পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক: গত মাসে শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান সংঘাত আপাতত কিছুটা থিতিয়ে গেলেও ভারতের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন এয়ার ইন্ডিয়াকে এখনও তার চড়া মাশুল গুনে যেতে হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরেই পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য নিষিদ্ধ। খবর: বিবিসি বাংলা।

ফলে এয়ার ইন্ডিয়ার ইউরোপ বা আমেরিকাগামী বিমানগুলোকে এখন অনেক ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। বাড়তি সময়, জ্বালানি এবং রিফিউয়েলিং স্টপেজের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার ইতিমধ্যেই প্রায় দশ মিলিয়ন ডলারের মতো বাড়তি খরচ হয়েছে এবং এই অঙ্কটা রোজই বেড়ে চলেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, অচিরেই এই পরিস্থিতি হয়তো আবার স্বাভাবিক হতে পারে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বালাকোটে হামলা চালিয়েছিল ভারতের যুদ্ধবিমান – আর তার পরদিন থেকেই এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানি এয়ারস্পেস। ফলে দিল্লি থেকে তাদের ইউরোপ বা আমেরিকাগামী বিমানগুলোকে এখন প্রথমে দক্ষিণমুখী হয়ে গুজরাট যেতে হচ্ছে – তারপর আরব সাগর ও পার্সিয়ান গাল্ফ পাড়ি দিয়ে উড়তে হচ্ছে গন্তব্যের দিকে।

এয়ার ইন্ডিয়া এমনিতেই আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে দীর্ঘদিন ধরে, নতুন এই পরিস্থিতিতে তাদের সমস্যা আরও অনেকগুণ বেড়ে গেছে। সংস্থার সাবেক জেনারেল ম্যানেজার অশোক শর্মা বলেন, যেহেতু ঘুরপথে যেতে হচ্ছে তাই খরচ তো বাড়বেই। তাছাড়া জার্নির সময়ও বাড়ছে স্বাভাবিকভাবেই। আর বেশি লম্বা রুট মানেই বেশি জ্বালানি, যার পুরোটা একবারে ভরে নিয়ে যাত্রা শুরু করাও সব সময় সম্ভব নয় – ফলে রাস্তায় কোনও একটা ট্রানজিট পয়েন্টে নতুন করে তেল ভরার জন্য রিফিউয়েলিং স্টপও নিতে হচ্ছে।

দিল্লি থেকে এতদিন এয়ার ইন্ডিয়ার যে ফ্লাইটগুলো সরাসরি নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি বা শিকাগোতে যেত – সেগুলোকেই এখন জ্বালানি ভরার জন্য থামতে হচ্ছে আমিরাতের শারজা বা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়, আর তাতে খরচও প্রচুর বেড়ে গেছে। এমন কী, লন্ডন বা প্যারিস থেকে এয়ার ইন্ডিয়ায় চেপে দিল্লি আসতে বাড়তি দু-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে।

এ সপ্তাহেই যেমন এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে চেপে লন্ডন থেকে দিল্লিতে এসেছেন বিবিসির সাংবাদিক কুমার মালহোত্রা। তিনি বলেন, ইউরোপ পেরিয়ে তুরস্কে ঢোকার পরই দেখলাম বিমানটা সোজা দক্ষিণে টার্ন করছে – আর ইরাক, ইরান পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে পারস্য উপসাগরে। পরিষ্কার বোঝা গেল, পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়াতেই ওই রাস্তা নেওয়া হল। তারপর বাঁয়ে ঘুরে গুজরাট দিয়ে ঢুকে আমরা অবশেষে দিল্লি এলাম। যে ফ্লাইটটা সাত থেকে আট ঘণ্টা লাগার কথা, সেটায় নয় ঘণ্টার ওপর সময় লাগল।

কিন্তু এটা কি তাহলে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য একটা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হল? ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব সালমান হায়দার অবশ্য মনে করেন, পরিস্থিতিটা পাকিস্তানকেও অসুবিধায় ফেলছে – কাজেই একটা সমাধান হয়তো শিগগিরি বের হবে।

