আবরার হত্যা নিয়ে যা বললেন তারকারা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। এর প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ড শোবিজ অঙ্গনের তারকাদেরও আবেগঘন করে তুলেছেন।

এমন ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন আবার কোনও কোনও তারকা অন্যের স্ট্যাটাস নিজের ওয়ালে শেয়ার করেছেন। এদের মধ্যে আছেন সংগীত শিল্পী আসিফ আকবর, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ আরও অনেক তারকা।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফেসবুকে মঙ্গলবার দুপুরে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ‘৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারাজীবন তার মুখে গর্বের সাথে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হবার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষা-ই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যেকোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।

এই প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরার এর কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দু’টোর পিঠ হাত-পা’র উপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এরকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কতরাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে! একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল? ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনী ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মা’এর কথা মনে পড়েনি! ঠিক কতবার.., কতক্ষণ ধরে.., কতটুকু আঘাত করলে ২০/২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়! আমি আর ভাবতে পারি না।

ফেসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কি ভয়ংকর! কি নৃশংস! কি কষ্ট! এই ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনী অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ।

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব, বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না তবুও, বিচার চাই।’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেন, বুয়েটের নিউজটা মাত্র দেখলাম। দেখে গলাটা শুকাইয়া গেলো। এই সমাজইতো আমরা সবাই মিলে বানাচ্ছি, নাকি? যেখানে আমার মতের বিরোধী হলে তাকে নির্মূল করা আমার পবিত্র দায়িত্ব। আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতারা সবাই মিলে তো এতো বছর এই কামই করছি, এই ভাবেই একটা প্রজন্ম বানাইছি! আর আমাদের এই নির্মূলবাদী মন বানানো হইছে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের ওয়ার্কশপে! তাই আমি তোমাদের অভিশাপ দেই! আমি অভিশাপ দেই কারণ তুমি এই ঘৃণা আর নির্মূল তত্ত্বকে মহৎ বানিয়ে প্রচার করেছো দেশের নামে, জাতীয়তার নামে, ধর্মের নামে, লিঙ্গের নামে, আমার নামে, তোমার নামে! আমি অভিশাপ দেই তাদের যারা আমাদের সমাজটাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করালো যেখানে অপ্রিয় কথা বলার জন্য সহপাঠীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়! আমি অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! কারণ আমার কিচ্ছু করার ক্ষমতা নাই, কেবল অভিশাপ দেয়া ছাড়া!

জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর জাহারা মিতুর স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন, যে পিতার কাঁধ, বইছে অগাধ, পুত্রের লাশ, যে মায়ের চোখ, সমুদ্র শোক, কন্যার শ্বাস। সে বাবার বুক, মৃত্যু অসুখ, বেদনার বিষে, সে মায়ের কোল, শূন্য আঁচল, ভরে যাবে কীসে! জানেনা কী খুনী, ঘৃণা কতখানি, রক্তের স্বাদে, কতখানি শ্বাস, বইছে বাতাস, অভিশাপ বাদে! কতটুকু আর, এ ব্যথার ভার, সইবে আকাশ, কতটুকু ঘৃণা, সইতে পারেনা, জানবে বাতাস! তারপরও যদি, রক্তের নদী, লাশে ভাসে, ভাসুক, মানুষের মন, মরেছে যখন, দিকে দিকে মৃত্যু আসুক!

উপস্থাপিকা মারিয়া নুর আবরার ফাহাদের বাবার একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, এখন বাংলাদেশ এটাই।

প্রখ্যাত গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, ‘আবরার ফাহাদ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র। সে ঢাকা মেডিকেলেও চান্স পেয়েছিল। ঘুমানোর আগে অন্ত্যত একটা প্রতিবাদ করে ঘুমান। আমাদের বাচ্চারাও বড় হচ্ছে…।’

নাট্যকার মাসুম রেজা লেখেন, ‘কান্দিগো মা, কান্দি পিতা, কাঁদিয়া জুড়াই প্রাণ/কবরে শুইয়েছো যারে সেতো আমাদেরও সন্তান’।

