1

দেলোয়ার শিকদার থেকে দেলাওয়ার সাঈদী হয়ে উঠা

দৈনিক শিরোমণি ডেস্ক রিপোর্ট: জিয়ানগরের সাঈদখালি গ্রাম আগে পরিচিত ছিল সাউদখালি নামে। এখনো অনেকে আগের নামেই চেনেন।

তবে সাউদখালির নামের রূপান্তর ঘটেছে এই গ্রামেরই এক বিখ্যাত এবং বিতর্কিত মানুষ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঘিরে।

২০১২ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, পুরো বাংলাদেশ অশান্ত হয়ে উঠেছিল। আপিলের পর সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

এই গ্রামেই ১৯৪০ সালে জন্ম নেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জিয়ানগরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সেই সঙ্গে বিতর্ক চলছে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে ঘিরে, যিনি ধর্মীয় জলসার জনপ্রিয় বক্তা থেকে এখন পরিণত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতায়।

১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় অবশ্য নিজ গ্রামেরও খুব কম মানুষই তাকে চিনতেন।

সাঈদখালির মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মের পর তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন দেলোয়ার শিকদার নামে।

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের যে ওয়ার্ডটির অধীনে সাঈদখালি গ্রাম, সেই ওয়ার্ডের একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হারুণুর রশীদ বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য তিনি নিশ্চিত করেন।

“ওনাকে সবাই দেলোয়ার শিকদার নামে চিনতো। স্বাধীনতার সময় তো আমার বয়স খুব কম ছিল। এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। তবে আমি শুনছি এইটা। ওনার বংশ শিকদার বংশ। ওনার নাম কিভাবে সাঈদী হলো সেটা বলতে পারবো না। হয়তো সাউদখালি নাম থেকেই উনি নিজের নাম করেছেন সাঈদী,” জানান তিনি।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পরিবারের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছেন, শিকদার কখনো তাদের পারিবারিক উপাধি ছিল না। তাঁর ছেলে মাসুদ সাঈদী বিবিসিকে বলেন, সাঈদী তাঁদের পারিবারিক উপাধি।

স্থানীয় সাংবাদিক নাসিরউদ্দীন বলছেন, সাউদখালি গ্রামকে এখন সাঈদখালি বলা হচ্ছে, সাঈদীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে।

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলছেন, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বাবা ছিলেন গ্রামের খুব সাধারণ এক গৃহস্থ।

“ওনার বাবা একজন সাধারণ মানুষ ছিল। গ্রামে জমি-জিরাত ছিল। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদিও অনেক তত নামকরা কোন পরিবার ছিল না।”