অনলাইনে এমপি প্রার্থীদের কম খরচ বেশি প্রচার

অনলাইন ডেস্ক :  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঢাকা-১২ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী । ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে তার। সর্বশেষ গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে তার ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন। হাতমাইকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। এর আগে গত শুক্রবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে তিনি কী কী ভূমিকা রেখেছেন সেই তথ্য রয়েছে। প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের প্রচার কৌশল ছাড়াও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও কাজে লাগাচ্ছেন।

শুধু ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান নন, একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরবও ইন্টারনেটে প্রচার কাজ চালাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে এরই মধ্যে খুদেবার্তা পাঠিয়ে ‘ধানের শীষে’ ভোট চেয়েছেন তিনি। শুধু ঢাকা-১২ আসনে নয়, সারাদেশের প্রায় সব প্রার্থী এবার নির্বাচনী প্রচারণায় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলে জানা গেছে, তার নামে কয়েকশ’ মামলা থাকায় সশরীরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। পোস্টারও লাগাতে পারেননি। পোস্টার লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে গ্রেফতারের ভয়ে কেউ পোস্টার লাগাচ্ছে না এবং মাইকও ভাড়া দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে ভোট চাইছেন। এরই মধ্যে তার নির্বাচনী আসনে গ্রামীণফোন ব্যবহারকারী ৩ লাখ ৯৫ হাজার নাগরিকের কাছে এসএমএস পাঠিয়েছেন তিনি। দু-একটি রবিসহ অন্য অপারেটর ব্যবহারকারী ১ লাখ ৯০ হাজার নম্বরে মেসেজ পাঠাবেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। তাদের মধ্যে অর্ধেক ভোটার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এদেশে সবচেয়ে বেশি। শুধু ঢাকাতেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সোয়া দুই কোটি। এবারের নির্বাচনে ঢাকা মহানগরে ১৫টি আসনে মোট প্রার্থী ১৩২ জন। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অনেকেই সক্রিয় নেই। তবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব বড় দলই ফেসবুক পেজ খুলেছে। সেখানে দলীয় প্রতিশ্রুতি ও সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে। তাছাড়া দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে এসব পেজ থেকে। এসব পেজে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা পোস্ট করা হচ্ছে। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোস্টার ছাপানো, মাইকিং ও সমাবেশ করে জনগণের কাছে বার্তা দেওয়ার তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে প্রচার চালাতে ব্যয় অনেক কম। প্রতি পোস্টার ছাপাতে গড়ে খরচ পড়ে আড়াই টাকা। আর একেকজন ভোটারের কাছে একেকটি মেসেজ পাঠাতে খরচ হয় মাত্র ৩০-৩৫ পয়সা। তাই কম খরচে ডিজিটাল প্রচার চালাতেই অনেক প্রার্থী আগ্রহী হয়ে উঠছেন। যেহেতু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে তাই বিপুল সংখ্যক ভোটারের কাছে নিজের বার্তা নিয়ে পৌঁছতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন প্রার্থীরা। ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ব্লগেও চলছে প্রচার কাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সাবেক সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ইতিমধ্যে দেশে অনলাইনকেন্দ্রিক একটি প্রজন্ম বিকশিত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের চেতনার পুরো সদ্ব্যবহার করছে তারা। অনলাইন প্রচারে অল্প টাকা খরচ করে হাজার হাজার মানুষের কাছে প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য ‘বুস্ট’ করতে পারেন। এর মাধ্যমে টার্গেট করে সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া সহজ। তবে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারণার একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এখানে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাও সহজ।

এরই মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেননের পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে ভোটারদের কাছে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি। তার রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলনের নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে চালানো হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার। ভোলা-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব তার ফেসবুক পেজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। শনিবার তার পেজ থেকে হাজারীগঞ্জের উঠান বৈঠকের ছবি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে সবার কাছে বিশেষত তরুণদের কাছে ভোট চেয়েছেন। আবেগঘন ওই বার্তায় সাকিব বলেছেন, ‘সবাইকে ভালো রাখা ও সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক দুর্বার যাত্রায় এখন আমরা আছি। বিদ্যুৎ, শিক্ষায়, খাদ্যে, স্বাস্থ্যে, নারীর ক্ষমতায়নে, সামাজিক ও মানব উন্নয়নে তো বটেই, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও ডিজিটাল উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উদাহরণ হতে চলেছে।’ সাকিব এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চেয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে অনলাইনে ভোট চেয়েছেন নায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, অপু বিশ্বাসসহ অনেক তারকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার কাজে নেমেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। তরুণদের উদ্দেশে এক ভিডিওবার্তায় ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল তাদের জেগে উঠতে বলেছেন। তাদের ওপর ভরসা করে বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণরাই ঠিক করবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার কাজে সক্রিয় রয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম জগলুল হায়দার। শনিবারও তার ফেসবুক পেজ থেকে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়।

জগলুল হায়দার সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। এখন সর্বক্ষেত্রে এর সুফল পাচ্ছেন দেশের মানুষ।

তবে নিয়ম অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। সেক্ষেত্রে অনলাইন প্রচারণা বন্ধে নীতিনির্ধারকদের জটিল সমস্যায় পড়তে হবে। অনলাইনে প্রার্থীরা তখন প্রচার চালালে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- সে ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে কিছু বলা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন প্রচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বেচ্ছায় কাউকে বাধা দেবে না। তবে নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে যে নির্দেশনা দেবে সেটা বাস্তবায়নে তারা কাজ করবে।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.