শীতকালীন প্রকৃতি ও মানব জীবনের পরিবেশ দর্শন


নজরুল ইসলাম তোফা:: ‘বাংলাদেশ’ ষড়ঋতুর দেশ। এ শীত ঋতু ষড়ঋতুর একটি ঋতু। আর এমন পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রকৃতির পরিবর্তন হয়। তাইতো বাংলার ঘরে ঘরে বারবারই ফিরে আসে- ‘শীত’। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতনের দেশ-বাংলাদেশ। ষড় ঋতুর এই দেশে প্রত্যেকটি ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। ‘পৌষ এবং মাঘ মাস’- শীত কাল হলেও অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শীতের সূচনা হতে থাকে। এমন শীতের আগমন পত্র কুঞ্জে, জলে-স্থলে সর্বত্রই পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আসলে হেমন্তের প্রৌঢ়ত্বের পরে আসে জড়তা গ্রস্ত শীত ঋতুর নির্মম বার্ধক্য। শুষ্ককাঠিন্য ও রিক্ততার বিষাদময় প্রতিমূর্তি রূপেই শীত আবির্ভাব ঘটে। তবুও শীতকালের প্রকৃতি ও মানুষের পরিবর্তনের বাস্তব লীলা অনেকেরই ভালো লাগে। বলা যায় যে, কবি সাহিত্যিক সংস্কৃতমনা মানুষের কাছে শীত কাল কাব্য সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলতেই হয় যে, বিশ্বের যত মনোরম দৃশ্যের স্থান আছে, সেই গুলোর মধ্যে শীত প্রধান স্থান-ই বেশি। তাই শীতল সেই সকল এলাকা অনেকেরই মন ছুঁয়ে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই এ দেশেও শীতকালীন আবহাওয়া অনেকের খুব পছন্দ। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরাঞ্চলের মানুষ শীত কালের এমন সময়, আলাদা প্রশান্তির আমেজেই থাকে। শীতের রাত্রিটা দীর্ঘ হওয়ায় তীব্র ঠান্ডায় নিঃস্তব্ধ প্রকৃতি থাকে। প্রকৃতির মাঝ হতে মানুষ ঘরে ফিরেই যেন সারারাত্রীতে কম্বল, লেপ কিংবা কাঁথা মুড়ি দিয়ে জড়সড় হয়ে গভীর তন্দ্রায় যায়। খুব ভোর বেলায় ঘনকুয়াশার ধবল চাদরে প্রকৃতি ঢাকা থাকে। তখন হিমেল হাওয়ায় ‘হাড় কাঁপানি শীত’ জেঁকে বসলেও যেন- শীতের দাপট কাটিয়ে ওঠার জন্যেই মানুষজন সাধ্য মতো দামি দামি শীতবস্ত্র শরীরে জড়িয়েই প্রকৃতি নীরবতাকে উপভোগ করে। তার পাশা পাশি সব শ্রেণীর মানুষ নিজ ত্বকের যত্নশীল হয়। অবশ্য পরিবেশ গত কারণেই বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকে ইতিবাচকভাবেই দেখে।

শীতকালে এই দেশের বেশ কিছু গাছে ফুল ফুটে যেমন, গাঁদা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, গোলাপ প্রভৃতি ফুল শোভাবর্ধন করে থাকে। ফুলের দোকান গুলোতে বাহারি ফুলে ভরে যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি বরণ করতে নানা ফুলের দোকানগুলোতে নানা রকম ফুলের ডালি, তোড়া কিংবা মালাসহ সুসজ্জিত ফুলের উপকরণ বিক্রি এবং কেনার হিড়িক পড়ে যায়। শীতকালে বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি খেঁজুর গাছের মিষ্টি রস, নানান পিঠাসহ হরেক রকমের সু-স্বাদু খাবার অন্য সময় দেখা দায়। তাছাড়া ধান ক্ষেত বা শাকসবজির ওপরে টলমল করা শিশির বিন্দু, সূর্যের সোনালি রশ্মিতে একপ্রকার মুক্তার মতোই যেন ঝলমল করে। শীতকালের বহু শাকসবজিতে ক্ষেত খামার ভরে যায়। শিম, লাউ, টমেটো, লালশাক,শালগম, পালংশাক, বরবটি, গাজর এবং মুলাসহ নানা রকমের শাক সবজি প্রকৃতির শোভাবর্ধন করে। যা অবশ্যই এই বাংলাদেশের মানুষেরই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। বাংলার মানুষকে আকৃষ্ট করা বিভিন্ন ধরনের ফলনশীল ফসল, শাকসবজি আর সুস্বাদু পিঠা মেলার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।

