Home জেলার খবর পচন ধরেছে পানের বরজে

পচন ধরেছে পানের বরজে

47
5
SHARE

সুনান বিন মাহাবুব,পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বাংলাদেশে পান সকল শ্রেণীর দ্বারা সারা দেশে চিবানো হয় এবং এটি বাংলাদেশী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপ‚র্ণ উপাদান। বাংলাদেশে পান সনাতনভাবে কেবল অভ্যাস হিসাবেই নয়, আচার-শিষ্টাচার এবং শিষ্টাচারের পদ হিসাবেও চিবানো হয়। কোলের ছেলে মানুষ করার মত যত্নে পান চাষ করতে হয়। পান অসূর্যস্পশ্যা। পাট কাঠির বরজে বড় নিয়মে বেড়ে ওঠে পান। যে কেউ ঢুকতে পারে না পান বরজে।

ঘূর্নিঝর আম্ফান ও করোনা মহামারীর পূর্বে পটুয়াখালীতে বেড়েছিল পান চাষ। বেশি মুনাফা হওয়ায় পান চাষে আগ্রহ ছিল কৃষকদের মাঝে। জেলার মিষ্টি পানের গুণগত মান ভালো হওয়ায় জেলার পান দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি হচ্ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দ‚রত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনের নির্দেশে পটুয়াখালীর সকল উপজেলায় এবং সদরের সাপ্তাহিক হাট বসানো বন্ধ ছিল প্রায় ২ মাস। এছাড়াও বন্ধ ছিল পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে পাইকাররা না আসতে পারায় পান নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় কম দামে পান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। চাষিদের দাবি, উৎপাদন খরচও উঠছে না।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার পান চাষি জাকির ইসলাম বলেন, একটি সুস্থ গাছ থেকে ১০০-১৫০টি পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। প্রকারভেদে প্রতি চলি­ পান ৫০-৬০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। দুই চলি­তে এক বিরা, ছয় চলি­তে এক মুডি, ২৪ চলি­তে এক পাই, এর ১৬ পাইতে এক গাদি। পাইকারি বাজারে প্রতি পাই ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা প্রভাবে এবং আম্ফানে বরের ক্ষতি হওয়ায় পাইকাররা পান কিনতে চাচ্ছে না। পানের বরেই পচে যাচেছ অধিকাংশ পান।

পাইকারী পান ক্রেতা বায়েজিদ অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পান কিনি খুচরা ক্রেতাদের কাছে লাভে বিক্রির জন্য। খুচরা ক্রেতারা পান না কিনলে গদিতেই পান পচে যায়। লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় আমরা পান সংগ্রহ করতে পারি না।

পটুয়াখালী বি.এ.ডি.সি কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, পটুয়াখালীতে এবার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে পানের চাষ হয়েছে। ঘ‚র্ণিঝড়ে ১ হাজারের বেশি একর পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিরা পান (এক বিরায় ৮০টি) বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। এর উপর করোনার প্রভাবে পাইকাররা পান কিনতে চাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পরেছে পান চাষিরা।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, পটুয়াখালীর মিষ্টি পান বিখ্যাত। কিন্তু ঘ‚র্ণিঝড় আম্ফান এবং করোনার প্রভাবে এখানকার চাষিদের পানের বরজ ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা দরকার।

5 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here