
বুধবার ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশন’ জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-ওয়ান’ এলাকায় এই বিশাল আবাসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এই এলাকাটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের ‘মারে আদুমিম’ শহরের সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে নতুন বসতি স্থাপিত হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অখণ্ডতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজিন্সিকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল।তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপের কারণে গত প্রায় তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের এই ধরনের সম্প্রসারণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল, কিন্তু চলমান গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে তাদের দখলদারিত্বের সীমানা বাড়িয়ে নিচ্ছে। মুআয়াদ শাবানের মতে, এই বসতি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করা এবং ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঠেকানো।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সমন্বয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল এবং সেই থেকে শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। বর্তমানে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের বসতি স্থাপনের কাজকে ব্যাপক ত্বরান্বিত করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল সরকার, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।এই নতুন নির্মাণ প্রকল্পের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতি কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলের ভূমি কর্তৃপক্ষ যে টেন্ডার আহ্বান করেছে, তা ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ডে অধিকার আরও সংকুচিত করে তুলবে। বসতি স্থাপন কার্যক্রমের এই ব্যাপক উল্লম্ফন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।