সরিষা ফুলের হলুদ ক্ষেত আর মৌমাছির গুঞ্জনের দৃশ্য মনকে খুব পুলকিত করে। আহা!! কি আনন্দ আকাশে- বাতাসে! শীতে শিশিরভেজা বনেজঙ্গলে মধু পিয়ে নেচে পাপিয়ারা পিয়া পিয়া বলে ডাকে গুনগুন করে এক দল মৌমাছি, মহুয়া গাছের ফাঁকে ফাঁকে। কতোই মধুর সুরে কতো পাখিরা গায়; কতো না রঙিন ফুলের ডালে ডালে, বাঁশবনে ডাকে আপন খেয়ালে ঝুঁটিবাঁধা হরিয়ালী। তাই অরূপ রূপের এই শীতে কালকেই বাংলার ‘রূপের রানী’ বললে ভুল হবে না। গ্রামাঞ্চলে সূর্যোদয়ের দেখা পেলেই গোসলের আগে ও পরে খাঁটি সরিষা তেল শরীরে মেখে দুপুরের কাঁচা রোদে বসে কেউ মজার গল্প করে কেউবা বিভিন্ন বই পড়েই বিনোদন করে থাকে। আবার বিকেলে নদী,খাল, বিল ও দীঘির পারে বসে আড্ডা দিয়ে থাকে।স্থির জলের উপর বিকেল বেলার সেই ঢলে পড়া সূর্যের মৃদু আলোর প্রতিচ্ছবি দেখার মজাই আলাদা। তারপর  আস্তে আস্তে কুয়াশার চাদর নেমে আসে।

শীতের সকালে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষদের কন কনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। শীতকালে মাঝে মাঝে শুরু হয় শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় তাপমাত্রা খুব নিচে নেমে আসে। হাড় কাঁপানো তীব্র শীত গ্রাম বাংলার মানুষ-জীবজন্তুর সহিত প্রকৃতি অসাড় হয়ে পড়ে। এমন শীতের হাত থেকে হত-দরিদ্র মানুষ বাঁচতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাদের সাধ্যমত শীতবস্ত্র কেনারও ধুম পড়ে যায়। শীতের সকালে ও রাতে ছিন্নমূল মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালায়। শীতের সকালে শহর এবং গ্রামে শিশু, যুবক বা বৃদ্ধ সহ সব বয়সের মানুষকে যেন আগুনের কুন্ডলী তৈরি