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লেখেন, ‘শুভ বিজয়ার এই দিনে মন ভালো নেই। বনানী ছাড়া কোথাও যাইনি, কোথাও না। শুধুই মনে হচ্ছে, এই ছেলেটি (আবরার) আমার সন্তান হতে পারতো। প্লিজ মতের মিল না হলে আমাকে মেরে ফেলেন না,আমাদের সন্তানের উপরেও এই কাজ করেন না। প্লিজ। মা বাবারা সহ্য করতে পারেন না। আমি লজ্জ্বিত, ভীত। সকল সন্তান নিরাপদ থাকুক।’

নির্মাতা রেদওয়ান রনি লেখেন, ‘এ কোন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি আমরা? ভিন্নমত হলেই পিটিয়ে মেরে ফেলবেন? অতি উৎসাহী জানোয়ারগুলো দেশের কত বড় ক্ষতি করছে জানে? দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, অবিলম্বে …।’

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ লেখেন, ‘আবরার … ছেলে টা মিম (আমার ভাই) এর বয়সি। যতোবার ওর নিউজ পড়ছি, আবরার এর জায়গায় আমার ভাইটার চেহারা দেখেছি। অসুস্থ লাগছে এখন।’

সঙ্গীতশিল্পী কোনাল লেখেন, ‘দুবাই ট্রানজিটে বসে চোখে পড়লো নিউজফিড জুড়ে আবরারকে নিয়ে হাহাকার। বিভিন্ন পোর্টালে চোখ বুলাতেই আমি স্তব্দ! দেশে ফেরার আকুতিটা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেল…! আমরা মানুষ হয়ে আর কত অমানুষ হবো?’

চিত্রনায়ক জায়েদ খান লেখেন, ‘যার সন্তান আছে শুধু তারাই কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারবেন। দুঃখিত বাবা। আফসোস মানবতা কোথায়…!’

শ্রীপুরে নিরীহদের বন মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:রাকিব হাসান আকন্দ

বনের জায়গার সাথে বসবাস বা জমি নেই এমনকি বন ধংস করছে না এমন ব্যাক্তিদের নামেও মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর বনের সম্পত্তি রয়েছে, এমন সম্পদ উদ্ধারে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মামলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামছুল আরেফীন।

ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষের নামে মামলা করে সরকারকে দেখানো হয় বন রক্ষার জন্য অনেক মামলা দেয়া হচ্ছে। অথচ মামলায় জর্জরিত বেশিরভাগ নিরীহ, নিপীড়িত, নিন্মশ্রেণীর, নিরপরাধ খেটে খাওয়া মানুষ।

ব্যাক্তি মালিকানা ও বনের জমি একই দাগে থাকায় সেখানে জোত মালিকগণ কিছু করতে গেলেই তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলা দিচ্ছে। আবার উৎকোচের বিনিময়ে মামলা থেকে এসব সাধারণ মানুষকে মুক্তি পেতে হচ্ছে। সরকারের কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির উদ্দেশেই এক শ্রেণীর বন কর্মকর্তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে শ্রীপুর বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। বন মামলায় সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের অভিযুক্ত করে হয়রানি করা হচ্ছে।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির উন্নয়ন নেই। পুলিশের সোর্সদের ৮০ ভাগ মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত। মাদক নির্মূলে এসব সোর্স নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুলিশ বিভাগকে কৌশলী ও অধিকতর তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন। একইসাথে তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপদানের অনুরোধ করেন।

উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২৩ মে বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তারিখ ও সেখানে তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বন বিভাগ তাকেও অভিযুক্ত করেন। অথচ গত আগস্ট মাসে এবং জীবনে একবার তিনি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এরকম মামলাটিকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবী করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল আলম প্রধান বলেন, ১৯৭২ সনে শ্রীপুর উপজেলার চাওবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। অতি সম্প্রতি বিদ্যালয় ভবন নির্মানের জন্য পুরনো ভবন ভেঙ্গে সেখানে নতুন একটি পাকা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের সুর্য নারায়ণপুর বিটের ফরেস্টার মো. আনিছুর রহমান বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও ঠিকাদারদের অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। অথচ শ্রীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিল্পপতিদের দ্বারা বনের জায়গা দখল হয়েছে, এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার সাধারণ নিরীহ রিপরাধ মানুষের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে শ্রীপুর বাজার, বরমী বাজারসহ উপজেলার জনবহুল বাজারগুলোতে ফুটপাত দখল করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগ করেন বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার। সাংবাদিক আলফাজ সরকার বলেন, শ্রীপুর বাজারে সরকারি শেডগুলোতে যাদের ব্যবসা করার কথা তাদেরকে এখন সড়কের ওপর বসে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। ফলে বাজারের সড়কগুলো সংকুচিত এবং ফুটপাত দখল হচ্ছে। এখানে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ নেই।

