
মোঃ ইমরান আহম্মেদ,কেশবপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের মধ্যেকুল গ্রামে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। আগুনে দগ্ধ হয়ে গৃহকর্তার স্ত্রী মোছাঃআনোয়ারাখাতুন ৫০ বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ২টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আতাউর রহমানের বাড়ির গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয়রা ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন গোয়ালঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে থাকা দুইটি গরু বের করার আগেই পুড়ে মারা যায়। এসময় আতাউর রহমানের স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় তার শরীরে আগুন লেগে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে খুলনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। গ্রামবাসীরা জানান, রাতের নিস্তব্ধতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। তবে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। অন্যথায় আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারত। ক্ষতিগ্রস্ত আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ধারণা, পূর্বের শত্রুতার জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে কারা জড়িত, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। মাহে রমজানকে সামনে রেখে এমন দুঃখজনক ঘটনায় পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দগ্ধ গৃহবধূর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে থানা থেকে পুলিশের একটা টিম এঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন, এবংসাবেক মেম্বার আতাউর রহমান থানায় অভিযোগ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন, তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করছেন।