কিশোর অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে

কাজী ফয়সাল ঃ সংখ্য সমস্যায় জর্জরিত আমাদের বাংলাদেশে নতুন নতুন সমস্যার আবির্ভাব ঘটে। বর্তমান সময়ের এক নতুন আতংকের নাম কিশোর গ্যাং। তবে একে নতুন বৈশ্বিক সমস্যা বললে অত্যুক্তি হবে না। কিশোর গ্যাং হল বিভিন্ন বয়সী কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা দল বা গোষ্ঠী যারা মূলত সংঘবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে এবং অপরাধে একজন আরেকজনকে সহায়তা করে। কিশোর বয়সে শারীরিক, মানসিক পরিবর্তনের কারনে বিভ্রান্ত হয়ে এসকল কিশোর পা বাড়ায় ভুল পথে, জড়ায় অসামাজিক এবং অন্যায় কর্মকাণ্ডে। নষ্ট করে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, পরিবারগুলোকে করে নিঃস্ব এবং নিজেদের অপকর্মের মাধ্যমে ধ্বংস করে আরও অনেক সাধারন মানুষের জীবন। শুধুই তাই নয় সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চয়তার দিকে।
কিশোরদের এধরনের আচরণ হয়তো আগেও ছিল, কিন্তু এমন ভয়ানক যে কখনোই ছিল না তা বয়োজ্যেষ্ঠদের ভাষ্যমতে বোঝা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং এবং তাদের অপকর্মের ওপরে আসা খবর দেখে প্রায় আঁতকে উঠতে হয়। কিশোর গ্যাং নামক এই দলগুলো আগাগোড়া সন্ত্রাসী দলের মত কর্মকাণ্ডে জড়িত তাই এদেরকে সন্ত্রাস বলা খুবই যৌক্তিক। ছোটোখাটো মারামারি আর চুরি ছিনতাইয়ে থেমে নেই এদের অপরাধ। বরং অহরহ খুন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদির মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। বিশাল দলবল নিয়ে বাইক ইত্যাদির মাধ্যমে মহড়া দিয়ে ক্ষমতার প্রকাশ ঘটায়। চুরি, চাপাতি থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করে এরা। সাধারণ চোখাচোখি নিয়েও মারামারি করে কিশোর গ্যাং। আর সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে অনেক কিশোরের। এহেন অপকর্ম নেই যা এই সকল গ্যাং করে না।