গোসিঙ্গা ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত মামলাটি আইনী প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, সবাইকে সচেতন থাকার কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। মাদক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্যও তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামছুল আরেফীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওনা চৌরাস্তা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক, জেলা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের, সাংবাদিক প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ, সফিকুল ইসলাম মাস্টার, আলফাজ উদ্দিন সরকার, উপস্থিত ছিলেন মো. মোক্তার হোসেন, শাহাদাত হোসেন সাদেক প্রমূখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বন বিভাগের দায়ের করা বন মামলাটি প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে করা হয়নি। জেলার সকল জমির সাংবিধানিক ও বৈধ মালিক জেলা প্রশাসক মহোদয়। এমন একটি মামলার আগে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার ছিল। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রথমে সতর্কতা ও পরে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

ধর্মান্তরিত না করার মুচলেকা দিতে হবে

ভারত সরকার নির্দেশ দিয়েছে, যেসব এনজিও বিদেশ থেকে তহবিল পেয়ে থাকে তাদের কর্মীদের মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে যে, তারা ধর্মান্তরিত করার ঘটনায় যুক্ত নন অথবা তাদের বিরুদ্ধে ঐ ধরনের কোনো মামলা হয়নি। ভারতে বিদেশি সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওগুলোর কার্যকলাপে সরকার নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করছে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ তাতে সবশেষ সংযোজন।

ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, কার্যক্রমের আড়ালে বহু এনজিও জোর করে বা লোভ দেখিয়ে লোকজনকে ধর্মান্তরিত করছে বলেই এই মুচলেকা জরুরি। কিন্তু ভারতের বহু এনজিওই এই সিদ্ধান্তে প্রবলভাবে হতাশ।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশে বলা হচ্ছে, এই এনজিওগুলোর কর্মীরা যে কখনো ধর্মান্তরে জড়িত ছিলেন না বা ধর্মান্তরের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না সেটাও তাদের হলফনামা দিয়ে বলতে হবে। নইলে সেই এনজিওকে ভারতে কাজ করতে দেওয়া হবে না। শুধু ধর্মান্তর নিয়ে মুচলেকাই নয়, ভারতে এনজিও কর্মীদের এখন থেকে এটাও বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে যে, তারা বিদেশ থেকে পাওয়া তহবিল কোনোভাবে তছরূপ করেননি এবং দেশদ্রোহমূলক কোনো বার্তাও প্রচার করছেন না।

পশ্চিমবঙ্গের ‘পরিচিতি’ নামে এনজিওর কর্ণধার অঞ্চিতা ঘটক বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের দাবি আসলে সেটা তাদের জন্য খুবই অবমাননাকর।

 

 

