গাম্বিয়াই মিয়ানমারকে আদালতে নিয়েছে

কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা করে পার পেয়ে গেছে মিয়ানমার। কখনোই আইনের তোয়াক্কা করেনি। এবারই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গেছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গাম্বিয়া। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারকে দোষী প্রমাণিত করার চেষ্টায় গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) কর্মরত সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) কর্মরত ওই দুই দেশের কূটনীতিকেরা এই প্রতিবেদককে জানান, নিজের দেশে ২২ বছরের স্বৈরশাসন, রুয়ান্ডার গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের আদালতে কাজের অভিজ্ঞতা আর সবার শেষে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন।

নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা অতীতে দুই দফায় জাতিসংঘে তাঁর দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। খুব স্বাভাবিকভাবে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিও রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় তাঁর দেশের ভূমিকা রাখার বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই এ সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আর আলোচনায় থেকেছে গাম্বিয়া। তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে নেওয়ার বিষয়টিও যে গাম্বিয়া ভাবছে তা বাংলাদেশকে জানিয়েছে দেশটি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গাম্বিয়ার ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম মসিহ প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই গাম্বিয়া নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার একপর্যায়ে গাম্বিয়া স্পষ্ট করেই বাংলাদেশকে বলেছিল, দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না।

গত বছরের মে মাসে ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু তাঁর দেশের নেতৃত্ব দেন। ঢাকায় বৈঠকে বসার আগে তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন রুয়ান্ডার গণহত্যার সঙ্গে তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কাজেই মিয়ানমারকে আদালতে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে তাদের এক বিশ্লেষণে বলেছে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াহিয়া জামেহর ২২ বছরের স্বৈরশাসনের সময়ের নেতিবাচক ছবি আর রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে মারি তামবাদু মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ওআইসির ভূমিকা
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করে ওআইসি। এ জন্য ইসলামি দেশগুলোর বৃহত্তম জোটটি আসিয়ানভুক্ত মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসব দেশ সেভাবে এগিয়ে আসেনি। অথচ রোহিঙ্গা ঢলের পরপরই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠে রয়েছে গাম্বিয়া। তাই ওআইসি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি পদক্ষেপ নিতে গাম্বিয়াকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ মে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে গৃহীত ঢাকা ঘোষণার ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ওআইসির পক্ষে গাম্বিয়াকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ওআইসিতে কর্মরত বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছরের শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে গাম্বিয়া বিষয়টি ওআইসির বিভিন্ন ফোরামে তোলে। এরপর ওআইসি গাম্বিয়াকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার দায়িত্ব দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি গাম্বিয়ার বানজুলে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গঠিত ওআইসির মন্ত্রিসভা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এ নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ, গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, সুদান, তুরস্ক ও জিবুতি নিয়ে গড়া ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই কমিটির বৈঠকে একটি খসড়া প্রস্তাব আনে আফ্রিকার দেশটি। ওই প্রস্তাব মার্চে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

ওআইসির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাসহ আইনি পদক্ষেপ নিতে এ পর্যন্ত গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, কাতারের পাশাপাশি বাংলাদেশও গাম্বিয়াকে ওই তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতায় রাজি হয়েছে।

