৭ই মার্চের ভাষন এক মহামুক্তির দর্শন

শাহিকুল আলম টিটু ঃ ৭ই মার্চের ভাষন এক মহামুক্তির দর্শন। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। মহান দার্শনিক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই দুটো লাইনের গভীরতা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি এক মুজিব সৈনিক হিসেবে দুই একটি কথা বলছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনে লুকিয়ে আছে এক মহামুক্তির দর্শন। ৭ই মার্চের ভাষনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে বাঙালী জাতীয়তাবাদের জনক রাজা রাম মোহনের দর্শন, চিন্তা, চেতনা। প্রকাশ পেয়েছে মহান দার্শনিক লালন শাহ ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধূসুদন দত্ত, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল, পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের দর্শন, স্বপ্ন, চিন্তা, চেতনা। আরও প্রকাশ পেয়েছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহ, দুদু মিয়ার স্বপ্ন, চিন্তা চেতনা। প্রকাশ পেয়েছে বাংলার মহান নেতা দেশবন্ধু চিত্ত রন্জন দাস, সুভাশ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানীর স্বপ্ন, আশা,আকাঙ্খা, ভালবাসা, মায়ামমতা, চিন্তা, চেতনা। তাই সহজেই বলতে পারি, এটা ছিল এক.

মহামুক্তির দর্শন। কারন আমাদের নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদের সবাইকে ধারন করতো, লালন করতো। বঙ্গবন্ধু এদেরকে ধারন করেছিল বলেই বাঙালী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলেছিল, আমার নেতা, তোমার নেতা, শেখ মুজিব, শেখ মুজিব। এই নেতাকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বাঙালির স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্ক্ষা, ছয় দফা, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পর, বাংলার মানুষ পাগল হয়ে গিয়েছিল, চারিদিকে শুধু একই ধ্বনি শেখ মুজিবের মুক্তি চাই। গনঅভ্যুত্থানের নায়ক আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছে, বাংলার মানুষ সেদিন বুক পকেটে নাম ঠিকানা লিখে, রাস্তায় বের হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না। স্বাধীনতার চার খলিফার এক খলিফা নুরে আলম সিদ্দিকী বলছে, বঙ্গবন্ধুকে জেলে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে, মনে মনে ভাবছে আর বুঝি বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পাবো না, প্রচন্ড ভালবাসায় বার বার চুমু খেয়েছে। ভাসানী সাহেব বলেছে, আর বসে থাকা যায় না, আলেম ওলামাদের নিয়ে হাইকোর্টের ময়দানে বলেন, জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো। এরপর আপনেরা সবাই জানেন তৎকালীন পৃথিবীর ৭ম শক্তি পাকিস্তানের স্বৈরশাসক

আইয়ুব খানের সরকার পতন করে, বঙ্গবন্ধুকে বের করে আনে। এই সেই নেতা, যার শক্তির উৎস হচ্ছে উপরে উল্লেখিত বিশ্বসেরা মহান দার্শনিকেরা, মহান নেতারা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপরে উল্লেখিত দার্শনিকদের, মহান নেতাদের ধারণ করতো, লালন করতো। এই সেই নেতা, বাংলার শক্তি সম্পর্কে পাকিস্তানীদের বলেছিলেন, এদেশ সুভাশ চন্দ্র বসুর দেশ, এদেশ দেশবন্ধু চিত্ত রন্জন দাসের দেশ, এদেশ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী,ভাসানী সাহেবের দেশ। এই সেই নেতা, যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ৩ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে তার দেশ স্বাধীন করেছে। পৃথিবীর আর কোন রাষ্ট্র এতো রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছে কিনা আমার জানা নেই। এই সেই নেতা যার সম্পর্কে বিশ্ব সেরা নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছে, আমি হিমালয় পর্বত দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি। যিনি জাতিসংঘে ভাষন দিয়েছিলেন, পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত, এক শাসিত, আর এক শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তিনি সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের নেতা ছিলেন। তিনি আফ্রো-এশিয়া ল্যাটিন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, অনেক বড় বড় নেতা বলেছেন, মার্ক্সবাদ, লেনিন বাদ সব দর্শন বাদ, সবচেয়ে বড় দর্শন হচ্ছে মুজিব বাদ। আমিও তাদের সাথে একসুরে বলতে চাই, মুজিব বাদ হচ্ছে মানবতার মুক্তির সবচেয়ে বড় দর্শন। এর উজ্জ্বল যুক্তি হচ্ছে, তিনি উপরে উল্লেখিত সকল বিশ্ব সেরা দার্শনিকদের ধারন করতো, লালন করতো।

