
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীকে শিশু ওয়ার্ডের পৃথক একটি কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।রোববার (২৯ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা এ তথ্য জানান।সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাম একটি দ্রুত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। তাই সময়মতো এমএমআর টিকা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের আগের ডেঙ্গু কর্নারটিকে হাম কর্নারে পরিণত করা হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের সেখানেই রাখা হয়েছে। ভর্তি হওয়া ১২ শিশুর মধ্যে দুজনের বয়স ৬ মাসের কম, বাকিদের বয়স ৭ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। ওই কর্নারে অন্য কোনো রোগীকে রাখা হচ্ছে না।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, শনি ও রোববার এই দুইদিনে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ শিশু হয়েছেন। হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে। নিশ্চিতভাবে রোগ ধরা পড়ে ল্যাব পরীক্ষার পর।তিনি আর বলেন, হাসপাতালের আগের ডেঙ্গু কর্নারটিকে বর্তমানে হাম কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ভর্তি শিশুদের সেখানে রাখা হয়েছে এবং অন্য রোগী রাখা হচ্ছে না।দাতা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই বছর ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। দেশে টিকাকরণ কার্যক্রমের কারণে হামের প্রকোপ কমলেও অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পাচ্ছে না।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘রোগীদের আলাদা রাখা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বাড়ি কক্সবাজার অঞ্চলে। এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে, সবাই হাম রোগে আক্রান্ত, তবে সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা চলছে।’