এবার প্রশ্ন হল কেন এই কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে? কোন একক কারন নয় বরং অসংখ্য কারনের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই কিশোর গ্যাং। তবে মূল কিছু কারনের মধ্যে আছে রাজনৈতিক আশ্রয় এবং আইন প্রয়োগের অভাব।
রাজনীতি কিশোর গ্যাং তৈরি এবং টিকে থাকার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজনীতি শব্দটিই এখন মানুষজন নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করে। তাই রাজনীতির হাল হকিকত নতুন করে বোঝানোর কিছু নেই । অর্থ আর ক্ষমতার লড়াই যখন গ্রাস করেছে দেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ তখন বাদ পড়ছে না কিশোর সমাজও। কিশোরদের মধ্যেও ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে ক্ষমতা আর অর্থের লোভ। এভাবেই জীবনে বড় হতে হয় এমন এক ভ্রান্ত ধারনায় আক্রন্ত হয়ে পড়েছে এসকল কিশোর। আর রাজনৈতিক নেতাদের নেতিবাচক ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশি। গ্যাংগুলোর সদস্যরা  সকলে সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও তারা সকলেই কোন না কোন রাজনৈতিক বড়ভাইয়ের ছত্রছায়া পেয়ে থাকে। এসকল বড় ভাইয়েরা নিজেদের দলভারী করার প্রতিযোগিতায় প্রশ্রয় দেন কিশোর অপরাধীদের, বিনিময়ে মিছিল মিটিংএ চা পানির খরচ দিয়ে এদের নিয়ে যাওয়া হয়। যখন এলাকার মধ্যে কোন অপরাধ এরা করে তখন আইন শৃঙ্খলার বাহিনীকে সহায়তা না করে প্রচলিত মিউচুয়াল, মীমাংসা নামক পদ্ধতির অপব্যবহার করেন বড়ভাইয়েরা। অনেক সাধারন মানুষ আক্রান্ত হয়েও পুলিশি সহায়তা নিতে ভয় পান এই ভেবে যে এদের পেছনে অনেক বড় রাজনৈতিক শক্তি আছে ফলে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই পুলিশ প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না। তবে সাধারণ জনগনের শঙ্কাও একেবারে মিথ্যা নয়, ঐতিহাসিক কারনে আমজনতা পুলিশকে বিশ্বাস করতে পারে না। আর বারবার অপরাধ করেও রেহাই পেয়ে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায় তারা। অর্থাৎ দেশের রাজনীতি এক খারাপ উদাহরণ রেখে যাচ্ছে এই কিশোর বা তরুণদের সামনে।
সমাজ এবং পরিবারের ব্যর্থতাও আছে এই অপরাধী তৈরি হওয়ার পেছনে। এসকল কিশোর গ্যাংয়ের অধিকাংশ ছেলেপেলে নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসে। আর্থসামাজিক কারনেই সন্তানের খোঁজ খবর রাখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। তবে মধ্যবিত্ত, উত্তবিত্তদের সন্তানেরাও এদের সাথে যুক্ত হয়। যতই খেয়াল রাখা হোক না কেন, একটা সময় সন্তানকে একা ছাড়তেই হয়। কিন্তু পচে যাওয়া সমাজের কবলে পড়ে সাধারণ কিশোররা হয়ে ওঠে গ্যাং এর সদস্য।
অনেক ছেলেপেলেই অস্তিত্ব সংকটে ভুগে এই সকল দলে যোগ দেয়। তারা এভাবে নিজেদের নিরাপত্তা বিধান করতে চায় এবং একসময় হয়ে ওঠে সন্ত্রাসী। লাঞ্চিত হবার পরেও অনেকে গ্যাং সদস্য হয়।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সমাজ বিজ্ঞানী, মনস্তত্ত্ববিদ প্রমুখেরায় উক্ত কারণগুলোর ওপরেই জোর দিয়েছেন। তবে কারন বের করা সহজ হলেও সমধান অতি জটিল। তবে এই বিষয়টাকে যদি এখানেই থামানো না যায় তবে খুবই ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে পড়বে সাধারণ মানুষ তথা দেশ।
উপরে যেগুলো লেখা হয়েছে সেগুলো সবই আমরা জানি, কারন সহসা আমরা এসকল বিষয় প্রত্যক্ষ করি। নিজেই বেশ কয়েকবার কিশোর অপরাধীদের দ্বারা লাঞ্চিত হয়েছি। এসব ভয়ানক অভিজ্ঞতা আমার মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, আবারো লাঞ্চিত হওয়ার ভয় আমাকে প্রতিনিয়ত তারা করে বেড়ায়। বিষণ্ণতা আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে আমায়, বেঁচে থাকাই যেন দায় আজ। স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে বদলে গেছে। তাই আমাদের সকলের একতবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার যাতে আমাদের ভবিষ্যতেরা সুরক্ষিত থাকে।

গাম্বিয়াই মিয়ানমারকে আদালতে নিয়েছে

কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা করে পার পেয়ে গেছে মিয়ানমার। কখনোই আইনের তোয়াক্কা করেনি। এবারই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গেছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গাম্বিয়া। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারকে দোষী প্রমাণিত করার চেষ্টায় গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) কর্মরত সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) কর্মরত ওই দুই দেশের কূটনীতিকেরা এই প্রতিবেদককে জানান, নিজের দেশে ২২ বছরের স্বৈরশাসন, রুয়ান্ডার গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের আদালতে কাজের অভিজ্ঞতা আর সবার শেষে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন।

নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা অতীতে দুই দফায় জাতিসংঘে তাঁর দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। খুব স্বাভাবিকভাবে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিও রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় তাঁর দেশের ভূমিকা রাখার বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই এ সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আর আলোচনায় থেকেছে গাম্বিয়া। তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে নেওয়ার বিষয়টিও যে গাম্বিয়া ভাবছে তা বাংলাদেশকে জানিয়েছে দেশটি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গাম্বিয়ার ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম মসিহ প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই গাম্বিয়া নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার একপর্যায়ে গাম্বিয়া স্পষ্ট করেই বাংলাদেশকে বলেছিল, দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না।