হায়দার বলেন, পাকিস্তান যখন পূর্ব আর পশ্চিম, দু’ভাগে বিভক্ত ছিল তখন ভারত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিলেই তারা বিরাট বিপদে পড়তো।বাংলাদেশ সৃষ্টির পর সমস্যাটা সেভাবে নেই ঠিকই, কিন্তু আজ ভারতও যখন তাদের আকাশসীমা পাকিস্তানের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছে – সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া তাদের কাছে বহু দূরের পথ হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমি নিশ্চিত দু’দেশের উত্তেজনা আরও একটু প্রশমিত হলেই এই পরিস্থিতির একটা সমাধান হবে।

এর আগেও একাত্তরের যুদ্ধের সময়-সহ বহুবারই ভারত-পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা পরস্পরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এখন এয়ার ইন্ডিয়ার যত বিমান রোজ ইউরোপ-আমেরিকায় যায় ততটা আগে কখনওই ছিল না – ফলে আর্থিক চাপটাও পড়ছে নজিরবিহীন।

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট আসন সমঝোতা

অনলাইন ডেস্ক : কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেই আগামী লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কে কোন আসন নেবেন তা নিয়ে এক পক্ষকাল ধরে আকচা-আকচি চলছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি গতবারের বিজয়ী আসনে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেবার সিদ্ধান্ত নেবার পর বাকি আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার সুষ্ঠু সমাধান শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত না হওয়ায় বামফ্রন্ট ১৭টি আসন কংগ্রেসের জন্য ফাঁকা রেখে বাকি ২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বামফ্রন্ট অবশ্য সেলিব্রিটির দিকে ঝুঁকতে চায় নি। 

বরং দলের অভিজ্ঞদের উপরেই ভরসা রেখেছে। সেই মতই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বামফ্রন্ট শরিক সিপিআই, আরএসপি এবং ফরোয়ার্ড ব্লককে তিনটি করে আসন দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭টিতে সিপিআইএম প্রার্থীরা লড়াই করবে।

তবে আরও কিছু আসনে ওই ধরণের কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বামফ্রন্ট জানিয়ে দিয়েছে,  কংগ্রেসের সঙ্গে ভোটে তারা জোটে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কংগ্রেসের জেতা চারটি আসনে বামেরা কোনও প্রার্থী দেয়নি। 

সিপিআইএম গতবারের জয়ী  রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে পুরনোদেরই প্রার্থী করেছে। রায়গঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদে বদরুদ্দোজা খান। কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্রে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাল রঞ্জন ভট্টাচার্য, দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে নন্দিনী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত সাবেক স্পিকার হাসিম আবদুল হালিমের ছেলে ফুয়াদ হালিম। দমদম কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন নেপালদেব ভট্টাচার্য। বিশিষ্ট চিকিৎসক নেতা রেজাউল করিমকে প্রার্থী করা হয়েছে বীরভূম থেকে। তবে তিনি কোন প্রতীকে লড়াই করবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। 

বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় অবশ্য মাত্র চারজন মহিলার নাম রয়েছে। এরা হলেন পুরদুয়ারে আরএসপি প্রার্থী মিল ওরাও, কলকাতা দক্ষিণে সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়, রাণাঘাটে রমা বিশ্বাস ও উলুবেড়িয়ায় মাকসুদা খাতুন। এদিকে পুরুলিয়া কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বীর সিং মাহাতো এবং বসিরহাট কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থী পল্লব সেনগুপ্তর নাম ঘোষণা করা হলেও শুক্রবারের বৈঠকে বামফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কংগ্রেস মনে করলে ওই দুটি কেন্দ্রে তারাও প্রার্থী দিতে পারে। 

