গাঁজার বড়ো বাজার কাওরান বাজার

মাদকদ্রব্য গাঁজার বড়ো বাজার রাজধানীর কাওরান বাজার আর মোকাম গাজীপুর। জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারকৃত দুই মাদক কারবারি মানিক মিয়া ও ফারুক মিয়া।

ডিবি পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ডিবির পূর্ব বিভাগের একটি টিম বুধবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭৪ কেজি গাঁজা। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের ডেমরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ধৃত মাদক ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বর্ডার এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি করে। প্রথমে গাঁজার চালান আনার পর তা জড়ো করা হয় গাজীপুরের টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায়। সেখান থেকে পরবর্তীতে কাওরান বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা সরবরাহ করে থাকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরামহীন অভিযানের ফলে রাজধানীতে ইয়াবা ও ফেনসিডিল সরবরাহ অনেকাংশে কমেছে। আর এ অবস্থায় মাদকসেবীদের মধ্যে গাঁজার সেবন বেড়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো, উত্তর) সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, রেলওয়ে বস্তি উচ্ছেদের পর কাওরান বাজারে মাদক কারবারিদের আনাগোনা অনেকটা কমেছে। এখনো প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মাদক অধিদপ্তরের টিম সেখানে অভিযান চালায়।

তিনি বলেন, গত এক মাসে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ৪০টি মামলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে প্রায় ৫০ জনকে। তাদের মধ্যে আটক মাদকসেবীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কাঁচা বাজারের পাইকারি মার্কেট হিসেবে পরিচিত রাজধানীর কাওরান বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে মাদকের বাজার। প্রতি দিন ভোর থেকে শুরু হয়ে এ বাজার সকাল ১০টার আগেই শেষ হয়ে যায়। আবার বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। মাদকের পাশাপাশি এখানে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, যেখানে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০০ জন, যাদের অনেকেই নারী। মাদক ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা। সকালের ক্রেতা সাধারণত ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা আর বিকালের ক্রেতাদের অধিকাংশ ছাত্র-যুবক, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।

খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের দেশে গাঁজার চাষ হয় না। যা পাওয়া যায় তার পুরোটাই ভারত থেকে আসে। আগে মাদক কারবারিরা মূলত ট্রেনে করে গাঁজার চালান ঢাকায় আনত। কিন্তু ট্রেনে ব্যাপক তল্লাশির কারণে তারা রুট পরিবর্তন করেছে। এখন গাঁজার চালান আসে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা অন্য কোনো যানবাহনে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গাঁজার বড়ো বাজার ঢাকা। প্রতি মাসে সরবরাহ করা হচ্ছে হাজার কেজি গাঁজা। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, ভারত থেকে প্রতি চালানে গাঁজা আসে দুই কেজি। প্রতি কেজি গাঁজা ভারত থেকে বাংলাদেশে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে খরচ হয় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। তবে বিক্রি হয় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.