ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাতে পৃথক দুটি মামলায় আটকের পরে আজ সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আটক ৭ নেতাকর্মীকে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আসামিরা অভিযোগ করেছেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় চিৎকার তারা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলেন। একই সাথে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও জোর দাবি করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ অন্তর।এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) রাত ২টার দিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ অন্তর, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য তাশদীদ হাসান, রাসেল হুসাইন ও হুমায়ুন কবির।সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে নেয়ার পথে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য তাশদীদ হাসান বলেন, আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত নই। সদর থানার ওসিকে জিজ্ঞাসা করুন, বাসে আগুন দেয়ার সময় আমরা কোথায় ছিলাম, সদর থানার ওসি সব জানে। আমরা বাসে অগ্নিকাণ্ডের সময় সদর থানায় ছিলাম।আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ অন্তর প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় বলেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, প্লিজ আপনার সত্যটা তুলে ধরুন। সত্যটা প্রকাশ করুন। এই দেশে রাজনীতির চেয়ে খারাপ আর কিছু নেই। কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিরব হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।এসময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন প্রিজন ভ্যানের দরজায় দাঁড়িয়ে বলেন, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুরের সঙ্গে আমি জড়িত না। সিসিটিভি ফুটেজ পাবলিকলি প্রকাশ করুক পুলিশ। পুলিশ তো বিক্রি হয়ে গেছে। পুলিশ কেন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করছে না? প্লিজ, সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা সত্যটা তুলে ধরুন।জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় আটক আসামীরা নানা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, আটকের পরে পুলিশ সদস্যরা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হওয়ার কারণে আসামীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। পুলিশ শারীরিক ও মানসিক ভাবে হেনস্থা ও নির্যাতন করেছে।


