1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : বরিশাল ব্যুরো প্রধান : বরিশাল ব্যুরো প্রধান
  3. [email protected] : cmlbru :
  4. [email protected] : চট্রগ্রাম ব্যুরো প্রধান : চট্রগ্রাম ব্যুরো প্রধান
  5. [email protected] : ঢাকা ব্যুরো প্রধান : ঢাকা ব্যুরো প্রধান
  6. [email protected] : স্টাফ রিপোর্টারঃ : স্টাফ রিপোর্টারঃ
  7. [email protected] : ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান : ফরিদপুর ব্যুরো প্রধান
  8. [email protected] : সম্রাট শাহ খুলনা ব্যুরো প্রধান : সম্রাট শাহ খুলনা ব্যুরো প্রধান
  9. [email protected] : ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান : ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান
  10. [email protected] : আমজাদ হোসেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
  11. [email protected] : রংপুর ব্যুরো প্রধান : রংপুর ব্যুরো প্রধান
  12. [email protected] : রুবেল আহমেদ : রুবেল আহমেদ
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

আমার দৃষ্টিতে একজন সাংবাদিক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ছোট বেলা থেকেই আমার দৈনিক পত্রিকা পড়ার নেশা ছিলো চরমে, বিভিন্ন দোকানে রাখা বা পুরাতন দৈনিক ইত্তেফাকের পাতা যখন হাতে নিতাম আগে খুঁজতাম, গোপালপুর সংবাদদাতা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের কোন লেখা প্রকাশ হয়েছে কিনা, যদি কোন লেখা পেতাম মনোযোগ সহকারে তৃপ্তি নিয়ে বার বার ঐ লেখা পড়তাম । সবসময় ভাবতাম, ইস যদি এই সাংবাদিক সাহেবকে সামনাসামনি দেখতে পারতাম, কপালগুনে এই মহান মানুষটির সহচার্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, এই বিষয়ে পরে আসা যাক।

১৯৯৩ সাল থেকেই পত্রিকা পড়া অভ্যাস গড়ে উঠে আমার, যদিও তখন এতো দৈনিক পত্রিকা ছিলো না, উল্লেখযোগ্য পত্রিকা বলতে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক জনকন্ঠ, ভোরের কাগজ, ইনকিলাব এসব ছিলো উল্লেখযোগ্য প্রথম সারির পত্রিকা।
দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদ স্পষ্ট, সাবলীল ভাষায় লেখা ও সংবাদ লেখার পেশাদারিত্ব দেখে মনে হতো এই পত্রিকা সরাসরি সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয় বা সরকারি পত্রিকা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে দেশের ঐহিত্যবাহী গণমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের, প্রাচীন এই পত্রিকার মূল্যয়ান নিয়ে লেখার কোন যোগ্যতা আমার নেই, তাই ঐদিকে না এগিয়ে মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি ।
গোপালপুর, মধুপুর ও পরবর্তীতে নবগঠিত ধনবাড়ী উপজেলার হাজার হাজার অবহেলিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে, যার কলমের কালি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তার নাম অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ঠিক তেমনি অনেক দুর্নীতিবাজ, প্রভাবশালী,পেশিশক্তির মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের কলমের কালি । এছাড়াও তার ধারালো লিখনির মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে অনেক হারানো ইতিহাস মানুষ জানতে সমর্থ হয়েছে ।
গনমানুষের দুঃখ, দুর্দশা তুলে আনতে যেয়ে অনেক সময় তাকে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে । এছাড়াও সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা রুখতে নিয়মিত যুদ্ধ করে চলেছেন অসাংবাদিক ও কুসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।
১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করা, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া মোঃ হাতেম আলী খাঁনের জৈষ্ঠ্য পুত্র জয়নাল আবেদীন, ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করে কলেজ শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন, সেসুবাদে তিনি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন নামেই পরিচিত । ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে ।
টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত অনেক সাংবাদিকের গুরুদের গুরু তিনি, অনেক সিনিয়র সাংবাদিক তাকে সম্মান ও সমীহ করেই চলেন।
বর্তমানে উত্তর টাংগাইলের কালীহাতি, ভুঞাপুর, গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অভিভাবক তথা সভাপতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন ।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল জেলার সবচেয়ে সুশৃংখল প্রেসক্লাব, গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তিনি । উনার যোগ্য নেতৃত্বের কারনেই গোপালপুর প্রেসক্লাব দীর্ঘদিন পর পেয়েছে নিজস্ব কার্যালয়।
প্রবীন এই সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত ।
আড়ালে পরে যাওয়া গোপালপুর উপজেলার মাহমুদপুর গনহত্যার সরকারি স্বীকৃতি মেলার ঘোষণা এসেছে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের হাত ধরেই, তার উদ্যাগেই প্রতিবছর পালিত হতো মাহমুদপুর গনহত্যা দিবস, তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন মাহমুদপুরে নির্মাণ করেছে স্মৃতিস্তম্ভ “স্বাধীনতা ৭১” ।
সম্প্রতি গনহত্যায় শহীদ পরিবারের সদস্য ইফাতন বেওয়াকে নিয়ে তার দুর্দান্ত লেখনী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হওয়ায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন ও গনহত্যায় শহিদ সতেরোটি পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা দেন । এছাড়াও তার লেখনির মাধ্যমে গোপালপুরের একজন চিহ্নিত দুর্ধর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মুখোশ উন্মোচন হয় ।
সাংবাদিকতায় স্বাধীনতার স্বপক্ষে ভূমিকা রাখায়, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি সম্প্রতি গোপালপুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনকে সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়ে গেছেন ।

