1

বিডিআর বিদ্রোহ : ১৫ বছর পর মুক্তি পাচ্ছেন ২৫০ জোয়ান

দৈনিক শিরোমণি ডেস্ক: ১৫ বছর আগে হওয়া বিডিআর হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে খালাস পাওয়া এমন প্রায় ২৫০ বিডিআর জোয়ান বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ইব্রাহীম মিয়া এই জামিন আদেশ দেন। ২০১৩ সালে বিচারিক আদালত এবং ২০১৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এসব জোয়ান জামিন পেলেও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় মুক্তি মিলছিল না।

আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন এডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম, এডভোকেট মো. পারভেজ হাসানসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা আসামিদের জামিন আবেদনের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, যে সব আসামি বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বিডিআর হত্যা মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং ১০ বছরের বেশি সাজা ভোগ করেছেন তাদের জামিন মঞ্জুর করা হোক। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. বোরহান উদ্দিন আদালতকে বলেন, তাদের (আসামিপক্ষের আইনজীবীদের) দাখিল করা জামিন আবেদনে ত্রুটি আছে। তারা আবেদনে ক্লিয়ার করতে পারেনি কোন কোন আসামি হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছেন, খালাসপ্রাপ্তরা বিস্ফোরক মামলার আসামি আছেন কিনা তা পরিষ্কার করেনি। এটা আরও স্কুটিনি করে বের করা লাগবে এমন আসামির সংখ্যা কতো। পরে আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পৌনে এক ঘণ্টার বিরতি শেষে আদালত জামিন আদেশ দেন। আদেশের সময় আদালত বলেন, খালাসপ্রাপ্তদের নাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে দু’দিন পর জামিননামা দাখিলের নির্দেশ দেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২৭৮ জনকে খালাস দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। এরমধ্যে ৬৯ জনের খালাসের রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরমধ্যে ২০ জনের খালাসের রায় বাতিল হয়।  এডভোকেট আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, হত্যা মামলায় যারা নিম্ন আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন এবং যাদের ক্ষেত্রে সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করেনি এবং তাদের হাইকোর্ট পর্যন্ত আর কোনো সাজা নেই, এমন ২৫০ জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। যাদের জামিন দেয়া হয়েছে, সঠিকভাবে তাদের তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে জামিননামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।