Home মতামত বৈশ্বিক মহামারিতে সংবাদকর্মীদের জন্য নেই কোন বরাদ্দ

বৈশ্বিক মহামারিতে সংবাদকর্মীদের জন্য নেই কোন বরাদ্দ

47
0
SHARE

চট্টগ্রাম জেলাঃ বৈশ্বিক মহামারিতে সরকারের বরাদ্দ আছে অনেকের জন্য কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কোন রকমের কোন বরাদ্দ নেই। সব ধরণের পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদের পেছনে ছুটতে হয় সংবাদকর্মীদের। আর করোনার মতো মহামারির সময়েও থেমে থাকার উপায় নেই সংবাদকর্মীদের। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করায় বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা ও সচেতনমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছেন দেশের সংবাদকর্মীরা। ইতিমধ্যে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।সব কিছু বন্ধ থাকলেও সংবাদকর্মীরা কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। নেই কোন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম।গ্লাভস কিনতে হয়, মাস্ক কিনতে, পি, পি কিনতে হয় আবার সবকিছুই নিজের পকেট থেকে কেনা লাগে।এরপরেও কাজ করছেন সাংবাদিকগণ যারা দেশবাসীকে বিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। করোনা প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন সাংবাদিকরা অথচ সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরার মত কোন লোকই নেই এই দেশে। শহরের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের গৃহবন্দির কথা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা, তাদের জীবন জীবিকার কথা,হাজারও সমস্যা তুলে ধরছেন সংবাদকর্মীরা।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্মম সত্যকে প্রকাশ করতে ভীত হচ্ছেন না তারা।দেশের এমন পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীর পরিবার আছে, সংবাদকর্মীর সংসার আছে, সংবাদকর্মীর ভাত খেতে হয় এমন চিন্তা আমাদের কারো নেই। করোনা পরিস্থিতিতে গরীব মধ্যবিত্তদের মতো তাদেরও আয়ের পথ বন্ধ রয়েছে। তাদেরকে আর্থিক সহযোগীতা দেয়ার কথাও আমাদের নীতি নির্ধারকদের ভাবা কি উচিত নয়?

করোনা ভাইরাস বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। যার ব্যাপকতা বাংলাদেশকে আক্রান্ত করেছে। করোনাভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। সামাজিক সচেতনতাই এই ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র স্বীকৃত পন্থা হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। এই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাংবাদিকরা সব থেকে বেশি অবদান রাখছেন।এই ক্রান্তিকালে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে মানুষকে অবহিত করছেন। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাদেরকেও আর্থিকভাবে সহযোগীতা করা রাষ্ট্রের জন্য একান্ত আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমি মনে করি।সাংবাদিকরাও মানুষ, আমরা মৃত্যুভয়ে ভীত নই।

সৎ পথে থেকে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করছি। অঢেল ধন-দৌলতের প্রয়োজন নেই, তবে ন্যূনতম সম্মানীর ব্যবস্থা করা হোক আমাদের জন্য এটা সংবাদকর্মীদের পক্ষ হয়ে আমার দাবী।

উল্লেখ্য যে ডাক্তারি মহান পেশা কিন্তু রোগী দেখতে টাকা নেয়,শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু পড়াতে গেলে টাকা লাগে, মসজিদের ইমাম কোরআন পড়াতে টাকা লাগে তাহলে সাংবাদিকদের কেন এত অবহেলা করা হচ্ছে? সাংবাদিক সংবাদ দেয় বলেই তো জনগণ সারা বিশ্বের খবরাখবর এই জাতি খুব অল্প সময়ে পেয়ে যায়। আর তাই আমি একজন সংবাদকর্মী হিসাবে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে বৈশ্বিক মহামারিতে সাংবাদিকদের জন্য ও কোন না কোন বরাদ্দ দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here