
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনের মূল লড়াই। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে মাগুরা-১ ও ২ আসন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। ১৯৯৬ সাল থেকে মাগুরা-১ ও ২০০৮ সাল থেকে মাগুরা-২ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার সবচেয়ে বেশি সরব বিএনপি। দলের অভ্যন্তরীণ সব বিভেদ ও মতপার্থক্যের অবসান ঘটায় এবারের নির্বাচনে মাগুরার দুটি আসনেই ধানের শীষের বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত বলে দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা।মাগুরা-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান এবং মাগুরা-২ আসন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। অন্যদিকে মাগুরা-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) শম্পা বসু, গণঅধিকার পরিষদের খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাকির হোসেন মোল্লা এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল মতিন ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। মাগুরা-২ আসনে আরও আছেন জামায়াতের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা কামাল ও জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান।মাগুরা-১ আসনে বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিনকে হালকাভাবে দেখছেন না বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, ক্লিন ইমেজ ও জনবান্ধব হিসেবে পরিচিত বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান বিএনপির ভোটারদের পাশাপাশি অন্যান্য দল ও মতের ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হবেন।অন্যদিকে মাগুরা-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে দলের একটি অংশে বিভক্তি থাকলেও সম্প্রতি মহম্মদপুর উপজেলার সন্তান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন এলাকায় এসে সব ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তার এ উদ্যোগে দলের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।এ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করায় বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তারা আশা করছেন, এক সময়ের ধানের শীষের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত মাগুরা-২ আসনে এবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।এদিকে বিগত বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে স্থানীয়ভাবে মনোয়ার হোসেন খান আলোচনায় রয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে অনেকেই মনে করছেন, এ আসনে বিএনপি এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে।নিজের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘সবসময় দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।