জামালপুরের নরুন্দি বাজার থেকে ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ

জামালপুরের নরুন্দি বাজার এলাকা থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় প্রায় ২২ মণ (৯০০ কেজি) ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জব্দ করা মাংস পরে বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার হানচারপাড় গ্রামের জুয়েল (৪০), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ডোবাকান্দি গ্রামের শহীদ মিয়া (৪০), চরদোবাকান্দি গ্রামের আলফাজ মিয়া (৪৫), মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি গ্রামের হুমায়ুন (৪৭) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল গ্রামের রাসেল মিয়া (৩০)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর পিকআপের চালক ও হেলপারকে দেওয়া হয় দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড। পাশাপাশি তাদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
জানা যায়, রোববার সকাল ৬টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার তুলশীরচর ইউনিয়ন থেকে মাংসের বস্তাগুলো নিয়ে একটি পিকআপ নরুন্দি বাজারের মিরাপুর ঘাট এলাকায় আসে। গাড়ি থেকে বস্তাগুলো নামানোর সময় মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পিকআপটি আটক করে নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপটি জব্দ করে। এ সময় গাড়িতে থাকা ১৩ বস্তা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয় এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাংসগুলো পিকআপে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।