পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি আরটিএক্স করপোরেশনের ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও ‘থাড’–এর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়ামসহ সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডারটির দামই ৩০ কোটি ডলার।সিএসআইএস–এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কৌশলগত সম্পদ এবং এটি হারানো এক বিরাট ধাক্কা।’টমক কারাকো আরও বলেন, ২০১২ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর নয়টি থাড ব্যাটারি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র আটটি। তাই হাতের কাছে বাড়তি কোনো ‘টিপিওয়াই–২’ রাডার নেই।প্রতিটি ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যাটারিতে ৯০ জন সেনা, ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর (প্রতি লঞ্চারে ৮টি), একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্ক বলেন, ‘আপনি যদি সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চান, তাহলে এটি এমন একটি সরঞ্জাম, যা আপনাকে অবশ্যই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখতে হবে।’ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে মোতায়েন ‘এএন/এফপিএস–১৩২’ রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। থাড সিস্টেমের মতো এটি স্থানান্তরযোগ্য নয়, বরং একটি স্থায়ী স্থাপনা। এই রাডারটি মূলত অনেক দূর থেকে আগত হুমকি শনাক্ত করতে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি নিশানায় নিখুঁতভাবে অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য উপযুক্ত নয়।উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা হামলায় চাপের মুখে রয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে থাড এবং প্যাট্রিয়টের (পিএসি–৩) মতো উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড ও আরটিএক্স-এর মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক বৈঠকে বসেছে। পেন্টাগন এখন তাদের অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে চাপ দিচ্ছে।
সম্পাদক:সাহিদুর রহমান
অফিস:২৭/১১/২, তোপখানা রোড, পল্টন মোড়,ঢাকা -১০০০।
ফোন: ০১৯১১- ৭৩৫৫৩৩ ই- মেইল : [email protected], [email protected]