রক্তপিপাসু শাসক চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত

চেঙ্গিস খান ছিলেন দুনিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে নৃশংস শাসক। ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী করা হয় এই মোঙ্গল শাসককে। তিনি তার সাম্রাজ্য মঙ্গোলিয়া থেকে এতটাই বিস্তার ঘটান যে তা প্রায় এশিয়া মহাদেশের সমান বড় হয়ে যায়। রক্তপিপাসু শাসক হিসেবে চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত হবেন। চেঙ্গিস খানের প্রতিশোধপরায়ণতার উদাহরণ দিতে গেলে বলতে হবে খাওয়ারিজমের শাসক মোহাম্মদ শাহের ওপর তার প্রতিশোধের কথা। চেঙ্গিস খানের একটি বাণিজ্য বহর খাওয়ারিজমের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ শাহের সৈন্যরা বাণিজ্য বহরের লোকজনকে হত্যা করে। এ ঘটনার বদলা নিতে চেঙ্গিস খান ১০ হাজার সৈন্য  নিয়ে খাওয়ারিজম আক্রমণ করেন। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েও তিনি ক্ষান্ত হননি। মোহাম্মদ শাহকে আটক করে তার কান, নাক ও চোখের মধ্যে রুপা গলিয়ে সিল করে দেন। তাতেও তার রাগ পড়েনি। যে গ্রামে খাওয়ারিজমের শাসকের জন্ম সেই গ্রামের ওপর দিয়ে একটি নদীর পথ পরিবর্তন করে গ্রামটিকে চিরদিনের মতো মানচিত্র থেকে মুছে দেন। চেঙ্গিস খান তার শাসনামলে ৪ কোটির বেশি মানুষ হত্যা করেন। কখনো কোনো এলাকার কেউ যদি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তিনি সেই জনপদের সব মানুষকে হত্যা করতেন। চেঙ্গিস খান যখন রাশিয়া জয় করেন তখন সেই জয় অর্জিত হয় অনেক কষ্টের মাধ্যমে। তার পরে ও বিপরে অনেক সৈন্য মারা যায়। কষ্ট করে অর্জিত জয় উদ্যাপন করতে চেঙ্গিস খান অভিনব উপায় বেছে নেন। তিনি বেঁচে থাকা রাশিয়ান সৈন্যদের মাটিতে শুইয়ে দেন। তাদের ওপর বিজয় মঞ্চ তৈরি করেন। চেঙ্গিসের সৈন্যরা সেই মঞ্চের ওপর উল্লাসে নাচানাচি করে। যার চাপে রাশিয়ান সৈন্যরা পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ইরানের ওপর চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। চেঙ্গিস খান ইরান দখল করে পৈশাচিক হত্যাকা- চালান। এ গণহত্যায় ইরানের জনসংখ্যা এত কমে যায় যে তা পূরণ হতে কয়েক শ বছর লাগে। চেঙ্গিস খান বাগদাদ আক্রমণ করে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালান, তার কোনো তুলনা নেই। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, চেঙ্গিসের ধ্বংসযজ্ঞে টাইগ্রিস নদের জল কলমের কালি ও বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। মোঙ্গলদের নিয়ম ছিল তারা কোনো অভিজাত বা রাজবংশীয় কারও রক্ত মাটিতে পড়তে দিত না। কিন্তু চেঙ্গিস খান যখন মনে করতেন কোনো অভিজাতকে হত্যা করা লাগবে তখন কোনো না কোনো একটা উপায় বের করতেন। তাদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর উপায় বের করতেন। চেঙ্গিস খান পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে মতাবান ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তার ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা ইচ্ছা করলে যে কোনো দেশ দখল করতে পারত। নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য চেঙ্গিস ও তার বাহিনী ইতিহাসে ঘৃণিত হয়ে থাকবে। চেঙ্গিস খান প্রথমে তার শত্রুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন। কেউ তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর ধ্বংস আর হত্যালীলা চালাত মোঙ্গল বাহিনী। চেঙ্গিস খান মনে করতেন এমনটা করলে শত্রুপ তাকে ভয় পাবে। ফলে তারা যুদ্ধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করবে। অনেক সময় তার এ কৌশল ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে যদি কেউ তাকে কোনোভাবে অপমান করত, সে ন্ডেন্ডেত্র অপমানকারীর দফারফা করেই তিনি ছাড়তেন। চেঙ্গিস খান তার কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণকারীদের মিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। আর কেউ আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হাতে অস্ত্র তুলে নিলে মোঙ্গল বীর চেঙ্গিস খান হয়ে উঠতেন হিংস্র হায়েনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। যেখানেই খানের চেঙ্গিস বাহিনী অগ্রসর হয়েছে, সেখানেই চলেছে নির্বিবাদে হত্যা-লুণ্ঠন। ইরানের ইতিহাসবিদ রশিদ-আল-দীনের মতে, চেঙ্গিসের নেতৃত্বাধীন মোঙ্গল বাহিনী মার্ভে আনুমানিক ৭০ হাজার আর নিশাপুরে আনুমানিক ১০ লাখ লোককে হত্যা করেছিল। চীনের জনসংখ্যাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে মোঙ্গল অভিযানে। মোঙ্গলদের হামলায় লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। চেঙ্গিসের চীন আক্রমণের সময় সে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১০ কোটির মতো। ১২৭৯ সালের দিকে মোঙ্গলদের চীন অভিযান শেষ হয়। ১৩০০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তখন চীনের জনসংখ্যা ছিল বড়জোর ৬ কোটি! এ ৪ কোটির এক বড় অংশের প্রাণ গিয়েছিল চেঙ্গিস বাহিনীর হাতে। তবে সেই সংখ্যাটি ঠিক কত, তা ইতিহাসবিদদের কাছে স্পষ্ট নয়।