গত বছরের মে মাসে ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু তাঁর দেশের নেতৃত্ব দেন। ঢাকায় বৈঠকে বসার আগে তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন রুয়ান্ডার গণহত্যার সঙ্গে তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কাজেই মিয়ানমারকে আদালতে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে তাদের এক বিশ্লেষণে বলেছে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াহিয়া জামেহর ২২ বছরের স্বৈরশাসনের সময়ের নেতিবাচক ছবি আর রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে মারি তামবাদু মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ওআইসির ভূমিকা
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করে ওআইসি। এ জন্য ইসলামি দেশগুলোর বৃহত্তম জোটটি আসিয়ানভুক্ত মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসব দেশ সেভাবে এগিয়ে আসেনি। অথচ রোহিঙ্গা ঢলের পরপরই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠে রয়েছে গাম্বিয়া। তাই ওআইসি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি পদক্ষেপ নিতে গাম্বিয়াকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ মে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে গৃহীত ঢাকা ঘোষণার ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ওআইসির পক্ষে গাম্বিয়াকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ওআইসিতে কর্মরত বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছরের শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে গাম্বিয়া বিষয়টি ওআইসির বিভিন্ন ফোরামে তোলে। এরপর ওআইসি গাম্বিয়াকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার দায়িত্ব দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি গাম্বিয়ার বানজুলে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গঠিত ওআইসির মন্ত্রিসভা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এ নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ, গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, সুদান, তুরস্ক ও জিবুতি নিয়ে গড়া ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই কমিটির বৈঠকে একটি খসড়া প্রস্তাব আনে আফ্রিকার দেশটি। ওই প্রস্তাব মার্চে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

ওআইসির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাসহ আইনি পদক্ষেপ নিতে এ পর্যন্ত গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, কাতারের পাশাপাশি বাংলাদেশও গাম্বিয়াকে ওই তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতায় রাজি হয়েছে।

