নিউজিল্যান্ডের রক্তপাতের পেছনেও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ

দেসঅনলাইন ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের প্রস্তুতিরত  ৪৯ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় তরুণ দায় স্বীকার করেছেন। ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামে টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ দাবি করা হয় এবং এ অ্যাকাউন্ট থেকেই হত্যার ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং করা হয়। ব্রেন্টন একটি ইশতেহার, অনলাইনে প্রচার করেছেন, যেখানে অভিবাসন বিরোধিতা এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের কথা বলা হয়েছে। পরে অবশ্য অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারীরা চরম দক্ষিণপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী এবং তারা অভিবাসীদের বিপরীতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী।

এ ঘটনায় ক্রাইস্টচার্চ পুলিশ সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে একজনকে আজ (শনিবার) আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তবে এ তরুণ সেই ব্রেন্টনই কিনা, তা নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন আটকদের একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ব্রেন্টন অস্ট্রেলিয়ার গ্রাফটন শহরে বড় হয়েছেন। তিনি একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান বলেও জানা গেছে। শরীরচর্চা ও শিশুদের জন্য একটি অ্যাথলেটিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন তিনি।

অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া ৭৪ পৃষ্ঠার ডসিয়ারটি ট্যারান্ট নিজেই লিখেছেন। ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ শিরোনামের ডসিয়ারে বলা হয়েছে, ‘একটি নতুন সমাজের দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’ সেখানে ‘ব্যাপকভিত্তিক অভিবাসনের সংকট’ নিয়েও কথা বলা হয়েছে।

এ হামলাকে ‘ইউরোপীয় ভূমিতে অনুপ্রবেশকারী এবং লাখ লাখ ইউরোপীয়র দাসত্বের প্রতি প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের ‘ফরটিন ওয়ার্ডস’ শীর্ষক স্লোগানও যুক্ত করা হয়েছে—আমাদের অবশ্যই জনগণের অস্তিত্ব এবং শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

ডসিয়ারের প্রচ্ছদের একটি মনোগ্রামে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের আটটি মটো তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো সাম্রাজ্যবাদ বিরুদ্ধতা, পরিবেশবাদ, দায়িত্বশীল বাজার, মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, নৃগোষ্ঠীগত স্বায়ত্তশাসন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং শ্রমিকের অধিকার।

এ পুস্তিকায় ইসলামের ‘সহিংস’ উত্থানের কথাও উল্লেখ আছে। নরওয়ের গণহত্যাকারী ব্রেইভিকের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত যোগাযোগ থাকারও ইঙ্গিত রয়েছে।

ব্রেন্টন নিজেকে অস্ট্রেলীয় দাবি না করলেও বলেছেন, আমার ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক বিশ্বাস, দর্শন, আত্মপরিচয় এবং সবচেয়ে বড় কথা আমার রক্ত হলো ইউরোপীয়। আমার মা-বাবা স্কটিশ, আইরিশ ও ইংলিশ রক্ত বহন করছেন। আমার একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক শৈশব ছিল।

নিজের সম্পর্কে বলেছেন, শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের একটি পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। সাধারণ পরিবারের একজন সাধারণ শ্বেতাঙ্গ। তার জনগণের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে তিনি এগিয়ে এসেছেন।

ইশতেহারে ব্রেন্টন দাবি করেছেন, তিনি কোনো খ্যাতির জন্য লালায়িত নন। তিনি আসলে একজন অন্তর্মুখী মানুষ। নিজেকে নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিস্ট বলেও বর্ণনা করেন তিনি।

ব্রেন্টনের ইশতেহারে দেয়া তথ্যমতে, দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডই প্রধান লক্ষ্য ছিল না। ক্রাইস্টচার্চের স্থানটি পরিকল্পনার তিন মাস আগেই বেছে নিয়েছেন।

