Home শিক্ষা বশেফমুবিপ্রবি’র ল্যাবরেটরিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন

বশেফমুবিপ্রবি’র ল্যাবরেটরিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন

1343
0
SHARE

 

এস.এম. আল ফাহাদ, বশেফমুবিপ্রবি প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে, জীবাণুমুক্ত থাকতে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছে জামালপুরের মেলান্বদহের ঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের

(বশেফমুবিপ্রবি) এক দল গবেষক। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

সোমবার (২৩ মার্চ,২০২০) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাছানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করা আমাদের দায়িত্বের একটি অংশ। আমরা আপাতত স্বল্প পরিসরে এটা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় যেহেতু শিক্ষার্থীরা নেই, তাই আপাতত কর্মচারী এবং আশেপাশের সাধারণ মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে এই স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, স্যানিটাইজার তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে স্যানিটাইজার প্রস্তুত করার পর পরীক্ষামূলকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বোতলজাতও করা হয়। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে পরবর্তীতে বৃহৎ পরিসরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বোতলজাত করা হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশেপাশের সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার কুমার সিংহ রায় জানান, চলমান সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্বানুভূতির জায়গা থেকে ড. মাহমুদুল হাসান স্যারের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দলের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করতে কাজ করেছি। তিনি সকলকে তাদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করেন।

স্যানিটাইজার প্রস্তুতকারী দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান অনিক,সৈয়দা মার্জিয়া ইসলাম তৃপ্তি,ফারজানা হায়দার স্মৃতি,দিদারুল ইসলাম ( অভি),বিল্লাল হাসান ও শর্মিলা দে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। আমরা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহায়তা করতে সর্বদা প্রস্তুত। আশা করছি ধীরে ধীরে এর উৎপাদন এবং ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করা হবে। এজন্য প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে জামালপুরের বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধক্ষ্য শহীদুর রহমান খান বলেন-” এটি নিঃসন্দেহ প্রসংশনীয় উদ্যোগ।আমি তাদের এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলবো -‘ তারা যেন এটি বৃহৎ পরিসরে তৈরী করে সাধারণ মানুষদের বিতরণ করে। ”

উল্লেখ্য, তরুন বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাছান বাংলাদেশের ১০৭ টি ব্যাঙ নিয়ে মলিকুলার পদ্ধতিতে ডিএনএ বারকুডিং এনালাইসিস করে ৮ টি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারসহ ৩টির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেন।তারমধ্যে ১টি ব্যাঙের নামকরণ করেন দেশের প্রতিথযশা মৎস্য বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোখলেসুর রহমান খানের নামে( Microhyla Mukhlesuri).এছাড়াও বর্তমানে বশেফমুবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে

”Cryptic Biodiversity Of Fresh Water Species In Bangladesh. ” এবং দু- মোখ সাপ (Blind snake) এর জিন গবেষণাসহ বেশ কয়েকটি গবেষণা জাপান সরকার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চলমান আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here