
বাগেরহাটে ফের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১১ টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম এর নেতৃত্বে বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এ ইটভাটা ধ্বংস করা হয়। এ সময় রাস্তায় শুয়ে-বসে ইটভাটার শ্রমিকেরা প্রতিবন্ধকতার চেষ্টা করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আসাদুর রহমান জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম এর নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে যান। সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকায় অবৈধ ইটভাটায় (পাঁজা পদ্ধতি) যাবার পথে মোবাইল কোর্টের টিম বিষ্ণুপুরের বাবুরহাট বাজারে পৌঁছানোর পরে এলাকাবাসী ও ইটভাটার শ্রমিকেরা রাস্তায় শুয়ে এবং বসে পড়ে মোবাইল কোর্টের গাড়ীবহরকে আটকিয়ে অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এসময় সংক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঈদের আগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করার অনুরোধ করেন এবং ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ ও অপসারণের জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত ইট ভাটার শ্রমিকদের অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার শাস্তি ও পরিবেশের দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বোঝানো হয় এবং রাস্তা ছেড়ে দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কাজে সহযোগিতা করার জন্য বলা হলে তারা উক্ত স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মোট ১১টি পাঁজা পদ্ধতির ইটভাটা এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ০৬ ধারা ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করে এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত, ২০১০) এর ১২ ধারা অমান্য করে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহন ব্যতিরেকে অবৈধভাবে ইটভাটাগুলো স্থাপন করা হয়। প্রসঙ্গত: এর আগেরদিন বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সাঁতগাছিয়া ও বাবুরহাট বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযানের মাধ্যমে ৭ টি পাঁজা ভাটা ভেঙ্গে প্রায় ৪ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।