হামলার জন্য স্থানটিকে বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন সাময়িক অবস্থান করে পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নিতে। এসে বুঝতে পারেন পশ্চিমের যেকোনো স্থানের তুলনায় নিউজিল্যান্ডে হামলার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

একই ধরনের চরমপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী নরওয়ের তরুণ অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিক ২০১১ সালের ২২ জুলাই বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি করে পৃথক স্থানে মোট ৭৭ জনকে হত্যা করেন। এ তরুণ মাত্র ২০ বছর বয়সে অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী প্রগ্রেস পার্টিতে যোগ দেন। হামলার দিন ব্রেইভিকও অভিবাসন ও মুসলিমবিরোধী ইশতেহার অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়েই এখন চলছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড। এর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসে রবার্ট গ্রেগরি বাউয়ার্সের নাম। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবুর্গে ইহুদি উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে প্রার্থনারত ১২ ইহুদিকে হত্যা করেন তিনি। এভাবে ২০১৭ সালে কুইবেক সিটিতে আলেজান্ডার বিসোনেট মসজিদের ছয় মুসলিমকে হত্যা করেন; ২০১৫ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেয়া নয় কৃষ্ণাঙ্গ খ্রিস্টানকে হত্যা করেন ডিলান রুফ। তাদের সবার মোটিভ একই।

সাউদার্ন পভার্টি ল’ সেন্টার নামে আইন সহায়তাবিষয়ক আমেরিকান অলাভজনক একটি সংগঠন সম্প্রতি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের অসংখ্য ষড়যন্ত্রের তথ্য জানিয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের, যেগুলো মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নস্যাৎ করেছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

গত মাসেও ক্রিস্টোফার পল হ্যাসন নামে এক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। মার্কিন কোস্টগার্ডের এ সাবেক লেফটেন্যান্ট কৃষ্ণাঙ্গ, প্রগতিশীল রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন এ ঘটনাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এ ঘটনাকে ‘চরমপন্থী ডান সহিংস সন্ত্রাসীর’ হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, দ্য গার্ডিয়ান

গ্রাম্য চা বিক্রেতার সন্তান ঢাবি ভিপি হলেন

ছয় বছর বয়সে মা মারা যান। পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে তিনি বড় হয়েছেন কৃষক বাবার যত্নে। প্রত্যন্ত জনপদে অনেকটা চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে মারা যান মা। এ থেকে জেদ জেগেছিল চিকিৎসক হওয়ার। নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন কাঁধে। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু   নির্বাচনে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের উত্থানের গল্পটা অনেক ত্যাগ আর সংগ্রামের। নুরের জন্ম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় নুর।

নুরের বাবা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ইদ্রিস হাওলাদার। তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে নুরের ছয় বছর বয়সে তার মা নিলুফা বেগম মারা যান। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় তার চিকৎসায়ও সমস্যা হয়। এ থেকে নুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।  ১৯৭৫ সালে বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের  পৈতৃক নিবাস ছেড়ে নুরুলের দাদা ও ৩ চাচা গলাচিপার উত্তর চরবিশ্বাস এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তার পিতা ইদ্রিস হাওলাদার নিজ এলাকায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তার কয়েক কানি জমি এবং স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান রয়েছে। নুরের বড়ভাই নুরুজ্জামান ও ছোটভাই আমিনুল ইসলাম ঢাকা উত্তরা এলাকায় মুদি মনোহরী ও গেঞ্জির ব্যবসা করেন। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বাকি দুই বোনের মধ্যে সীমা আক্তার দশমিনা কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে এবং ইতি আক্তার চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। জনতা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবু বকর জানান নুরুল জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়া অবস্থায় সে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিল। নুরুল চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ২০১২ সালে ঢাকা উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ পান। মাঝে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এদিকে তিনবছর আগে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাতেম আলীর মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বিয়ে করেন নুর। নুরের স্ত্রী মরিয়ম স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার মানবজমিনকে বলেন, ছেলের জয়ে আমার এলাকার সর্বস্তরের মানুষ খুব খুশি। এ বিজয় সকলের। আমার ছেলে ভবিষ্যতে যাতে বড় কিছু হতে পারে তার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান। 
ছেলের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, সব সাধারণ ছাত্রছাত্রীর জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সে হামলার শিকার হয়েছে। তবু আমি চাই সে এটা চালিয়ে যাক। নুর-এর বাবা চান তার ছেলে যে পথে হাঁটছে সততার সঙ্গে তা যেন অব্যাহত রাখেন। নুরুল হক নুর  কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় তার ওপর দফায় দফায় হামলা হয়েছে। শিবিরকর্মী বলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। ইদ্রিস হাওলাদার জানিয়েছেন তার ছেলে এমন কোনো দলের রাজনীতি করেননি। নুর ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ইউনিটের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বাবুল মুন্সী বলেন, নুরের অর্জন চরাঞ্চলের মানুষকে আনন্দিত করেছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। 

