কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী মো. ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস গুমের ১৪ বছর পেরোলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এখনো তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী পরিবার দুটি। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান দাবিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন সহপাঠিরা। এতে অংশ নেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।জানা যায়, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় যান আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল মুকাদ্দাস। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি এবং তার বন্ধু দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি রাত ১২টার দিকে সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮-১০ জন অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তি বাস থেকে তাদের নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর ৬ ফেব্রুয়ারি মুকাদ্দাসের নিখোঁজের ঘটনায় তার চাচা আবদুল হাই রাজধানীর দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওয়ালিউল্লাহর নিখোঁজের ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। এরপর নিখোঁজ দুই ছাত্রের পরিবার হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন করে। পরে সেই রিটও খারিজ হয়ে যায়। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের খুঁজতে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হান্নানকে আহ্বায়ক এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। পরে কমিটির আহ্বায়ক দুটি সভা করে প্রাথমিক কিছু নথির খসড়া করেন। কিন্তু কমিটির অন্যদের অসহযোগিতায় তিনি এ কমিটিতে কাজ করবেন না বলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে জানান। প্রশাসন নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন না করায় এই কমিটির মেয়াদ ছয় মাস পেরোলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই কমিটির আহ্বায়ক। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি। আওয়ামী আমলে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের লাশ পাওয়া গেলেও ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের লাশের খোঁজও মেলেনি। তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা দ্রুত তাদের সন্ধান চাই অথবা গুমকারীদের বিচার দেখতে চাই।’শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে আমরা ভেবেছিলাম, তারা ফিরে আসবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তবুও আমাদের ভাইয়েরা ফিরে আসছে না। প্রশাসনকে বলতে চাই, তারা কোন অবস্থায় আছে তা আমাদের জানান। যারা এই গুমের সঙ্গে জড়িত তাদের যথাযথ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে আমি বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবো।
সম্পাদক:সাহিদুর রহমান
অফিস:২৭/১১/২, তোপখানা রোড, পল্টন মোড়,ঢাকা -১০০০।
ফোন: ০১৯১১- ৭৩৫৫৩৩ ই- মেইল : [email protected], [email protected]