Home জেলার খবর চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

40
0
SHARE

মোঃ আবু তাহের নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর,কিশোরগঞ্জে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হতে পারে এমনটাই আশা করছেন এলাকার চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকার কারণে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাড়তি খরচ কম আর বেশি লাভের কারণে কৃষকরা ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে আগাম ভুট্টার জমিতে ভুট্টা উত্তোলন শুরু করবেন চাষিরা। ইতোমধ্যে কোন কোন জায়গায় ভুট্টা উত্তোলন ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। গত বছর বাজারে ভুট্টার দামও বেশ ভালো পেয়েছেন তারা।

চলতি মৌসুমে ভালো দামের আশা করছেন ভূট্টা চাষিরা। বর্তমানে ভুট্টা আবাদ চাষিদের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এ আবাদ করতে অধিক পরিশ্রম করতে হয় না, অল্প খরচে বেশি লাভ হয় এজন্য ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে চাষিরা। ভুট্টা খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ভুট্টার গাছ ও দানা ছাড়িয়ে নেওয়ার পর সেই অবশিষ্ট অংশ জ্বালানী হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয় লাভ করছে। সেই সাথে ভুট্টার গাছ ও কচিঁ পাতা গরু মোটাতাজাকরণে উৎকৃষ্ট খাদ্যে পরিণত হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলের অনেকেই স্বল্প মূল্যে ভুট্টার গাছ, কচি পাতা বাজার থেকে ক্রয় করে গরু মোটাতাজা করণে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

হাটবাজারগুলোতে ভুট্টার গাছ, কচি পাতার কদর ও অনেক বেশি। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্য এবারে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে বাহাগিলী, নিতাই, কিশোরগঞ্জ, পুটিমারী, বড়ভিটা, রণচন্ডী ইউনিয়নে। ভুট্টা আবাদ সম্পর্কে কথা হয় সদর ইউনিয়নের হাফেজ মাওলানা মোঃ রেজাউল ইসলাম গদা গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে বলেন, এবার ২০ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে সব মিলে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা যা খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ করা যেতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভুট্টার দাম ভাল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি। আর ভুট্টা আবাদ করে অনেক চাষী লাভবানও হচ্ছেন।

বড়ভিটা ইউনিয়নের পাইকারটারী গ্রামের কৃষক আবু নাইম ৬০ শতাংশ জমিতে ৭৬ মন ভুট্টা পেয়েছেন। যা মন প্রতি ৬২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ৬০ শতাংশ জমিতে বীজসহ খরচ হয়েছে ১২/১৩ হাজার টাকা মাত্র। একই গ্রামের চাষি মোঃ আব্দুল মাসুদ (আসাদুল) বলেন, এ ফসল বিক্রির সময় নগদ টাকা পাওয়া যায়। চাষ ও বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না, ফলে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছে বেশি করে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডি ইউনিয়নের বদি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবদুলাল মোহন্ত বলেন, চলতি মৌসুমে ৩১৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ৩২০০ হেক্টর। জমিতে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসাররা ভুট্টা চাষীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসতেছেন। ভুট্টা আবাদে রোগ বালাই নেই বললেই চলে, খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষীরা লাভবান হচ্ছেন বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here