রক্তপিপাসু শাসক চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত

চেঙ্গিস খান ছিলেন দুনিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে নৃশংস শাসক। ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী করা হয় এই মোঙ্গল শাসককে। তিনি তার সাম্রাজ্য মঙ্গোলিয়া থেকে এতটাই বিস্তার ঘটান যে তা প্রায় এশিয়া মহাদেশের সমান বড় হয়ে যায়। রক্তপিপাসু শাসক হিসেবে চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত হবেন। চেঙ্গিস খানের প্রতিশোধপরায়ণতার উদাহরণ দিতে গেলে বলতে হবে খাওয়ারিজমের শাসক মোহাম্মদ শাহের ওপর তার প্রতিশোধের কথা। চেঙ্গিস খানের একটি বাণিজ্য বহর খাওয়ারিজমের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ শাহের সৈন্যরা বাণিজ্য বহরের লোকজনকে হত্যা করে। এ ঘটনার বদলা নিতে চেঙ্গিস খান ১০ হাজার সৈন্য  নিয়ে খাওয়ারিজম আক্রমণ করেন। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েও তিনি ক্ষান্ত হননি। মোহাম্মদ শাহকে আটক করে তার কান, নাক ও চোখের মধ্যে রুপা গলিয়ে সিল করে দেন। তাতেও তার রাগ পড়েনি। যে গ্রামে খাওয়ারিজমের শাসকের জন্ম সেই গ্রামের ওপর দিয়ে একটি নদীর পথ পরিবর্তন করে গ্রামটিকে চিরদিনের মতো মানচিত্র থেকে মুছে দেন। চেঙ্গিস খান তার শাসনামলে ৪ কোটির বেশি মানুষ হত্যা করেন। কখনো কোনো এলাকার কেউ যদি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তিনি সেই জনপদের সব মানুষকে হত্যা করতেন। চেঙ্গিস খান যখন রাশিয়া জয় করেন তখন সেই জয় অর্জিত হয় অনেক কষ্টের মাধ্যমে। তার পরে ও বিপরে অনেক সৈন্য মারা যায়। কষ্ট করে অর্জিত জয় উদ্যাপন করতে চেঙ্গিস খান অভিনব উপায় বেছে নেন। তিনি বেঁচে থাকা রাশিয়ান সৈন্যদের মাটিতে শুইয়ে দেন। তাদের ওপর বিজয় মঞ্চ তৈরি করেন। চেঙ্গিসের সৈন্যরা সেই মঞ্চের ওপর উল্লাসে নাচানাচি করে। যার চাপে রাশিয়ান সৈন্যরা পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ইরানের ওপর চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। চেঙ্গিস খান ইরান দখল করে পৈশাচিক হত্যাকা- চালান। এ গণহত্যায় ইরানের জনসংখ্যা এত কমে যায় যে তা পূরণ হতে কয়েক শ বছর লাগে। চেঙ্গিস খান বাগদাদ আক্রমণ করে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালান, তার কোনো তুলনা নেই। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, চেঙ্গিসের ধ্বংসযজ্ঞে টাইগ্রিস নদের জল কলমের কালি ও বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। মোঙ্গলদের নিয়ম ছিল তারা কোনো অভিজাত বা রাজবংশীয় কারও রক্ত মাটিতে পড়তে দিত না। কিন্তু চেঙ্গিস খান যখন মনে করতেন কোনো অভিজাতকে হত্যা করা লাগবে তখন কোনো না কোনো একটা উপায় বের করতেন। তাদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর উপায় বের করতেন। চেঙ্গিস খান পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে মতাবান ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তার ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা ইচ্ছা করলে যে কোনো দেশ দখল করতে পারত। নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য চেঙ্গিস ও তার বাহিনী ইতিহাসে ঘৃণিত হয়ে থাকবে। চেঙ্গিস খান প্রথমে তার শত্রুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন। কেউ তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর ধ্বংস আর হত্যালীলা চালাত মোঙ্গল বাহিনী। চেঙ্গিস খান মনে করতেন এমনটা করলে শত্রুপ তাকে ভয় পাবে। ফলে তারা যুদ্ধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করবে। অনেক সময় তার এ কৌশল ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে যদি কেউ তাকে কোনোভাবে অপমান করত, সে ন্ডেন্ডেত্র অপমানকারীর দফারফা করেই তিনি ছাড়তেন। চেঙ্গিস খান তার কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণকারীদের মিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। আর কেউ আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হাতে অস্ত্র তুলে নিলে মোঙ্গল বীর চেঙ্গিস খান হয়ে উঠতেন হিংস্র হায়েনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। যেখানেই খানের চেঙ্গিস বাহিনী অগ্রসর হয়েছে, সেখানেই চলেছে নির্বিবাদে হত্যা-লুণ্ঠন। ইরানের ইতিহাসবিদ রশিদ-আল-দীনের মতে, চেঙ্গিসের নেতৃত্বাধীন মোঙ্গল বাহিনী মার্ভে আনুমানিক ৭০ হাজার আর নিশাপুরে আনুমানিক ১০ লাখ লোককে হত্যা করেছিল। চীনের জনসংখ্যাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে মোঙ্গল অভিযানে। মোঙ্গলদের হামলায় লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। চেঙ্গিসের চীন আক্রমণের সময় সে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১০ কোটির মতো। ১২৭৯ সালের দিকে মোঙ্গলদের চীন অভিযান শেষ হয়। ১৩০০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তখন চীনের জনসংখ্যা ছিল বড়জোর ৬ কোটি! এ ৪ কোটির এক বড় অংশের প্রাণ গিয়েছিল চেঙ্গিস বাহিনীর হাতে। তবে সেই সংখ্যাটি ঠিক কত, তা ইতিহাসবিদদের কাছে স্পষ্ট নয়।

