মেনন সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকতে পারেন কিনা

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে নিজেকে এর সাক্ষী হিসেবে দাবি করায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকতে পারেন কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ্যের মনে। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞরা বলছেন, আইনি প্রশ্ন এখানে মূখ্য নয়। কারণ আইন ও সংবিধান ধরলে নির্বাচন সংক্রান্ত এই ধরনের বক্তব্যের জন্য ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত রাশেদ খান মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ নৈকিতার প্রশ্ন। জনগণ ভোট দিতে পারেনি- তা প্রমাণের পক্ষে নিজেকে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করানোর কারণে নীতি-নৈতিকতার বিচারে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সমীচীন হবে।

এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত যে কোনো বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে কমিশনের। নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশের পর কমিশনের আর কিছুই করার থাকে না। তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা হতে হবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে। নির্বাচিত হওয়ার পরে কোনো এমপি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন- এমন কোনো বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠালে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

নৈতিকভাবে মেনন এখন এমপি পদে থাকতে পারেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেটা উনিই (মেনন) ভালো বলতে পারবেন। এবিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনা। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেকেই ইমোশনালি অনেক কিছুই বলেন। পরে বুঝতে পারেন, এটা বলা ঠিক হয়নি।’

গত ১৯ অক্টোবর বরিশাল নগরীতে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সম্মেলনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তারপরেও আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি- এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট দিতে পারে না, উপজেলায়ও পারে না। তাহলে শেখ হাসিনা আপনি-আমি মিলে যে ভোটের জন্য লড়াই করেছি, ঘেরাও করেছি আজিজ কমিশনকে। আমরা ১ কোটি ১০ লাখ ভুয়া ভোটার-তালিকা ছিঁড়ে ফেলার জন্য নির্বাচন বর্জন করেছিলাম নমিনেশন জমা দেওয়ার পরেও। আজকে কেন আমার দেশের মানুষ, ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ, আমার উপজেলার মানুষ, আমার জেলার মানুষ, আমার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না?’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান মেননের এই বিস্ফোরক বক্তব্য ঝড় তোলে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মেননের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মন্ত্রী হলে মেনন কি একথা বলতে পারতেন?’ মেননের বক্তব্য সম্পর্কে ১৪ দলের আরেক শীর্ষ নেতা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে তার মন্তব্য সঠিক নয়। নির্বাচন হয়েছে, ভোটারও ছিল। কাজেই এ নির্বাচনকে অস্বীকারের কোনো উপায় নেই।’ মেননের বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ১৪ দলেও। জোটের বৈঠক করে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ইতোমধ্যে বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে মেনকে চিঠি দিয়েছেন। মেনন বলেছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তিনি এই চিঠির ব্যাখ্যা দেবেন।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.