শামীম থেকে মোশাররফ করিম

অনলাইন ডেস্ক ঃ ডাক নাম ছিল শামীম। এই নামেই চিনতেন পরিবার, বন্ধু এবং কাছের মানুষেরা। এখনো চেনে। তবে সেটা ছাপিয়ে সারা দেশের মানুষের কাছে তিনি মোশাররফ করিম। শামীম থেকে কীভাবে হয়ে গেলেন মোশাররফ করিম?

বললেন, ‘আমার ডাক নাম শামীম। আর সার্টিফিকেট নাম মোশাররফ হোসেন। আমার বাবার নাম আব্দুল করিম। বাবা মঞ্চে অভিনয় করতেন। কিন্তু তাঁর অভিনয় দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাঁর আবৃত্তি শুনেছি। দারুণ দরাজ গলা ছিল বাবার। আমি যখন পুরোপুরি অভিনয় শুরু করি, তখন মনে হয় বাবার কিছু একটা আমার সঙ্গে থাকুক। এই ভাবনা থেকেই তাঁর নামের একটা অংশ নিজের নামের সঙ্গে লাগিয়ে নিই। পুরো নাম হয়ে যায় মোশাররফ করিম। তারপর থেকে এই নামেই পরিচিত হয়ে যাই।’

জানালেন, ২০০৩–০৪ সালের দিকে পুরোদমে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। ক্যারাম নাটকটি জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ওই সময়টাতেই বদলে ফেলেন নাম। তার আগে থিয়েটারের মানুষও তাঁকে চিনত মোশাররফ হোসেন নামে। কেউ কেউ ডাকতেন শামীমও। এখনো পরিবারের সবাই তাঁকে শামীম নামেই ডাকেন।

অভিনয় থেকে অভিনয়

মোশাররফ করিমের ভাষায়, আক্ষরিক অর্থেই ছোটবেলা থেকে অভিনয়ই তাঁর জীবন। তখন যাত্রায় অভিনয় করতেন। একদম পেশাদার যাত্রাপালা। লোকে টিকিট কেটে সেই যাত্রাপালা দেখত। তারপর এলেন থিয়েটারে। এখন টেলিভিশনে। বলেন, ‘আমার কাছে থিয়েটার হচ্ছে এমন জায়গা, যেখানে অভিনয় করতে, এমনকি যেকোনো কাজ করতেই ভালো লাগত। আমার মনে হতো, আমি একটা দারুণ কাজ করছি। একজন কবি বা লেখক একটা লাইন বা কবিতা লেখার পর যে আনন্দটা পান, মঞ্চ তো আমাকে প্রতিদিন সে আনন্দ দিত। ১৯৯০ সালে থেকে সেই অনুভূতি নিয়ে আমি বড় হয়েছি।’

নাট্যকেন্দ্রের নাম তখনো ঠিক করা হয়নি। শুরু হয়েছে ফরম বিতরণ। প্রায় চৌদ্দ–পনেরো শ ছেলেমেয়ে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন সেবার। সবাইকে ধাপে ধাপে ডাকা হলো। তাঁদের মধ্যে এখনকার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান ও মোশাররফ করিমও ছিলেন। সাক্ষাৎকারের স্মৃতি মনে করে মোশাররফ বললেন, ‘আমাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি ও তারিক আনাম খান ভাই। ফরীদি ভাই জানতে চাইলেন, ঢাকায় আমি কী কী নাটক দেখেছি। প্রিয় লেখক কে? যত দূর মনে পড়ে প্রিয় লেখকের নামের জায়গায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলেছিলাম।’ তারপর মঞ্চে প্রথম অভিনয় করেছেন বিচ্ছু নাটকে। একে একে নাট্যকেন্দ্রের অনেক নাটক নিয়েই মঞ্চে উঠেছেন আজকের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম।