৫০ বছরে ‘সেক্স রোবট’ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই ‘সেক্স রোবট’ তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। সেক্স রোবট দিন দিন জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। সৃষ্টি হয়েছে তর্কের, বলা হচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাবে স্বাভাবিক যৌনতা ও সম্পর্কগুলো। কিন্তু তাতে থেমে নেই এর বিক্রি ও উৎপাদন। রয়েছে বিশ্বজুরে বিশাল বাজারের হাতছানি। মানুষকে সাহচার্য ও যৌন পরিতোষের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এগুলোকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে। ফলে সেক্সটয় ও ডলের মত এগুলো মানুষ আর লুকিয়ে ব্যবহার করবে না একসময়, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমাগত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বিষয়টি।

ধারণা করা হচ্ছে এভাবেই মূলধারায় যুক্ত হয়ে যাবে সেক্স রোবট বা সেক্সবট। তবে এ নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। সমালোচকদের কেউ এর থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন। কেউ বলছেন আইনের কথা আবার কেউ জানাচ্ছেন মানুষের মস্তিস্কের প্রভাব যাচাইয়ের কথাও। আর নৈতিকতার প্রশ্নতো থাকছেই। 
সেক্সবট কাকে বলা হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা। এর কোনো ধরাবাধা সংজ্ঞাও নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা সহজ করে বলেন, সেক্সবট হচ্ছে একটি সেক্সডল। কিন্তু এটি কথা বলতে পারে। এর রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে এটি সব ধরণের কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবে। একইসঙ্গে নিজে থেকেই সিদ্ধান্তও নিতে পারবে। তবে এই সংজ্ঞায় এখনি ফেললে তা পুরোনো হতে সময় লাগবে না। কারণ প্রতিনিয়ত সেক্সবটকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ফিচারও। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে মাইক্রোচিপ। এর ফলে তারা তার সঙ্গীর আবেগ বুঝতে পারবে এবং শিখতে পারবে। 
‘মার্ক ওয়ান’ নামের এক রোবটকে তৈরি করা হয়েছে হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনের আদলে। এটি একটি সেক্স রোবট। কিন্তু এরে নির্মাতা রিকি মা জানিয়েছেন যে তার তৈরি রোবটটি সেক্স রোবট হিসেবে কাজ করতে চায় না। একইসঙ্গে এই রোবটগুলো অন্যান্য কাজ যেমন রান্না করার মত কাজগুলো করতে সক্ষম। 
কিন্তু সেক্সবট কি নিরাপদ? একদিন হয়ত সেক্সবট সংবেদি হয়ে উঠবে কিন্তু এখনো এটি একটি পণ্যের মতই। মার্কিন সরকারের প্রতি ইতিমধ্যে দাবি উঠেছে যাতে সেক্স রোবটকে ঠিকভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়। ধরা যাক একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার সদ্য কেনা সেক্সবটকে চুমু খাচ্ছে। কিন্তু সেক্সবটের লাল ঠোটে যে টক্সিন নেই তার কি নিশ্চয়তা রয়েছে? এ ছাড়া রয়েছে ক্রাশ করার ঝুকিও। শুধু এ ধরণের ক্ষতিই নয় রয়েছে ব্যাক্তিগত তথ্য চুরির ঝুকিও। সেক্স রোবট এখন তার পার্টনার থেকে শিখে সে শব্দগুলোকে ব্যবহার করছে। তার আবেগের উপর ভিত্তি করে কথা বলছে, তথ্য নিচ্ছে। কিন্তু এর গোপনীয়তা কে রক্ষা করবে? এমন দাবিও উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
আমরা ইতিমধ্যে সেক্সডলের পতিতালয়ের কথা জেনেছি। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউসটন শহরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম রোবট পতিতালয়। তবে এর বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেকে। এখনো কেউ জানে না সেক্সটয়ের মত বিশাল পরিসরে যখন সেক্সবট ব্যবহার শুরু হবে তখন তার সামাজিক প্রভাব কি হবে। 
ইতিমধ্যে আমরা আমাদের প্রজন্মকে সাহসী হয়ে উঠতে দেখেছি। খুব বেশীদিন আগে নয়, যখন মানুষ তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ করতে লজ্জা পেত। লুকিয়ে লুকিয়ে একেকটি সম্পর্ক গড়ে উঠত। এখন সেসব দিন চলে গেছে। কিন্তু মানুষকি পারবে একটি মেশিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা সাহসীভাবে প্রকাশ করতে? এখনো কেউ তার উত্তর জানে না। তবে এটি নিশ্চিত সেক্স রোবট শিগগিরই সারা বিশ্বের বাজারে জায়গা করে নেবে। তাই বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকাও গুরুত্বপুর্ন। এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ সমগ্র বিশ্ব প্রথমবারের মত যার মুখোমুখি হচ্ছে। 