মুজিব বাদ সম্পর্কে যদি আরো ভালো করে জানতে চান তাহলে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পড়লেই বুঝতে পারবেন মুজিব বাদ সম্পর্কে। সেখানে তিনি খুব সুন্দর করে, দরদ দিয়ে, সরল ভাবে মানবতার কথা বলেছেন। আমি শুধু এখানে একটি কথাই উল্লেখ করতে চাই, তিনি বলেছেন, আমি মানুষ, তাই মানুষের কথা চিন্তা করি, তাই মানবতার মুক্তি চাই। তাই বলতে চাই, মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষনে এই মহামুক্তির দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। আমরা যদি সমাজ জীবনে এই দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, নীতি নৈতিকতার সমাজ ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, মানবতার মুক্তি দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

হিন্দি ভাষায় বেরোচ্ছে তসলিমা’র ‘বেশরম’

অনলাইন ডেস্ক ঃ  হিন্দি ভাষায় বেরোচ্ছে তসলিমা নাসরিনের ‘বেশরম’। এমনটাই বললেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বইটি আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি দিল্লির ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে পাওয়া যাবে।

বুধবার রাতে তার ফেসবুক পেজে বইটি সম্পর্কে তিনি লেখেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হলো।

বাংলায় বইয়ের নাম ছিল শরম। এই বইটি বাংলায় লেখা হলেও আজ অবধি কলকাতা থেকে বেরোয়নি। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে বেরিয়েছিল বটে, কিন্তু রাফ অবস্থায়, তার ওপর প্রুফ দেখাও হয়নি।

এটি লিখেছিলাম ২০০৭ সালে, কলকাতার ৭ নম্বর রওডন স্ট্রিটের বাড়িতে বসে। যখন আমাকে চারমাস গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তখন। আগস্ট থেকে নভেম্বর। বাড়ির বাইরে পা রাখার কোনও অনুমতি ছিল না আমার। তাই অস্থিরতাকে সামাল দিতে বই লেখায় বুঁদ হয়েছিলাম।

জীবনে এরপর কত ভয়ংকর ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। কলকাতার সাজানো সংসার ছাড়তে হলো, দিল্লিতে গৃহবন্দি জীবন কাটাতে হলো, ভারত ছাড়ার জন্য শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার সইতে হলো, এক সময় ভারত ছাড়তেও বাধ্য হলাম। পাণ্ডুলিপির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কেরালার প্রকাশক উপন্যাসের জন্য এমন তাগাদা দিতে লাগলেন যে কম্পিউটারে রাখা ফাইল ফোল্ডারে সার্চ চালিয়ে একদিন শরম পেলাম। পাঠিয়েও দিলাম। ২০১০ সালে প্রথম এটি বেরিয়েছে মালায়ালাম ভাষায়। তারপর পড়ে রয়েছে পান্ডুলিপি। পড়ে রয়েছে কারণ উপন্যাস লিখে কোনওদিন তৃপ্তি পাইনি। কাউকে পাঠাতেও শরম লাগে। শরম নিয়ে শরম আমার কম ছিল না। সবসময় মনে হয়েছে, ধুর, এ কিছুই হয়নি।

একবার পিপলস বুক সোসাইটির প্রকাশক নতুন আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি চাইছেন তো চাইছেনই। তখনও আত্মজীবনীর শেষ খণ্ড লেখা হয়নি। মনে আছে শরমের পাণ্ডুলিপি অগত্যা তাঁকে গছিয়ে আত্মজীবনী না লেখার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলাম। লাভ হয়নি। প্রকাশক সোজা বলে দিলেন, এটি তিনি ছাপাবেন না। নক্সাল পিপলস কি কখনও উপন্যাস বা গল্প কবিতা ছাপিয়েছে? না। হয়তো ছাপাতেন যদি লেখাটা পলিটব্যুরোর ভালো লাগতো।