সমরখন্দে যখন মোঙ্গল বাহিনী পৌঁছায়, তখন সেখানে তারা লাধিক সৈন্যের কাছ থেকে বেশ বড় রকমের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। মনোবল না হারিয়ে মোঙ্গলরা অবরোধ আর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে নগরের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অধিবাসীরা পড়ে ভীষণ সংকটে। পতন ঘটে সমরখন্দের। এরপর শুরু হয় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। সে হত্যাযজ্ঞ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে মোঙ্গল সেনারা গর্ভবতী নারীদের পেট কেটে গর্ভের সন্তান বের করে উল্লাস করেছে! বিভিন্ন তথ্যমতে, সে সময় গণহত্যার শিকার কিংবা পালিয়ে যাওয়া নগরবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ।

আগের চেয়েও শক্তিশালী তালেবান

২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা। ১৮ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। তারপরও তালেবান এখন ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিদ্রোহী দলটি দেশের অর্ধেকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবারই তারা সবচেয়ে বেশি এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে আলোচনা বাতিল করে দিলেও তারা আরো বেশি ক্ষমতা নিয়ে চুক্তি করার মতো অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য আরো খারাপ বিষয়টি হলো, ক্রমবর্ধমান হারে আফগানরা এখন আমেরিকা সমর্থিত কাবুল সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। কাবুল সরকার বা এর মিত্ররা কেবল তালেবান নয়, আরেক চরমপন্থী গ্রুপ আইএসকেও দমন করতে পারেনি।

যুদ্ধের উচ্চ মূল্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কোনো সাফল্য না থাকার ফলে দাবি ওঠছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের। ট্রাম্প নিজেও চাচ্ছেন, আমেরিকান সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও রোববার বলেছেন, আমরা আফগানিস্তানে এখন বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি।

বিপুল ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। তবে অনেকে বলছেন, একটি চুক্তি হওয়া উচিত মার্কিন প্রত্যাহারের আগে।

তালেবানকে উৎখাতের পর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন, ও তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাই ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই ব্যয় ও বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান আইনপ্রণেতা ব্রেসনা রাবি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তালেবান অনেক বেশি শাক্তিশালী। তারা এখন দেশের যেকোনো স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার গেছে দুর্নীতিতে। মার্কিন অর্থ গরিব মানুষের কাছে যায়নি, গরিব মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

আফগানিস্তানে মোতায়েন ২২,৬৭৩ জন বিদেশী সৈন্যের মধ্যে মার্কিন সৈন্য মাত্র ১৪ হাজার। ২০১১ সালে ছিল সর্বোচ্চ এক লাখ। যুদ্ধে ২,৪০০ মার্কিন ও ১,১৪৪ ন্যাটো সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ২০,৫০০ আমেরিকান সৈন্য আহত হয়েছে। আর আফগানদের ভোগান্তি হয়েছে আরো বেশি। ২০০৯ সাল থেকে তালেবান হামলা, আফগান ও বিদেশী বিমান হামলায় ২১ হাজার আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত, ৬০ হাজার আহত হয়েছে। আর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার আফগান নিহত হয়েছে। আর ডাভোসে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি। তার সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আফগান বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে।

তালেবানের নৃশংস শাসনের পর অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন মিডিয়া খাতে উন্নতি এসেছে। ১,৮০০টি প্রিন্ট, ব্রডকাস্ট ও ডিজিটাল নিউজ আউটলেট কাজ করছে দেশটিতে। আর্ট ও মিউজিক বিকশিত হচ্ছে। ৩৫ লাখ আফগান মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, অনেক নারী রাজনীতিতে আসছে। ২৫০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে নারীরা এক তৃতীয়াংশ। তালেবান আমলে এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।

একজন জানান, আগের চেয়ে আফগান জনগণ ভালো আছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে না। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার করা মাত্র সব শেষ হয়ে যাবে।

তালেবানের সাথে চুক্তি হলে নিরাপত্তাগত অবস্থার উন্নতি হবে বলে অনেকেই মনে করেন না। তাছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর।

রেলের গতি ধীর অতি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রেলগাড়ির যাতায়াত নিয়ে যা দৃশ্যমান; তাতে যাত্রীরা বেশ হতাশ ও উদ্বিগ্ন! রেললাইনের নড়বড়ে অবস্থা, দুর্ঘটনা, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাত্রীসেবার মান, পরিচালনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ফি বছর ক্ষতি- এসব ক্ষেত্রে শুধুই হতাশা! মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় খোদ মন্ত্রীর অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যও বেশ হাস্যকর!

