
জুলফিকার রহমান, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ট্রাকসেল কার্যক্রমের টিসিবি পণ্য রায়পুর বাজারের আকলিমা ইলেকট্রনিক ও স্যানেটারি নামের একটি দোকান থেকে বিক্রি করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটির আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগন বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর ইউনিয়নের ৪০০ জন কার্ডধারীর জন্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের আওতায় পণ্য বরাদ্দ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৫৯০ টাকা মূল্যে নির্ধারিত প্যাকেজ দেওয়ার কথা। প্যাকেজে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য যেমন—তেল, ডাল, চিনি ও ছোলা থাকে, যা নির্ধারিত মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়। এসব পণ্য ট্রাকের মাধ্যমে খোলা জায়গায় পণ্য বিক্রি করার বিধান রয়েছে। এদিকে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হেমায়েতপুর ও রায়পুর গ্রামের কয়েকজন ব্যাক্তি আকলিমা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড স্যানেটারি স্টোরের আন্ডার গ্রাউন্ডে মালামাল রেখে তা অনুগতদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এতে করে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, হেমায়েতপুরের আরেফিন ও রায়পুরের আকলিমা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড স্যানেটারি স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী আলামিন একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দেখিয়ে ট্রাকসেলের টিসিবি আন্ডার গ্রাউন্ড স্টোরে প্যাকিং করে তা তাদের অনুগতদের মধ্যে বিতরণ করেন। ফলে সাধারণ মানুষ টিসিবি না পেয়েই ফিরে গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশেদ আলী জানান, বিকেল তিনটার দিকে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, সকালে পণ্য বিক্রির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম জানান, ট্রাকসেলের পণ্য বিতরণ হচ্ছে, এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সমন্বয় বা অবহিতকরণ করা হয়নি। হেমায়েতপুরের আরেফিন ও রায়পুরের আলামিন পেশি শক্তি দেখিয়ে নিজেদের মধ্যে পন্য বিতরণ করেছেন। নিয়মানুযায়ি ট্রাকসেলের পন্য দেখে স্বাক্ষর করার পর তা নির্দ্দিষ্ট স্থানে বিক্রি করতে হবে। এদিকে টিসিবির ডিলার প্রতিষ্ঠান তানহা অ্যান্ড তালহা ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী মুতালেফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করে ব্যস্ততা দেখিয়ে কলটি কেটে দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আকলিমা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড স্যানেটারি স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলামিন হোসেন জানান, তার গোডাউন থেকে প্যাকেটিং করে দোকানের সামনে ট্রাকসেলের পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। তবে দোকানের ভেতর থেকে পণ্য বিক্রির অভিযোগ এবং তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাকসেল কার্যক্রমের টিসিবি পণ্য কোনো দোকান থেকে বিক্রি করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।