উড়ে বেড়ানো জীবন

পুরোদস্তুর অভিনেতা হওয়ার আগে শিক্ষকতা করেছেন মোশাররফ করিম। তবে সেটা টিউশনি ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। এর আগে খণ্ডকালীন জরিপের কাজ করেছেন। হয়েছিলেন এইডসবিষয়ক ক্যাম্পেইনের একজন সমন্বয়কারী। করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার ডিজাইন।

মজা করে জুতা দেখে ভাগ৵ বলে দিতে পারতেন মোশাররফ করিম। একটা মজার জীবন পার করে এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে ভাবি, তখন কি আমি খুব কষ্টে ছিলাম, খারাপ সময় যেত আমার? আমি সেটা খুঁজে পাই না। আমার কাছে তো মনে হয় ওটা একটা দুর্দান্ত জীবন ছিল আমার। অনেক বেশি মুক্ত ও স্বাধীন জীবনযাপন ছিল। অর্থ মানুষের জীবনে জরুরি, কিন্তু খুব যে জরুরি, এটা বলব না। বেঁচে থাকার জন্য যতটা জরুরি, সেটা হলেই তো যথেষ্ট। টাকা এলে খরচ করবে, এটাই স্বাভাবিক, টাকার জন্য জোরজবরদস্তির কিছু নেই।’

টাকার প্রশ্ন আসতেই জানতে চাই, কিন্তু আপনাকে নিয়ে একটা অভিযোগ আছে, নাটকে সবচেয়ে বেশি সম্মানী আপনি পান। নাটকের অর্ধেক বাজেট আপনাকে সম্মানী হিসেবে দিতে হয়। ‘আমার সম্মানী কিন্তু আমি বাড়াইনি। আমি কোনো দিনই বলিনি আমাকে এত টাকা দাও। আমার সম্মানী বাড়িয়েছেন প্রযোজক ও পরিচালকেরা। এটাও তো সত্য, আমার অভিনীত নাটক বেশি দামে বিক্রিও হয়। সবকিছুরই একটা ব্যালেন্স করতে হবে।’ বলেন মোশাররফ করিম।

কেন এত জনপ্রিয় মোশাররফ?

টেলিভিশন নাটকের এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। এটা নতুন তথ্য নয়। কয়েক বছর ধরেই এই জায়গাটা পাকাপোক্ত করে ধরে রেখেছেন তিনি। কোথাও হাঁটলে, দাঁড়ালে বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা। জানতে চাই, মোশাররফ করিম এত জনপ্রিয় কেন? সেই উত্তর তিনিও দিতে পারলেন না। ‘আমি ঠিক জানি না কেন মানুষ আমাকে পছন্দ করেন। সৃষ্টিকর্তা ভালো বলতে পারবেন। অনেক সময় কাজ করে নিজের তৃপ্তি আসে না। মনে হয়, আরও ভালো করা যেত হয়তো। সেই জায়গা থেকে এত জনপ্রিয়তার জন্য সৃষ্টিকর্তা ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

শেষ প্রশ্ন হিসেবে জানতে চাই, অনেকেই মোশাররফ করিমের মতো হতে চায়। তাদের জন্য আপনার বক্তব্য কী?

‘আমার প্রথম কথা হলো, মোশাররফ করিম হওয়ার চেষ্টা না করা। কারণ এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ আলাদা। সবার মধ্যেই সূক্ষ্ম কোনো গুণ নিশ্চয়ই রয়েছে। সেটা বের করে প্রকাশ করা জরুরি। মাথায় রাখতে হবে, কাঁঠাল কিন্তু চৈত্র মাসে বলে না, আমি কেন পাকি না। প্রকৃতির নিয়মে সে জ্যৈষ্ঠ মাসেই পাকবে। একমাত্র মানুষই চৈত্র মাস অর্থাৎ অসময়ে চিৎকার করে। আমি পাকি না কেন? তাই সময়মতো ভালোবাসা দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। নিশ্চয়ই তুমি জ্বলে উঠবে।’

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.