নিরাপদ যাত্রায় রেলগাড়িতে ভ্রমণ এখন যেন স্বপ্ন! অথচ গণপরিবহনে এর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। মানুষের গতি বেড়ে গেলেও দেশে রেলগাড়ির গতি কমে গেছে! রেলমন্ত্রী ভারত ঘুরে এসেছেন! এ সফর ছিল তার ভারত রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা দেখার জন্য। তার মানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা যে সুষম নেই, তা তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক রেল দুর্ঘটনার পর মন্ত্রীর বেফাঁস বক্তব্য প্রায় সবার কাছেই হাসির উদ্রেক করেছে। টিকিট নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ছাড়াও ঈদুল আজহায় অপেক্ষমাণ ঘরমুখো যাত্রীদের হঠাৎ যাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত সারা দেশের মানুষকে বিস্মিত করেছে। ক্ষমতার ১১ বছর পর এসে রেললাইনের বেহাল ও অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি সরকার রেলের কোনো উন্নয়ন করেনি।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওপর দুটি ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ হয়েছে। সরকারের তৈরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জরিপ-২০১৯-এর একটি, অপরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিডিও ক্লিপ। দুটি চিত্রই উপাত্ত ও পরিসংখ্যানভিত্তিক। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিকভাবে খুলনা ও সিলেটে আন্তঃনগর ট্রেনে ভ্রমণ করেছি; অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। অথচ সেবা খাতের এ বিভাগটিকে ভালো করার বেশ সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে পরিচালিত দেশের রেল লাভজনক পর্যায়ে নেই দীর্ঘকাল থেকে। অথচ সরকারি হিসাবে প্রতিবছরই রেলগাড়িতে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা যায়, কিলোমিটার হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন প্রতিবছরই বাড়ছে। অর্থবছর অনুযায়ী রেলওয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮১৩৪.৭০, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮৭১১.৩৬, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯১৬৭.১৮, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০০৪০.৬৬ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২৯৯৩.৯১ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান ১০ হাজার ৫৫৯ দশমিক ০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসাব সাময়িক। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৩০ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা। আর ব্যয় খুবই আশঙ্কাজনক। আয়ের চেয়ে ব্যয় ২০ গুণেরও বেশি; অর্থাৎ ২ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। আমাদের রেলের গতি বেশ শ্লথ হয়ে পড়লেও ব্যয়ের গতি বেশ দ্রুততর।

২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল অবধি ৭ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা। রেলের চলমান ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২০১৮ সাল অবধি মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেল মন্ত্রণালয়ে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১২ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় এবং ৩ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা কার্যক্রম ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়।

জাতীয় বাজেটে প্রতিবছরই বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যয় বাড়ছে; কিন্তু ব্যয়ের তুলনায় আয় বৃদ্ধি পায় না যেমন; তেমনি বাড়ছে না যাত্রীসেবার মান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রেলের লাভ-ক্ষতি নিয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করা হয়েছে- যা ক’দিন আগে ভাইরাল হয়। সজীব নামের বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ২২-২৩ বছরের এক তরুণ কথা ও প্রদর্শিত উপাত্ত দিয়ে বাংলাদেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন।

তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছেন, কোনোভাবেই রেলের লোকসান হতে পারে না! সজীব সরল অঙ্ক বিশ্লেষণ করে বলেছেন- দেশে প্রতিদিন চলাচলকারী যাত্রীবাহী রেলগাড়ির সংখ্যা ২৩৫টি, যাত্রী সংখ্যা গড়ে ১৫০০ এবং যাত্রীপ্রতি গড়ে ভাড়ামূল্য ৩০০ টাকা; তাহলে বাংলাদেশ রেলওয়ের দৈনিক আয় হয় ১০ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার মতে, এ হিসাবে প্রতিদিন রেলওয়ের ১০ কোটি টাকা আয় হলে মাসে ৩০০ কোটি এবং বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আয় হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের দেয়া উপাত্ত অনুযায়ী রেল পরিবহন পরিচালনায় বছরে ব্যয় ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। সে হিসাবে রেলওয়ের বছরে লাভ ৪৫৮ কোটি টাকা। সজীব বলেছেন, ভারতে এক কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করতে ব্যয় হয় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশে খরচ হয় ২৫০ কোটি টাকা! ভিডিও ক্লিপে বিষয়টি উপস্থাপন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ‘নাস্তা পানি’ খাওয়ানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি করা হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান কেমন? ঢাকা থেকে সিলেট যাত্রায় ও ঢাকায় ফিরে আসার জন্য পারাবত এবং খুলনায় সুন্দরবন এক্সপ্রেসে আমাদের ভ্রমণ মোটেও সুখকর ও আনন্দদায়ক ছিল না। উভয় বিভাগীয় নগরে যেতে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রথম শ্রেণির তাপানুকূল কামরায় টিকিট যাত্রার দশ দিন আগে থেকেই নেই। এসব আন্তঃনগর এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখেছি, নির্ধারিত স্থান ছাড়া গাড়ি থামানো, আসন ছাড়া যাত্রী কখনও কখনও বিনা টিকিটের যাত্রীদের শূন্য আসনে বসে পড়া এবং হকারদের উৎপাত।

টিকিটের গায়ে যাত্রা ও গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর সময় রীতিমতো অকার্যকর। শৌচাগার অপরিষ্কার, সেখানে অপর্যাপ্ত পানি ও দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, কামরার পাখা, বাতি ও সুইচ বোর্ড বিকল চোখে পড়েছে। দ্বৈত লাইন না থাকায় অন্য গাড়িকে পারাপারের সুযোগদানে নির্ধারিত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে না পৌঁছার বিড়ম্বনা তো রয়েছেই! তাছাড়া গাড়ি পুনঃচলাচলে স্টেশন মাস্টারদের সময়ক্ষেপণ ও স্বেচ্ছাচারিতার নজির লক্ষণীয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লাভ না হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাই না আমিও। জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশেষভাবে সরকারের খতিয়ে দেখা অবশ্যই জরুরি। চারদলীয় বিএনপি জোট সরকারের সময় ২০০৩ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় একটি রিকভারি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। সংস্কার বিষয়ে ৫টি কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম প্রধান ২টি উপাদান ছিল রেলওয়ের ঘাটতি কমানো এবং শ্রমিক সুষমকরণ। সে কার্যক্রম এখন আর নেই। সেই রিকভারি কার্যক্রম পুনরায় গ্রহণ প্রয়োজন।

দেশের জরাজীর্ণ রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত প্রায় এক দশকে একের পর এক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় ২০১১ সালে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই মেয়াদে তিনজন মন্ত্রী হাল ধরেছেন এ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বেগতির রেলে গতি আর আসছে না।

বছর বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যয়ের হার বাড়ে; কিন্তু বৃদ্ধি পায় না সেবার মান ও মুনাফা। সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার। কেননা, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি যে নেই; তা তথ্য, উপাত্ত এবং পরিসংখ্যান কিন্তু বলে না! তাই আমরা চাই, সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্রুত গতি; চাই না আর রেলের ক্ষতি।

প্রণব মজুমদার : গল্পকার ও কবি, পাক্ষিক অর্থ কাগজের সম্পাদক

reporterpranab@gmail.com

আসামে রাখাইনের মতো গণহত্যার আশঙ্কা জমিয়তের

আসামের এনআরসি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, আসামে নাগরিকপঞ্জির নামে পূর্ব পুরুষ থেকে স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাসকারী ১৯ লাখ মানুষকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিজ দেশে পরবাসী করা এবং অভিবাসন ক্যাম্প তৈরি করে তাদের সেখানে আবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নিশ্চিত করছে, এটি আদতে বিজেপির মুসলিম গণহত্যার প্রস্তুতি।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, গোটা ঘটনাপ্রবাহ ষড়যন্ত্রমূলক ও চরম অমানবিকই শুধু নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপরও মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের কর্তব্য, বিজেপির মুসলিম ও বাংলাদেশ বিরোধী এমন আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করা।

আল্লামা কাসেমী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক নীতিমালা ভঙ্গ করে ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাক করার প্রস্তুতি এবং স্বেচ্ছায় না গেলে গুলি করার হুমকির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে অবশ্যই অবিলম্বে জোর প্রতিবাদ জানাতে হবে। রোহিঙ্গাদের মতো আরেকটি গণহত্যার করুণ পরিণতি আমরা দেখতে চাই না।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.