
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই শিক্ষার্থী। তাৎক্ষণিক তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেন তারা।চিকিৎসক জানান, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও খাবার না খাওয়ার কারণেই তাদের এ শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে, ভর্তি পরীক্ষার্থী মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা মো. ইব্রাহীম খলিলের (৬০) মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্র জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কোহিনূর আক্তার ও নতুন কলা ভবনে রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার। মেডিকেল সেন্টারে তাদের পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অধ্যাপক ড. মঈনুদ্দিন।বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈদা আক্তার শাহনাজ কালবেলাকে বলেন, খাবার না খাওয়া এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তারা বেশি পরিমাণ বমি করেছে। তাদের বমি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, শনিবার ভর্তি পরীক্ষার্থী মেয়েকে নতুন কলা অনুষদ ভবনে পৌঁছে দিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা মো. ইব্রাহীম খলিল। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় তার মুখ দিয়ে ফেনা উঠতে শুরু করলে বিষয়টি দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে জানানো হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে হার্ট অ্যাটাক বলে জানান এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।ইব্রাহীম খলিল নগরীর জিইসি মোড় এলাকার সিটি টাওয়ারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব কালবেলাকে বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, মো. ইব্রাহীম খলিল হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী কালবেলাকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ কারণে পরীক্ষার্থী হিসেবে তার মেয়েকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।এ বিষয়ে চবি ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী কালবেলাকে জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী তিনটি কেন্দ্রে মোট ৫১ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ হাজার ৩৬২ জন অংশ নিয়েছেন। সেই হিসেবে উপস্থিতি হার ছিল ৯১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।