রক্তপিপাসু শাসক চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত

চেঙ্গিস খান ছিলেন দুনিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে নৃশংস শাসক। ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী করা হয় এই মোঙ্গল শাসককে। তিনি তার সাম্রাজ্য মঙ্গোলিয়া থেকে এতটাই বিস্তার ঘটান যে তা প্রায় এশিয়া মহাদেশের সমান বড় হয়ে যায়। রক্তপিপাসু শাসক হিসেবে চেঙ্গিস ইতিহাসে চিরকাল নিন্দিত হবেন। চেঙ্গিস খানের প্রতিশোধপরায়ণতার উদাহরণ দিতে গেলে বলতে হবে খাওয়ারিজমের শাসক মোহাম্মদ শাহের ওপর তার প্রতিশোধের কথা। চেঙ্গিস খানের একটি বাণিজ্য বহর খাওয়ারিজমের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ শাহের সৈন্যরা বাণিজ্য বহরের লোকজনকে হত্যা করে। এ ঘটনার বদলা নিতে চেঙ্গিস খান ১০ হাজার সৈন্য  নিয়ে খাওয়ারিজম আক্রমণ করেন। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েও তিনি ক্ষান্ত হননি। মোহাম্মদ শাহকে আটক করে তার কান, নাক ও চোখের মধ্যে রুপা গলিয়ে সিল করে দেন। তাতেও তার রাগ পড়েনি। যে গ্রামে খাওয়ারিজমের শাসকের জন্ম সেই গ্রামের ওপর দিয়ে একটি নদীর পথ পরিবর্তন করে গ্রামটিকে চিরদিনের মতো মানচিত্র থেকে মুছে দেন। চেঙ্গিস খান তার শাসনামলে ৪ কোটির বেশি মানুষ হত্যা করেন। কখনো কোনো এলাকার কেউ যদি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তিনি সেই জনপদের সব মানুষকে হত্যা করতেন। চেঙ্গিস খান যখন রাশিয়া জয় করেন তখন সেই জয় অর্জিত হয় অনেক কষ্টের মাধ্যমে। তার পরে ও বিপরে অনেক সৈন্য মারা যায়। কষ্ট করে অর্জিত জয় উদ্যাপন করতে চেঙ্গিস খান অভিনব উপায় বেছে নেন। তিনি বেঁচে থাকা রাশিয়ান সৈন্যদের মাটিতে শুইয়ে দেন। তাদের ওপর বিজয় মঞ্চ তৈরি করেন। চেঙ্গিসের সৈন্যরা সেই মঞ্চের ওপর উল্লাসে নাচানাচি করে। যার চাপে রাশিয়ান সৈন্যরা পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ইরানের ওপর চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। চেঙ্গিস খান ইরান দখল করে পৈশাচিক হত্যাকা- চালান। এ গণহত্যায় ইরানের জনসংখ্যা এত কমে যায় যে তা পূরণ হতে কয়েক শ বছর লাগে। চেঙ্গিস খান বাগদাদ আক্রমণ করে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালান, তার কোনো তুলনা নেই। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, চেঙ্গিসের ধ্বংসযজ্ঞে টাইগ্রিস নদের জল কলমের কালি ও বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। মোঙ্গলদের নিয়ম ছিল তারা কোনো অভিজাত বা রাজবংশীয় কারও রক্ত মাটিতে পড়তে দিত না। কিন্তু চেঙ্গিস খান যখন মনে করতেন কোনো অভিজাতকে হত্যা করা লাগবে তখন কোনো না কোনো একটা উপায় বের করতেন। তাদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর উপায় বের করতেন। চেঙ্গিস খান পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে মতাবান ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তার ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা ইচ্ছা করলে যে কোনো দেশ দখল করতে পারত। নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য চেঙ্গিস ও তার বাহিনী ইতিহাসে ঘৃণিত হয়ে থাকবে। চেঙ্গিস খান প্রথমে তার শত্রুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন। কেউ তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর ধ্বংস আর হত্যালীলা চালাত মোঙ্গল বাহিনী। চেঙ্গিস খান মনে করতেন এমনটা করলে শত্রুপ তাকে ভয় পাবে। ফলে তারা যুদ্ধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করবে। অনেক সময় তার এ কৌশল ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে যদি কেউ তাকে কোনোভাবে অপমান করত, সে ন্ডেন্ডেত্র অপমানকারীর দফারফা করেই তিনি ছাড়তেন। চেঙ্গিস খান তার কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণকারীদের মিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। আর কেউ আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হাতে অস্ত্র তুলে নিলে মোঙ্গল বীর চেঙ্গিস খান হয়ে উঠতেন হিংস্র হায়েনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। যেখানেই খানের চেঙ্গিস বাহিনী অগ্রসর হয়েছে, সেখানেই চলেছে নির্বিবাদে হত্যা-লুণ্ঠন। ইরানের ইতিহাসবিদ রশিদ-আল-দীনের মতে, চেঙ্গিসের নেতৃত্বাধীন মোঙ্গল বাহিনী মার্ভে আনুমানিক ৭০ হাজার আর নিশাপুরে আনুমানিক ১০ লাখ লোককে হত্যা করেছিল। চীনের জনসংখ্যাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে মোঙ্গল অভিযানে। মোঙ্গলদের হামলায় লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। চেঙ্গিসের চীন আক্রমণের সময় সে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১০ কোটির মতো। ১২৭৯ সালের দিকে মোঙ্গলদের চীন অভিযান শেষ হয়। ১৩০০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তখন চীনের জনসংখ্যা ছিল বড়জোর ৬ কোটি! এ ৪ কোটির এক বড় অংশের প্রাণ গিয়েছিল চেঙ্গিস বাহিনীর হাতে। তবে সেই সংখ্যাটি ঠিক কত, তা ইতিহাসবিদদের কাছে স্পষ্ট নয়।

