Home জেলার খবর মার্কিনদের কাছে দিলীপ বড়ুয়া যে কারণে মন্ত্রী ছিল

মার্কিনদের কাছে দিলীপ বড়ুয়া যে কারণে মন্ত্রী ছিল

42
1
SHARE

downloadশেখ হাসিনা তাঁর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে দিলীপ বড়ুয়াকে কম হুমকি বলে মনে করেছিলেন। এ কারণেই বাম রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে বাদ দিয়ে তিনি দিলীপ বড়ুয়াকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় এমনটিই উল্লেখ করেছিলেন। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এই তারবার্তাটি ফাঁস করে।
২০০৯ সালের ৯ মার্চ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। ‘যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা পাঁচ মিশালী ভাব আছে’ শিরোনামের ওই তারবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া তাঁর কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজ সম্পর্কে এখনো দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। মরিয়ার্টি আরও লেখেন, ‘দিলীপ বড়ুয়াকে সত্বরতার (প্রম্পটিং) সঙ্গে সাহায্য করতেই শীর্ষ কর্মকর্তারা বেশির ভাগ বৈঠক করছেন।’
মরিয়ার্টি দিলীপ বড়ুয়াকে মন্ত্রী করার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দিলীপ বড়ুয়া আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীকে তাঁর নিজ আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিনিময়ে মহাজোট সরকার গঠন করার পর তাঁকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়। দিলীপ বড়ুয়া বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য—যাঁরা সাংসদ নন। এখানে মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনকে বোঝানোর জন্য একটি মন্তব্য লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার ১০ শতাংশ সদস্য অসাংসদ হতে পারেন। যাঁদের প্রচলিত ভাষায় ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
মরিয়ার্টি দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর একটি সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তারবার্তায় উল্লেখ করেন। তিনি তাতে বলেন, দিলীপ বড়ুয়া তাঁকে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্পোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। তিনি মরিয়ার্টিকে আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৈচিত্র্য এনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রচলন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায়।
মরিয়ার্টি আরও বলেন, দিলীপ বড়ুয়া ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও বিভিন্ন মেধাস্বত্ব রক্ষায় নিজের প্রতিশ্রুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে শিল্প মন্ত্রণালয় যে ট্রেডমার্ক, পণ্যমান, প্যাটেন্ট ইত্যাদির দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় তাও ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় মরিয়ার্টি উল্লেখ করেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here