হিন্দি ভাষায় বেরোচ্ছে তসলিমা’র ‘বেশরম’

অনলাইন ডেস্ক ঃ  হিন্দি ভাষায় বেরোচ্ছে তসলিমা নাসরিনের ‘বেশরম’। এমনটাই বললেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বইটি আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি দিল্লির ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে পাওয়া যাবে।

বুধবার রাতে তার ফেসবুক পেজে বইটি সম্পর্কে তিনি লেখেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হলো।

বাংলায় বইয়ের নাম ছিল শরম। এই বইটি বাংলায় লেখা হলেও আজ অবধি কলকাতা থেকে বেরোয়নি। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে বেরিয়েছিল বটে, কিন্তু রাফ অবস্থায়, তার ওপর প্রুফ দেখাও হয়নি।

এটি লিখেছিলাম ২০০৭ সালে, কলকাতার ৭ নম্বর রওডন স্ট্রিটের বাড়িতে বসে। যখন আমাকে চারমাস গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তখন। আগস্ট থেকে নভেম্বর। বাড়ির বাইরে পা রাখার কোনও অনুমতি ছিল না আমার। তাই অস্থিরতাকে সামাল দিতে বই লেখায় বুঁদ হয়েছিলাম।

জীবনে এরপর কত ভয়ংকর ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। কলকাতার সাজানো সংসার ছাড়তে হলো, দিল্লিতে গৃহবন্দি জীবন কাটাতে হলো, ভারত ছাড়ার জন্য শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার সইতে হলো, এক সময় ভারত ছাড়তেও বাধ্য হলাম। পাণ্ডুলিপির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কেরালার প্রকাশক উপন্যাসের জন্য এমন তাগাদা দিতে লাগলেন যে কম্পিউটারে রাখা ফাইল ফোল্ডারে সার্চ চালিয়ে একদিন শরম পেলাম। পাঠিয়েও দিলাম। ২০১০ সালে প্রথম এটি বেরিয়েছে মালায়ালাম ভাষায়। তারপর পড়ে রয়েছে পান্ডুলিপি। পড়ে রয়েছে কারণ উপন্যাস লিখে কোনওদিন তৃপ্তি পাইনি। কাউকে পাঠাতেও শরম লাগে। শরম নিয়ে শরম আমার কম ছিল না। সবসময় মনে হয়েছে, ধুর, এ কিছুই হয়নি।

একবার পিপলস বুক সোসাইটির প্রকাশক নতুন আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি চাইছেন তো চাইছেনই। তখনও আত্মজীবনীর শেষ খণ্ড লেখা হয়নি। মনে আছে শরমের পাণ্ডুলিপি অগত্যা তাঁকে গছিয়ে আত্মজীবনী না লেখার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলাম। লাভ হয়নি। প্রকাশক সোজা বলে দিলেন, এটি তিনি ছাপাবেন না। নক্সাল পিপলস কি কখনও উপন্যাস বা গল্প কবিতা ছাপিয়েছে? না। হয়তো ছাপাতেন যদি লেখাটা পলিটব্যুরোর ভালো লাগতো।

আবারও ওল্ড ফোল্ডারে অবহেলায় পড়ে রইল পাণ্ডুলিপি। হিন্দি প্রকাশক এসে ওটিকে উদ্ধার করলেন এক বিকালে। ছাপানোর আগে নিজের কাছে দুদিন রেখে পাণ্ডুলিপিকে খানিকটা মানুষ বানালাম। উৎপল ব্যনার্জিকে দিয়ে অনুবাদ করিয়ে প্রকাশকও এটিকে জানি না কোন গুদাম ঘরে ফেলে রেখেছিলেন।

হঠাৎ , তিন বছর পর জানালেন, ওটি নাকি ছাপিয়েছেন। ওটি কী জিনিস বুঝতে আমার সময় লেগেছে। গুদাম ঘরে এত বছর কেন ফেলে রেখেছিলেন–এই রহস্যটি এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। ফাইনাল প্রুফ নিয়ে বাড়িতে এসেছেন সেদিন।

প্রশ্ন, নাম কি শরমই থাকবে? শেষ প্যারাগ্রাফ শুনতে চাইলাম, হিন্দি অনুবাদ থেকে পড়ে শোনার পর বললাম, এক পাল বেশরম মেয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে, নাম শরম কেটে বেশরম দিন।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.