ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে একটি ভুট্টাখেত থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় মামলার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ঠাকুরগাঁও : রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নে শিশুটির গ্রামের লোকজন জানান, একই গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র মুরসালিন প্রায়ই শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলাধুলা করত। বুধবার বিকালেও তাকে শিশুটিসহ এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় সন্দেহ দানা বাঁধে। পরিবারের লোকজন নানা জায়গায় তার খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মুরসালিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যা করে ভুট্টাখেতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রামের ভুট্টাখেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুরসালিন স্বীকার করেছে, সে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নিজেকে রক্ষা করতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে। ওসি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মুরসালিনের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : সাতকানিয়া উপজেলার একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে ছাত্রীর বাবা সাতকানিয়া থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুপুরে ওই ছাত্রী তার এক কিশোরী সঙ্গীসহ বাড়ির কাছে পাহাড়ি এলাকায় যায়। ফেরার পথে একটি মৎস্য খামারের কয়েকজন শ্রমিক তাদের পথ রোধ করে। পরে দুজনকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে বেঁধে রেখে ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় এক কিশোরসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর ছাড়া বাকিরা হলেন-মো. রাকিব, মো. মানিক ইসলাম ও আবদুর রহিম। পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক:সাহিদুর রহমান
অফিস:২৭/১১/২, তোপখানা রোড, পল্টন মোড়,ঢাকা -১০০০।
ফোন: ০১৯১১- ৭৩৫৫৩৩ ই- মেইল : [email protected], [email protected]