মাসে ১০ হাজার লিটার গোমূত্র বিক্রি হয় পশ্চিমবঙ্গে!

অনলাইন ডেস্ক : ভারতে গত তিন চার বছরে তুঙ্গে উঠেছে গোমূত্রের বিক্রি। দেশটির গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশে দেদারছে গোমূত্র বিক্রি হচ্ছে।

তবে এবার ওইসব রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাতেও গোমূত্র বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, কলকাতায় গরুর দুধ নয় গোমূত্র বেশ জনপ্রিয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কোলকাতায় গোমূত্রের দাম এখন গরুর দুধের দামের চেয়ে ঢের বেশি।

কলকাতার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ‘গোমূত্র চিকিৎসা ক্লিনিক’ও।

সেখানে বিক্রি হচ্ছে ‘গোমূত্র ক্যাপসুল’ এবং ‘ডিস্টিল্ড’ ও ‘মেডিকেটেড’ গোমূত্র।

কলকাতায় গোমূত্রের চাহিদা চাহিদা দেখে গুজরাট, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাজ্য থেকে গোমূত্র আমদানি করছে একাধিক এজেন্ট।

কলকাতায় গত কয়েক বছরে এখানে গোমূত্রের চাহিদা পাঁচ গুণ বেড়েছে জানিয়ে গোমূত্র ব্যবসায়ী ললিত আগরওয়াল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মাসে প্রায় ১০ হাজার লিটার গোমূত্র বিক্রি হয়। নাগপুর থেকে আনা হয় এসব মূত্র।

৩৫০ টাকা দরে এক লিটার গোমূত্র বিক্রি হচ্ছে কলকাতায় যেখানে ১ লিটার দুধের দাম ৩৫ থেকে ৪৮ টাকা।

কলকাতা পিজরাপোল সোসাইটি নামে একটি সংস্থার কো-অর্ডিনেটর সর্বেশ্বর শর্মা বলেন, কলকাতায় মাসে প্রায় ৩ হাজার লিটার গোমূত্র বিক্রি হয় আমাদের।