সমরখন্দে যখন মোঙ্গল বাহিনী পৌঁছায়, তখন সেখানে তারা লাধিক সৈন্যের কাছ থেকে বেশ বড় রকমের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। মনোবল না হারিয়ে মোঙ্গলরা অবরোধ আর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে নগরের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অধিবাসীরা পড়ে ভীষণ সংকটে। পতন ঘটে সমরখন্দের। এরপর শুরু হয় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। সে হত্যাযজ্ঞ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে মোঙ্গল সেনারা গর্ভবতী নারীদের পেট কেটে গর্ভের সন্তান বের করে উল্লাস করেছে! বিভিন্ন তথ্যমতে, সে সময় গণহত্যার শিকার কিংবা পালিয়ে যাওয়া নগরবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ।

আগের চেয়েও শক্তিশালী তালেবান

২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা। ১৮ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। তারপরও তালেবান এখন ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিদ্রোহী দলটি দেশের অর্ধেকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবারই তারা সবচেয়ে বেশি এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে আলোচনা বাতিল করে দিলেও তারা আরো বেশি ক্ষমতা নিয়ে চুক্তি করার মতো অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য আরো খারাপ বিষয়টি হলো, ক্রমবর্ধমান হারে আফগানরা এখন আমেরিকা সমর্থিত কাবুল সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। কাবুল সরকার বা এর মিত্ররা কেবল তালেবান নয়, আরেক চরমপন্থী গ্রুপ আইএসকেও দমন করতে পারেনি।

যুদ্ধের উচ্চ মূল্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কোনো সাফল্য না থাকার ফলে দাবি ওঠছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের। ট্রাম্প নিজেও চাচ্ছেন, আমেরিকান সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও রোববার বলেছেন, আমরা আফগানিস্তানে এখন বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি।

বিপুল ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। তবে অনেকে বলছেন, একটি চুক্তি হওয়া উচিত মার্কিন প্রত্যাহারের আগে।

তালেবানকে উৎখাতের পর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন, ও তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাই ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই ব্যয় ও বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান আইনপ্রণেতা ব্রেসনা রাবি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তালেবান অনেক বেশি শাক্তিশালী। তারা এখন দেশের যেকোনো স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার গেছে দুর্নীতিতে। মার্কিন অর্থ গরিব মানুষের কাছে যায়নি, গরিব মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

আফগানিস্তানে মোতায়েন ২২,৬৭৩ জন বিদেশী সৈন্যের মধ্যে মার্কিন সৈন্য মাত্র ১৪ হাজার। ২০১১ সালে ছিল সর্বোচ্চ এক লাখ। যুদ্ধে ২,৪০০ মার্কিন ও ১,১৪৪ ন্যাটো সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ২০,৫০০ আমেরিকান সৈন্য আহত হয়েছে। আর আফগানদের ভোগান্তি হয়েছে আরো বেশি। ২০০৯ সাল থেকে তালেবান হামলা, আফগান ও বিদেশী বিমান হামলায় ২১ হাজার আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত, ৬০ হাজার আহত হয়েছে। আর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার আফগান নিহত হয়েছে। আর ডাভোসে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি। তার সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আফগান বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে।

তালেবানের নৃশংস শাসনের পর অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন মিডিয়া খাতে উন্নতি এসেছে। ১,৮০০টি প্রিন্ট, ব্রডকাস্ট ও ডিজিটাল নিউজ আউটলেট কাজ করছে দেশটিতে। আর্ট ও মিউজিক বিকশিত হচ্ছে। ৩৫ লাখ আফগান মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, অনেক নারী রাজনীতিতে আসছে। ২৫০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে নারীরা এক তৃতীয়াংশ। তালেবান আমলে এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।

একজন জানান, আগের চেয়ে আফগান জনগণ ভালো আছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে না। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার করা মাত্র সব শেষ হয়ে যাবে।

তালেবানের সাথে চুক্তি হলে নিরাপত্তাগত অবস্থার উন্নতি হবে বলে অনেকেই মনে করেন না। তাছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.