স্বাধীনতা এসেছে আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে

আনন্দ কুমার সেন   জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর বাঙালী জাতির পাকিস্তানকে পরাজিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। এই স্বাধীনতা এসেছে বহু মানুষের জীবন উৎসর্গ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শোষণ-বঞ্চনাহীন একটি আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তিনি বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে অনুধাবণ করতেন। তিনি বাঙালীদের খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। শোষণ-বৈষম্যেও বিরুদ্ধে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। অধিকারহারা জাতিকে দিয়েছেন পথের ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী একটি নাম। যতোদিন বাঙালী জাতি থাকবে, যতদিন চন্দ্র-সূর্য উদিত হবে ততদিন বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন আজ আমাদের সকলের জানা। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসন, শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদমুখর ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। যৌবনের দীর্ঘ ১৪ বছর জেলে বন্দী জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু বাঙালীর স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। তিনি সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও আর্ন্তজাতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে কুলাঙ্গাররা এবং একদল বিপথগামী সামরিক বাহিনীর সদস্যের দ্বারা বঙ্গবন্ধু শহীদ হন।
বিজয়ের এই মহান মাসে মুজিব তোমায় মনে পড়ে, কে বলে রে মুজিব নাই, মুজিব সারা বাংলায়, এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘওে ঘরে। মুজিবের বাংলায় খুনীদেও ঠাঁই নেই, মুজিব আমার চেতনা, মুজিব আমার বিশ্বাস, লাল সবুজের পতাকায়- মুজিব তোমায় দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিভিন্ন সময়ে শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেন এবং দীর্ঘ ২১ বছর পর জনগণের ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলকে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে। শেখ হাসিনা আজ শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরেছেন। বাংলার দুঃখী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলেন তিনি। আজ তিনি বিশ্ব নেত্রী, মানবতার মা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রকৃতপক্ষে তারই হাত ধরে সফলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশে আজ রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ নতুনভাবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। এই সব কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। যতদিন শেখ হাসিনা থাকবে, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। এই জন্যই স্লোগান উঠেছে শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার। এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক, নৌকায় ভোট দেব, রাজাকার ও বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। জয়তু শেখ হাসিনা, অভিবাদন তোমার।
আনন্দ কুমার সেন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.