্রাম। পরে পানি কমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের চেষ্টায় বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই কাজ প্রায় যখন শেষ পর্যায়ে ঠিক তখনই রোববার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে বাঁধের সংস্কারাধীন অংশে ভাঙন ধরে। এতে হাওড়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।