আমার প্রিয় সাংবাদিক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ২০১৭ সালে ২০১ গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে যান, সাথে ছিলেন ২০১ গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলাম, ঐদিন প্রথম আমার আরেক প্রিয় মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলাম তার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেন ।

এরপর থেকেই আমার আইডল,এমন গুনী মানুষের সহচার্যে আসতে পারা সম্ভব হয় আমার গুরু কেএম মিঠুর আন্তরিকতায়, আমার মতো নগন্য ব্যক্তির জন্য নিশ্চয়ই এটা বড় পাওয়া ও গর্বের । এমন গুনী একজন অভিভাবকের সহচার্যে যেন সবসময় থাকতে পারি এমনটাই প্রত্যাশা ।

করোনা কালেও থেমে থাকেনি এই যোদ্ধার কলমযুদ্ধ, নিয়মিত গ্রাম গঞ্জ, মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহের জন্য ।

বিগত দুই সপ্তাহ যাবৎ এই মানুষটি করোনা আক্রান্ত হয়ে মধুপুরের নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন, আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি তার রোগ মুক্তির কামনায় গোপালপুর প্রেসক্লাবে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে । আশাকরি মহান মানুষের রোগ মুক্তির কামনায়, সারাদেশের মানুষ অবশ্যই দোয়া করবেন তার জন্য ।

এই মানুষটি এতটাই গুনে গুনান্বিত যে, আজ গোপালপুর প্রেসক্লাবে আমার সংবাদপত্রের জগতে শিক্ষাগুরু কেএম মিঠু ভাইয়ের জন্মদিন পালন উপলক্ষে তাকে কিছু বলতে বলা হয়, কিন্তু প্রিয় স্যারের অনুপস্থিতি তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে, একটা কথাও বলতে পারেনি সে।

আমিও মনে প্রানে বিশ্বাস করি এই মানুষটি শীঘ্রই করোনা থেকে মুক্তি লাভ করে, নির্বিঘ্নে আমাদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে যাবেন দীর্ঘদিন, অনেক দিন ।
পরমকরুনাময়ের দরবারে এই আর্জি রেখে আজকের লেখার সমাপ্তি টানছি।

মোঃ রুবেল আহমেদ

বিশেষ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল (দৈনিক শিরোমণি)

নির্বাহী সদস্য, গোপালপুর প্রেসক্লাব ।

Facebook Comments
no views

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২২ দৈনিক শিরোমনি