আবারও ওল্ড ফোল্ডারে অবহেলায় পড়ে রইল পাণ্ডুলিপি। হিন্দি প্রকাশক এসে ওটিকে উদ্ধার করলেন এক বিকালে। ছাপানোর আগে নিজের কাছে দুদিন রেখে পাণ্ডুলিপিকে খানিকটা মানুষ বানালাম। উৎপল ব্যনার্জিকে দিয়ে অনুবাদ করিয়ে প্রকাশকও এটিকে জানি না কোন গুদাম ঘরে ফেলে রেখেছিলেন।

হঠাৎ , তিন বছর পর জানালেন, ওটি নাকি ছাপিয়েছেন। ওটি কী জিনিস বুঝতে আমার সময় লেগেছে। গুদাম ঘরে এত বছর কেন ফেলে রেখেছিলেন–এই রহস্যটি এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। ফাইনাল প্রুফ নিয়ে বাড়িতে এসেছেন সেদিন।

প্রশ্ন, নাম কি শরমই থাকবে? শেষ প্যারাগ্রাফ শুনতে চাইলাম, হিন্দি অনুবাদ থেকে পড়ে শোনার পর বললাম, এক পাল বেশরম মেয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে, নাম শরম কেটে বেশরম দিন।

স্বাধীনতা এসেছে আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে

আনন্দ কুমার সেন   জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর বাঙালী জাতির পাকিস্তানকে পরাজিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। এই স্বাধীনতা এসেছে বহু মানুষের জীবন উৎসর্গ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শোষণ-বঞ্চনাহীন একটি আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তিনি বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে অনুধাবণ করতেন। তিনি বাঙালীদের খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। শোষণ-বৈষম্যেও বিরুদ্ধে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। অধিকারহারা জাতিকে দিয়েছেন পথের ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী একটি নাম। যতোদিন বাঙালী জাতি থাকবে, যতদিন চন্দ্র-সূর্য উদিত হবে ততদিন বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন আজ আমাদের সকলের জানা। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসন, শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদমুখর ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। যৌবনের দীর্ঘ ১৪ বছর জেলে বন্দী জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু বাঙালীর স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। তিনি সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও আর্ন্তজাতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে কুলাঙ্গাররা এবং একদল বিপথগামী সামরিক বাহিনীর সদস্যের দ্বারা বঙ্গবন্ধু শহীদ হন।
বিজয়ের এই মহান মাসে মুজিব তোমায় মনে পড়ে, কে বলে রে মুজিব নাই, মুজিব সারা বাংলায়, এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘওে ঘরে। মুজিবের বাংলায় খুনীদেও ঠাঁই নেই, মুজিব আমার চেতনা, মুজিব আমার বিশ্বাস, লাল সবুজের পতাকায়- মুজিব তোমায় দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিভিন্ন সময়ে শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেন এবং দীর্ঘ ২১ বছর পর জনগণের ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলকে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে। শেখ হাসিনা আজ শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরেছেন। বাংলার দুঃখী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলেন তিনি। আজ তিনি বিশ্ব নেত্রী, মানবতার মা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রকৃতপক্ষে তারই হাত ধরে সফলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশে আজ রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ নতুনভাবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। এই সব কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। যতদিন শেখ হাসিনা থাকবে, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। এই জন্যই স্লোগান উঠেছে শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার। এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক, নৌকায় ভোট দেব, রাজাকার ও বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। জয়তু শেখ হাসিনা, অভিবাদন তোমার।
আনন্দ কুমার সেন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা

মেননের লাল মিছিলে কালো দানব।।

এখলাসুর রহমান।।

লাল মানুষের মিছিলে একটা কালো দানব ঢুকে গেলো সেদিন
কেঁদে উঠলো মানবতা,কেঁদে উঠলো তোপখানা রোডের
পিচঢালা রাজপথ,পথের খানাকন্দ ঢেকে গেলো তোমার
লাল রক্তের স্রোতে,কৈশোর হতে যৌবনের উত্তাল সময় পেরিয়ে
তুমি এসেছিলে প্রায় প্রৌঢ়ত্বে গণমানুষের নেতা হয়ে
সংসদে গেলে গণমানুষের কথা বলতে
কালো দানবটা তা সইতে পারলোনা দাঁতাল কালো রক্তে
চুষতে এলো তোমার লাল রক্ত, তুমি জীবনকে জড়িয়ে রাখতে
লাল মিছিলকেই বললে,বাঁচাও,বাঁচাও!!
দানবটা ছুঁড়ছে গুলি তুমি তখনো চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে
মানুষের উদ্দেশ্যেই বলছিলে,বাঁচাও,বাঁচাও!!
দানবের অট্টহাসিতে মানুষের হাসি মুছে গেলো সেদিন
ডুকরে কেঁদে উঠলো চট্টগ্রাম সমিতি ভবনের আশপাশের
মানুষেরা সব,তাদের কান্না ছড়িয়ে গেলো
ঢাকার রাজপথ ছাড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত পল্লীতে
মানুষ কাঁদলো,মানুষ ভালোবাসলো তোমাকে
মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে উঠলে তুমি
হে মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা রাশেদ খান মেনন
তোমাকে লাল মিছিলের লোকেরাই লালসালাম জানিয়ে
আবার ছুটতে দিলো লাল মিছিলে, তারা চায়
এই মিছিলেই তুমি থাকো
তোমার মৃত্যুও হোক এখানেই।।

একরাতের মন্ত্রী

রইস উদ্দীন আহমদ

——————————————

এক রাতে আমি পৌঁছে গেলাম মানুষের  ঘরে ঘরে,
আমি ভোট চাইলাম  প্রত‍্যেকের হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বুকের সাথে বুক  মিলায়ে ।
আশ্চর্য ! জনতা আমাকে বিপুল ভোটে
বিজয়ী করে পাঠালো – সংসদে ।

আমি মন্ত্রী হলাম, স্বয়ং খাদ্য মন্ত্রী,
তারপর – জলে – স্থলে , আকাশে উড়ে
যেখানেই  দেখেছি ক্ষুধার্ত  মানুষ সেখানেই
সম বন্টনে বিলিয়ে দিয়েছি
চাল, ডাল, মাছ, গোস্ত আরও কত  কিছু ।

কতো সভা, কতো মিটিং আর কত মিছিলে
কত মালা , কত হার  কত লোকে দিলো আমারে
দিলো উপহার ।
মনে হলো জনতার ভালোবাসায়
চির দিনের মন্ত্রী হয়ে
আমি স্বর্গের পথে হাঁটছি
আমার খোলা দুটি হাত নেড়ে নেড়ে সবাইকে
অভিনন্দন জানাতেই অকস্মাৎ
কানে এলো আকাশের  বজ্রপাতের মতো
বোমা ভাঙ্গার বিকট শব্দ
যেন  রাষ্ট্রের সমস্ত কিছু কাঁপিয়ে  দিলো ;
আর আমি তখন স্বপ্নোত্থিত  ।

তারপর আগের মতই  দেখলাম
বাংলার মাটি, জল আর প্রকৃতির  ভিতর
বুভুক্ষু মানুষের কান্নার  চিৎকার ,
তখন আমি বুঝতে পারলাম
আমি বুঝি   এক  রাতের  মন্ত্রী  ছিলাম  !

চারিদিকের  নৈরাশ্যের অন্ধকার
আমাকে বিদ্রূপ করতে থাকে-

আমি ধীরে ধীরে গা  থেকে  ছেঁড়া  কাঁথাটি
রাখলাম সরিয়ে,
তারপর প্রতিদিনের মতো আবারও  দেখলাম
আমার  শিয়রের ধারে রাখা  আমার  সেই
শূন্য  হাঁড়িটির  হাহাকার ।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.