230 কিলোমিটার দূর থেকে হামলা চালানো হয়

মেইলের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ভোররাতে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত চারটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। বিমানবন্দরে দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়। মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে রকেটগুলো ছোড়া হয়। দুটি গাড়ির একটিতে ছিলেন কাশেম সোলাইমানি। আকাশ থেকে মার্কিন ড্রোনের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ঘটে প্রবল বিস্ফোরণ। আর মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় কাশেম সোলাইমানির। সোলাইমানির গাড়িতে ২৩০ কিলোমিটার দূর থেকে হামলা চালানো হয়।

মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ড্রোন ‘এম কিউ-নাইন র‌িপার’-এ একবার জ্বালানি ভরলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত হামলা চলতে পারে। চালকবিহীন ‘এম কিউ-নাইন র‌িপার’ ড্রোনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪৮২ কিলোমিটার পর্যন্ত। ড্রোনটিতে আছে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা। এই ক্যামেরায় রাতের বেলায়ও যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি পরিষ্কার পাঠিয়ে দেওয়া যায় দূরের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে বসে থাকা চালকের মনিটরে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো অপারেশনের শেষ পর্যায় ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর এই ড্রোন হামলা। এর আগে সোলাইমানির গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। আর নজরদারির এ কাজে ন্যস্ত ছিলেন মার্কিন ও ইসরায়েলের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা কাশেম সোলাইমানির ফোনের কথোপকথনও শুনছিলেন। কাশেম সোলাইমানির ওপর নজরদারিটা এমন ছিল যে দরকার হলে ড্রোন উড়িয়ে সোলাইমানিকে ধাওয়া করা হতো। কিন্তু বিমানবন্দরের পাশেই চালানো হামলায় নিহত হন কাশেম সোলাইমানি।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের তিনটি অপারেশনাল ড্রোন ঘাঁটি রয়েছে। কুয়েতের আলী আল সালেম, কাতারে উদেদ এয়ারবেস, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল দাফর। বাগদাদ বিমানবন্দরে কাছের মার্কিন ড্রোন ঘাঁটি কুয়েতে আলী আল সালেম। তবে সেখান থেকে বাগদাদের দূরত্ব ৫৭০ কিলোমিটার। অন্য দুটি ঘাঁটির দূরত্ব আরও বেশি। আগে থেকেই খবর না থাকলে আশপাশে হামলা চালানো কুয়েতের ঘাঁটি থেকে সম্ভব নয়। তাই সোলাইমানির সঙ্গেই ছায়ার মতো ছিলেন কোনো মার্কিন গোয়েন্দা। সিরিয়া বা লেবানন থেকে ইরানি কমান্ডার কাশেমকে নিয়ে বিমান ছাড়ার পরই তিনি সেই খবর পৌঁছে দেন মার্কিন সেনাদের কাছে। ফলে বাগদাদ বিমানবন্দরের আশপাশে ওত পেতে ছিল মার্কিন ড্রোন ‘এম কিউ-নাইন র‌িপার’। সোলাইমানি গাড়িতে ওঠার পরই দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

পুরো অপারেশনটি জটিল অঙ্কের মতো ধাপে ধাপে সমাধান করেছেন মার্কিন সেনাসদস্যরা। গোয়েন্দা খবর আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলাইমানিসহ ১০ জনের ওপর হামলা চালানো হয়।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.