তারা ১ লিটার গোমূত্রে ১৭৫ টাকায় ও ১ লিটার দুধ ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান।

কলকাতায় গোমূত্রের এমন চাহিদা দেখে সুনীল মানসিংহ নামের গোমূত্র ব্যবসায়ী জানান, পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি স্থানে গরুর খামার তৈরি করছেন তারা।

সেখান থেকে কিছুদিনের মধ্যে ডিস্টিল্ড গোমূত্র সরবরাহ করা যাবে বলে জানান সুনীল মানসিংহ।

তবে গোমূত্র ব্যবসার হিড়িকে ভিন্ন মতও রয়েছে কলকাতায়।

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজির শিক্ষক স্বপন বলেন, এসবের পুরোটাই ভণ্ডামি। গাছগাছালি থেকে ওষুধ হতে পারে। গোমূত্রে এমন কিছুই নেই যে এটা নিয়ে এমন মাতামাতি করতে হবে।

নিম্ম আয়ের মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন

অনলাইন ডেস্ক : বৈষম্য কমাতে নিম্ম আয়ের মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান।

রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি সরকারের কাছে এ প্রস্তাব রাখেন।

তিনি বলেন, “দেশে চলমান বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পেনশন স্কিমের ব্যবস্থা করতে পারে। গার্মেন্টস কর্মীদের দিয়ে এটা শুরু করা যায়।

“এরপর আরও যারা নিম্ম আয়ের মানুষ যেমন রিকশাচালকসহ স্বল্প আয়ের মানুষকেও এই পেনশনের আওতায় আনা যায়।”

প্রস্তাবের পক্ষে যুক্ত দিয়ে সাবেক গভর্নর বলেন, “যে মেয়েটি ঢাকায় এসে গার্মেন্টে চাকারি করছে প্রতি মাসে তার টাকা গ্রামে বাবা- মা কিংবা স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ২০ বা ৩০ বছর পর যখন সে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে তখন তার কাছে জমা কিছুই নেই। এরপর এ পোশাককর্মী কিভাবে চলবে সে চিন্তা সরকারকে করতে হবে।

“শ্রমিকের বেতন থেকে কিছু অর্থ কেটে রেখে এর সঙ্গে সরকার আরও কিছু অর্থ যোগ করে এ পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারে। এই কার্যক্রম দেশ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণে সহায়তা করবে বলে মনে করি।”

বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রৈ বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্দব্য করেন তিনি।

“আমরা বিদেশি বিনিয়োগে এখনো পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনামের সাথে এখনো আমরা তুলনার পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারিনি। দেশটিতে বছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। এমনকী মিয়ানমারে পর্যন্ত পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের হচ্ছে মাত্র তিন বিলিয়নের মতো।”

বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তিনি শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধের ওপর ওপর গুরুত্ব দেন।

সানেম নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান তার উদ্বোধনী বক্তব্যে মানসম্পন্ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জিডিপির বিপরীতে কর আহরণকে চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেন। অপরদিকে বৈদেশিক বাণিজ্য স্থিতিশীল রাখা, শক্তিশালী রিজার্ভ ধরে রাখা এবং বাজেট ঘাটতি পাঁচ শতাংশের মধ্যে রাখতে পারাকে সফলতা বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম এখন দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে মন্তব্য করেন।

“আমাদের এখন্য ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ওপেন করার সময় এসেছে। আমাদের অর্থনীতিকে উম্মুক্ত করা উচিত।

“পোশাক রপ্তানি ভর্তুকি পেলে অন্যান্য খাত কেন পাবে না? সবাইকে ভর্তুকির আওতায় আনা যায় কীনা সে চিন্তাও করার সময় এসেছে।”

এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, “দেশের টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন।এজন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ দরকার।

“তবে ডিজিটাইজেশনের কারণে আমাদের জবলেস গ্রোথ হচ্ছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে গিয়ে যেন প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.