সমরখন্দে যখন মোঙ্গল বাহিনী পৌঁছায়, তখন সেখানে তারা লাধিক সৈন্যের কাছ থেকে বেশ বড় রকমের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। মনোবল না হারিয়ে মোঙ্গলরা অবরোধ আর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে নগরের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অধিবাসীরা পড়ে ভীষণ সংকটে। পতন ঘটে সমরখন্দের। এরপর শুরু হয় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। সে হত্যাযজ্ঞ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে মোঙ্গল সেনারা গর্ভবতী নারীদের পেট কেটে গর্ভের সন্তান বের করে উল্লাস করেছে! বিভিন্ন তথ্যমতে, সে সময় গণহত্যার শিকার কিংবা পালিয়ে যাওয়া নগরবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ।

আগের চেয়েও শক্তিশালী তালেবান

২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা। ১৮ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। তারপরও তালেবান এখন ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিদ্রোহী দলটি দেশের অর্ধেকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবারই তারা সবচেয়ে বেশি এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে আলোচনা বাতিল করে দিলেও তারা আরো বেশি ক্ষমতা নিয়ে চুক্তি করার মতো অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য আরো খারাপ বিষয়টি হলো, ক্রমবর্ধমান হারে আফগানরা এখন আমেরিকা সমর্থিত কাবুল সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। কাবুল সরকার বা এর মিত্ররা কেবল তালেবান নয়, আরেক চরমপন্থী গ্রুপ আইএসকেও দমন করতে পারেনি।

যুদ্ধের উচ্চ মূল্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কোনো সাফল্য না থাকার ফলে দাবি ওঠছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের। ট্রাম্প নিজেও চাচ্ছেন, আমেরিকান সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও রোববার বলেছেন, আমরা আফগানিস্তানে এখন বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি।

বিপুল ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। তবে অনেকে বলছেন, একটি চুক্তি হওয়া উচিত মার্কিন প্রত্যাহারের আগে।

তালেবানকে উৎখাতের পর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন, ও তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাই ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই ব্যয় ও বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান আইনপ্রণেতা ব্রেসনা রাবি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তালেবান অনেক বেশি শাক্তিশালী। তারা এখন দেশের যেকোনো স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার গেছে দুর্নীতিতে। মার্কিন অর্থ গরিব মানুষের কাছে যায়নি, গরিব মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

আফগানিস্তানে মোতায়েন ২২,৬৭৩ জন বিদেশী সৈন্যের মধ্যে মার্কিন সৈন্য মাত্র ১৪ হাজার। ২০১১ সালে ছিল সর্বোচ্চ এক লাখ। যুদ্ধে ২,৪০০ মার্কিন ও ১,১৪৪ ন্যাটো সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ২০,৫০০ আমেরিকান সৈন্য আহত হয়েছে। আর আফগানদের ভোগান্তি হয়েছে আরো বেশি। ২০০৯ সাল থেকে তালেবান হামলা, আফগান ও বিদেশী বিমান হামলায় ২১ হাজার আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত, ৬০ হাজার আহত হয়েছে। আর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার আফগান নিহত হয়েছে। আর ডাভোসে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি। তার সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আফগান বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে।

তালেবানের নৃশংস শাসনের পর অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন মিডিয়া খাতে উন্নতি এসেছে। ১,৮০০টি প্রিন্ট, ব্রডকাস্ট ও ডিজিটাল নিউজ আউটলেট কাজ করছে দেশটিতে। আর্ট ও মিউজিক বিকশিত হচ্ছে। ৩৫ লাখ আফগান মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, অনেক নারী রাজনীতিতে আসছে। ২৫০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে নারীরা এক তৃতীয়াংশ। তালেবান আমলে এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।

একজন জানান, আগের চেয়ে আফগান জনগণ ভালো আছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে না। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার করা মাত্র সব শেষ হয়ে যাবে।

তালেবানের সাথে চুক্তি হলে নিরাপত্তাগত অবস্থার উন্নতি হবে বলে অনেকেই মনে করেন না। তাছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.