
টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। কোথাও কোথাও ধানের চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় বীজতলা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যার ফলে বীজতলা রক্ষা করা ও নির্ধারিত সময়ে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান শীতের তীব্রতার প্রভাবের কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না। ফলে কৃষকদের চোখে মুখে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে।উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে ৪১৬ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বীজতলার চারায় কোল্ড ইনজুরির প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তীব্র শীত কেটে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশ্বস্ত করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু বীজতলার চারার রং হলুদ আকার ধারণ করেছে। আবার কিছু কিছু বীজতলার চারা সাদা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো বীজতলার চারার গোড়ায় পচন ধরেছে। কোনো কোনো বীজতলার চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হওয়ার পথে থাকা বীজতলা পুরোপুরি নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা বীজতলায় কুসুম গরম পানি ছিটাচ্ছেন। বিকেলে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা ও বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগসহ নানাভাবে বীজতলা রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।