
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকা এই জেলায় এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি তবে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের একটি অংশ বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছে বলে জানা যায়,স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে গত দুই মাসে জেলার বিভিন্ন স্তরের অন্তত পাঁচ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। আরও অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও বিএনপির প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন। তাদের ভোট ও সমর্থন ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩টি সংসদীয় আসন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে একটি আসনে বিএনপির সফিকুর রহমান জয় পেলেও পরবর্তী বছরগুলোতে আবার আওয়ামী লীগ প্রাধান্য ধরে রাখে। টানা কয়েকটি নির্বাচনে দলটি তিন আসনেই জয় পায়।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলার বহু নেতা–কর্মী আত্মগোপনে যান এবং পরে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে সক্রিয় প্রচার চালান।নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, তারা ও তাদের অনুসারীরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।
শরীয়তপুর–১ (সদর ও জাজিরা)- ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৯ ভোটারের এ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির সাঈদ আহমেদ ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের খেলাফত মজলিসের সদস্যসচিব জালালুদ্দীন আহমদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট। ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
শরীয়তপুর–২ (নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের একাংশ)- ৪ লাখ ১৫ হাজার ১৩৪ ভোটারের এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির সফিকুর রহমান ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের মাহমুদ হোসেন পেয়েছেন ৭০ হাজার ৮৯২ ভোট। ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
শরীয়তপুর–৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জের একাংশ)- ৩ লাখ ৪০ হাজার ১৩৮ ভোটারের এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু) ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৮৪ ভোট। এখানে ভোট পড়েছে ৫৭ শতাংশ।
জয়ী প্রার্থীরা বলছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সমর্থনেই তারা বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে এ নির্বাচন একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।