1

নান্দাইলে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

আঃ হান্নান আল আজাদ, নান্দাইল প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ভাটিপাঁচানী গ্রামের একটি মসজিদের নামে ওয়াকফ করা ১০ একর ৩৯ শতাংশ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওয়াকফ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের স্বার্থে যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরেজমিনে মসজিদ ও ওয়াকফ সম্পত্তি পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওয়াকফ পরিদর্শক মো. জোবায়ের হোসাইন।
স্থানীয় মুসল্লি মো. মাফুজ মিয়া, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মাওলানা মো. নূরুল ইসলাম, মো. আবুল হাসেম, মো. আবেদ আলী, মো. ফজলুল হক, মো. হাদিস মিয়া, মো. মজিবুর রহমান, আলতাফ হোসেন, জসিমউদ্দীনসহ আরও কয়েকজনের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও মসজিদের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রত্যাশিত কার্যক্রম নেই। সম্পত্তি থেকে আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট নথি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাটিপাঁচানী গ্রামের পাঁচানী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের নামে শেখ লুদাই গং ১৯৩২ সালে ১০ একর ৩৯ শতাংশ সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। দীর্ঘদিনের এ সম্পত্তির বর্তমান ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, বর্তমানে সুলাইমান, পিতা-মৃত গোলাম হোসেন, ওয়াকফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তির একটি বড় অংশ তাঁর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভোগদখল করা হচ্ছে। সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন ও ধর্মীয় কাজে যথাযথভাবে ব্যয় করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মুসল্লিদের আরও অভিযোগ, মসজিদের দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও রং করা হয়নি। বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি থাকার পরও মসজিদের দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ায় তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এদিকে ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় মুসল্লিরা ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে জেলা ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে মাওলানা মো. শামছুল হক ফকিরকে সভাপতি এবং মো. আবদুল হামিদকে মোতাওয়াল্লি করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সরেজমিনে ওয়াকফ পরিদর্শকের পরিদর্শন
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওয়াকফ পরিদর্শক মো. জোবায়ের হোসাইন ভাটিপাঁচানী এলাকায় গিয়ে মসজিদ ও ওয়াকফ সম্পত্তি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা, ভোগদখল, ব্যবস্থাপনা এবং মসজিদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের সময় ওয়াকফ সম্পত্তির বিভিন্ন অংশে পুকুর খনন করে মাছ চাষ এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কাটা জমিতে ধান চাষ করতে দেখা যায় বলে পরিদর্শক জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি থেকে আয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমান মোতাওয়াল্লি সুলাইমান আয় নেই বলে দাবি করেছেন এবং আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবও উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বর্তমান মোতাওয়াল্লি সুলাইমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০৪ কাটা সম্পত্তি থাকলে কী হবে? চাষাবাদের খরচ বাদ দিলে কোনো আয় থাকে না।’