
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় প্রেস কনফারেন্স করেছে সেনাবাহিনী। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা সদরের ডিগ্রী কলেজ ক্যাম্পে এ প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হয়। প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউর রহমান। এর আগে শনিবার বিকেল থেকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চলে ৮ ঘণ্টারও অধিক সময় ধরে। প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগড়া পূর্বপাড়ায় চুন্নু মিয়ার ছেলে রায়হানকে (২৭) সন্দেহ করে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চারটি বিদেশি পিস্তল, ৭ টি ম্যাগাজিন, এক টি পিস্তল কাভার, ৩৯ রাউন্ড এ্যামোনিশন, ১০ টি হ্যান্ড গ্রেনেড সদৃশ বোমা, ৯ টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, পাঁচটি মোবাইল ও এ্যাক্সসোরিজ, ছয়টি সিম কার্ড, একটি চার্জার সদৃশ ডিভাইস, পাঁচটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুইটি ওয়াকি-টকি সেট, আতশবাজি এবং নগদ কিছু ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত রায়হান পলাতক রয়েছে। তল্লাশি চলাকালে বাড়িটির একটি স্টিলের ট্রাংকের ভেতরে হ্যান্ড গ্রেনেড সদৃশ কিছু বস্তু পাওয়া যায়। পরবর্তীতে, সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই গ্রেনেড সদৃশ বস্তুগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ বিস্ফোরক বোমা হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে বোম্ব ডিসপোজাল দল এই বিস্ফোরকগুলো শনিবার রাতেই নিরাপদ স্থানে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনের আগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতিকারীরা এই অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করার পরিকল্পনায় ছিল। অভিযুক্ত রায়হান এবং এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক আটক করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।