Home অর্থনীতি বান্দরবানে তামাক চাষ:হুমকিতে জনন্বাস্থ্য

বান্দরবানে তামাক চাষ:হুমকিতে জনন্বাস্থ্য

31
0
SHARE

ইটেন ত্রিপুরা, বান্দরবান জেলার প্রতিনিধি: পার্বত্যঞ্চলে বান্দরবান জেলাধীন বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার ফসলী জমিগুলোতে প্রতিবছরে তামাক চাষের পরিধি বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর ১ মে বিশ^ তামাক মুক্ত দিবস পালন করলেও কমছেনা তামাক চাষ। তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সহ নানা সমস্যা সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সচেতন করলেও দিন দিন যেনো তামাকেই উৎপাদন বেড়েই চলেছে।

বান্দরবানের ৭ টি উপজেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে তামাক চাষ। তামাক চাষ যেন এখানকার সংস্কৃতি হয়েছে দাড়িয়েছে। এদিকে উপজেলার সচেতন মানুষের অভিযোগ রয়েছে, তামাক বিরোধী সচেতনতার জন্য উদ্ভুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সংশ্লিষ্টরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না। অপরদিকে তামাক উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলো মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করছে এবং তামাক চাষে উদ্ভুদ্ধ করছে।

স্বাভাবিকভাবে এলাকার নারী-পুরুষ-শিশু তামাক চাষ ছাড়াও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্পৃক্ত হচ্ছে। ফলে তাদের স্বাস্থ্যগত নানা ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। তামাক পোড়ানো কাজে স্থানীয় কাচামাল অর্থাৎ গাছ ব্যবহার হওয়ায় দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে গাছ ও বনভূমির পরিমান।

লামা উপজেলার ইয়াংছা এলাকার কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আজ থেকে ১১/১২ বছর আগেও ইয়াংছা, বনপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সীমিত পর্যায়ে আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ওই সব এলাকাগুলোতে তামাক চাষ বেড়েই চলেছে।

এদিকে আলীকদম, রোয়াংছড়ি এলাকার কয়েকজন চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেল, উপজেলায় ধান, পাট, গম, মরিচ, আলু, পেয়াছ, আখ,ভুট্টা সহ শীত কালীন শস্য ও সবজি উৎপাদন হতো। কিন্তু কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন ফসলে লোকসান দিতে হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা পর্যাপ্ত পরিমানে সার,কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ না পাওয়া এবং উচ্চ দামকে ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ি করছেন।

অন্যদিকে তামাক কোম্পানীগুলো কৃষকদের তামাক চাষে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনসহ বিনামূল্যে তামাকের বীজ, সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে সার, কীটনাশক ও নগদ অর্থ প্রদান করছে। এবং তামাক কোম্পানীগুলোর নিয়োগ করা সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারে কোম্পানীদের নিকট বিক্রয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে ফলে বিক্রিতেও ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না কৃষকদের।

উপজেলার পাহাড়ী গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা কৃষকদের কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা না করায় লোকসানের মুখে পড়ে প্রচলিত শস্য চাষ কমে গিষে তামাক চাষে ঝুঁেক পড়েছে সাধারণ কৃষক।

আবুল ট্যোবাকোর লামা লিফ এরিয়ার কর্মকর্তা, আবুল কালামের কথা বলে জানা যায় শুধুমাত্র লামা, আলীকদম উপজেলায় প্রায় ৮০০ হেক্টোরের মত জমিতে এ মৌসুমে তামাক চাষ হয়েছে।

এদিকে জেলা কৃষি কর্মকর্তা দেওয়া তথ্য মতে জেলার প্রতিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ তামাক চাষ থেকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকদের মধ্যে ভুর্তকির মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশন প্রদান করা হচ্ছে। এবং বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম যেমন পাওয়ার টিলার প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন সকলে প্রচেষ্টায় আগামী কয়েকবছরে তামাক চাষ কমে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here