
প্রথম তিন দিনের বাছাইয়ে বিএনপির তিন, জামায়াতে ইসলামীর ছয় প্রার্থীসহ ৪১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও জামায়াত ও এনসিপির অভিযোগ, কর্মকর্তারা একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সে কারণে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়ার মতো ঠুনকো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হচ্ছে। তবে ইসি আশ্বস্ত করেছে, বেআইনিভাবে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তা আপিলে পুনর্বহাল হবে। যদি কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তা আইন অমান্য করে প্রার্থিতা বাতিল করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ঢাকায় ৭৪ এবং অন্য জেলায় ৩৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর বড় সংখ্যকই স্বতন্ত্র। তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায়। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ভোটারের সই যাচাইয়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ জন ভোটারের সই যাচাই করে দেখা গেছে, একজন এখনও শরীয়তপুরের ভোটার এবং অন্যজন ঢাকা-১১ আসনের ভোটার। আপিল করার কথা জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, একজন ভোটার শরীয়তপুর থেকে ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তর হয়েছে। এ তথ্য নির্বাচন কমিশনের তালিকায় হালনাগাদ করা হয়নি। আরেকজন ভোটারের ঠিকানা ঢাকা-৯ আসনের মধ্যে হলেও তিনি তালিকায় ঢাকা-১১ আসনের ভোটার। ইসির কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় এই বিভ্রান্তি হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে প্রার্থী ও দলগুলোর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইনের বাইরে কোথাও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করার সুযোগ নেই। যা কিছু করা হয়েছে নিয়ম মেনেই। যাদের বাতিল হয়েছে, তাদের আপিল করতে হবে। আপিলে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে ফিরে পাবেন তাদের প্রার্থিতা।গাইবান্ধার একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্য আসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এমন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন নির্বাচনে। তাই এই কারণে যাদেরটা বাতিল হয়েছে, তারাও আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।