নড়াইল জেলার মাঠঘাট এখন যেন একটানা কর্মযজ্ঞ। কনকনে শীত, কুয়াশা আর হিমেল হাওয়াকে তোয়াক্কা না করে কৃষকরা বোরো ধান আবাদে পুরোপুরি ব্যস্ত। ভোরের শিশির ভেজা জমিতে কেউ লাঙল দিচ্ছেন, কেউ সেচ চালু করছেন, আবার কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণ করছেন মূল জমিতে। চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ শুরু হওয়ায় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।গত মৌসুমে ধানের বাজারদর ভালো থাকায় এবার কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর যেখানে প্রায় ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল, এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৭০ হেক্টর। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার ৬৮০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই বাড়তি আবাদ কৃষকদের আস্থারই প্রতিফলন।নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলার বিলাঞ্চল ঘুরলে দেখা যায়, কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও জমি তৈরি হচ্ছে, কোথাও সেচ দেয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বীজতলার সবুজ চারা সারি সারি করে রোপণ করা হচ্ছে। শীতের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও কৃষকরা সময় নষ্ট করতে চান না। কারণ বোরো ধানে সময়মতো রোপণই ভালো ফলনের চাবিকাঠি।আগের বছরগুলোতে সারের কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট আর বাড়তি দামের অভিযোগ ছিল নিয়মিত। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেই চিত্র বদলেছে। কৃষকরা ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সরকারি নির্ধারিত দামেই ডিলার পর্যায় থেকে সংগ্রহ করতে পারছেন। ফলে চাষাবাদে একটি বড় দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে।
সম্পাদক:সাহিদুর রহমান
অফিস:২৭/১১/২, তোপখানা রোড, পল্টন মোড়,ঢাকা -১০০০।
ফোন: ০১৯১১- ৭৩৫৫৩৩ ই- মেইল : [email protected], [email protected]