Home লাইফ স্টাইল আমার দেখা সেরা শিক্ষক

আমার দেখা সেরা শিক্ষক

21
0
SHARE

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে অর্থাৎ সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অসাধারণ অনেক ভালো শিক্ষকের ছাত্র হতে পেরেছি। কিন্তু যদি আমার দেখা সবচেয়ে সেরা শিক্ষক সম্পর্কে বলতে হয় তাহলে একজন শিক্ষকের কথাই আমি বলব। যিনি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনের চলার পথে সবচেয়ে বেশি প্রেরণা ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমার সেই প্রিয় শিক্ষকের নাম মাওলানা মুফতি এজহারুল হক সাহেব।

আমার পড়াশুনার হাতেখড়ি হয় বাবা মায়ের কাছে।বাড়ির খুব কাছেই ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়।সে স্কুলেই শেষ হয় আমার প্রাথমিক শিক্ষা। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলছে  পড়াশুনা।যখন সেরা শিক্ষকের সন্ধান করি তখনি বাবা-মায়ের পর এই শিক্ষকের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি হলেন গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ মহোদয়।

শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি কেবলই একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন ভালো বন্ধুও বটে। তাই তিনি আমার মতো হাজারো ছাত্রের প্রিয় শিক্ষক, অভিভাবকতুল্য মানুষ। শিক্ষকদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।ছাত্রছাত্রীদের মনের কুঠরে ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।ছাত্রছাত্রীরা যেকোনো প্রয়োজনে তার কাছে যেকোনো সময় যেতে পারেন এবং পরামর্শ নিতে পারেন।অনেক পেশা থাকা সত্বেও তিনি শিক্ষকতা পেশাটাকেই বেঁছে নিয়েছেন।তিনি ভেবেছেন দেশ ও জাতী গঠনে শিক্ষকতা পেশাটাতে তিনি বেশি সময় দিতে পারবেন।আর এই জায়গা থেকে তৈরি হবে অসংখ্য সৎ,মেধাবী,যোগ্য নেতৃত্ব।যারা দেশ ও জাতী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে একদিন গল্প করতে গিয়ে স্যার বলেন, “জীবন সায়াহ্নে এসে যখন নিজেকে প্রশ্ন করবো, দেশ ও জাতির জন্য কী করতে পেরেছি? তখন হয়তো নিজের সক্ষমতা নিয়ে অনুতপ্ত হবো। তাই বিবেকের তাড়নায় শিক্ষকতা পেশায় আসার সিদ্ধান্ত নেই।মাদরাসা প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পথ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলেন।পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেন। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার ও শিক্ষা ভ্রমণের মাধ্যমে পুরো প্রতিষ্ঠানের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

তিনি তার পাঠদান শুধুমাত্র সিলেবাস কিংবা শ্রেনীকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সব ধরনের মন্ত্র শিখিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের বাইরে তিনি নিজেকে একজন ভালো বন্ধু হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশে যান। যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ করে দেয়। একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে সেরা শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।

তার এই কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরোত্তর সাফল্য বয়ে আনবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।প্রতিষ্ঠানের সকল সমস্যাগুলো কাটিয়ে মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষালাভ করে সততার সাথে দেশ ও জাতী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ  ভুমিকা পালন করবে।তার একজন নগন্য ছাত্র হিসেবে জানাচ্ছি  বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের এই পরিশ্রমকে আল্লাহ কবুল করুন।

 

–লেখক,মোঃ মাসুদ আলম

শিক্ষার্থী,গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here