সেক্ষেত্রে বামেরা প্রার্থী প্রত্যাহার করবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। তবে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কংগ্রেসের জন্য বাকি আসনগুলি ছেড়ে রাখা হয়েছে। শূন্যস্থান পূরণ না হলে বামেরা পরে আরও কিছু আসনে প্রার্থী দিতে পারে। ঝাড়গ্রামে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ঝাড়খন্ড পার্টির চূনীবালা হাঁসদার মেয়ে বিরবাহা হাঁসদা। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি তেমন হলে বিরবাহাকে সমর্থন করতে পারে বামফ্রন্ট। বামনেতারা অবশ্য মনে করছেন, রাজ্যে মানুষ ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। এ সবই পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত। 

নিউজিল্যান্ডের রক্তপাতের পেছনেও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ

দেসঅনলাইন ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের প্রস্তুতিরত  ৪৯ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় তরুণ দায় স্বীকার করেছেন। ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামে টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ দাবি করা হয় এবং এ অ্যাকাউন্ট থেকেই হত্যার ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং করা হয়। ব্রেন্টন একটি ইশতেহার, অনলাইনে প্রচার করেছেন, যেখানে অভিবাসন বিরোধিতা এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের কথা বলা হয়েছে। পরে অবশ্য অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারীরা চরম দক্ষিণপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী এবং তারা অভিবাসীদের বিপরীতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী।

এ ঘটনায় ক্রাইস্টচার্চ পুলিশ সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে একজনকে আজ (শনিবার) আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তবে এ তরুণ সেই ব্রেন্টনই কিনা, তা নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন আটকদের একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ব্রেন্টন অস্ট্রেলিয়ার গ্রাফটন শহরে বড় হয়েছেন। তিনি একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান বলেও জানা গেছে। শরীরচর্চা ও শিশুদের জন্য একটি অ্যাথলেটিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন তিনি।

অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া ৭৪ পৃষ্ঠার ডসিয়ারটি ট্যারান্ট নিজেই লিখেছেন। ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ শিরোনামের ডসিয়ারে বলা হয়েছে, ‘একটি নতুন সমাজের দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’ সেখানে ‘ব্যাপকভিত্তিক অভিবাসনের সংকট’ নিয়েও কথা বলা হয়েছে।

এ হামলাকে ‘ইউরোপীয় ভূমিতে অনুপ্রবেশকারী এবং লাখ লাখ ইউরোপীয়র দাসত্বের প্রতি প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের ‘ফরটিন ওয়ার্ডস’ শীর্ষক স্লোগানও যুক্ত করা হয়েছে—আমাদের অবশ্যই জনগণের অস্তিত্ব এবং শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

ডসিয়ারের প্রচ্ছদের একটি মনোগ্রামে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের আটটি মটো তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো সাম্রাজ্যবাদ বিরুদ্ধতা, পরিবেশবাদ, দায়িত্বশীল বাজার, মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, নৃগোষ্ঠীগত স্বায়ত্তশাসন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং শ্রমিকের অধিকার।

এ পুস্তিকায় ইসলামের ‘সহিংস’ উত্থানের কথাও উল্লেখ আছে। নরওয়ের গণহত্যাকারী ব্রেইভিকের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত যোগাযোগ থাকারও ইঙ্গিত রয়েছে।

ব্রেন্টন নিজেকে অস্ট্রেলীয় দাবি না করলেও বলেছেন, আমার ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক বিশ্বাস, দর্শন, আত্মপরিচয় এবং সবচেয়ে বড় কথা আমার রক্ত হলো ইউরোপীয়। আমার মা-বাবা স্কটিশ, আইরিশ ও ইংলিশ রক্ত বহন করছেন। আমার একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক শৈশব ছিল।

নিজের সম্পর্কে বলেছেন, শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের একটি পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। সাধারণ পরিবারের একজন সাধারণ শ্বেতাঙ্গ। তার জনগণের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে তিনি এগিয়ে এসেছেন।

ইশতেহারে ব্রেন্টন দাবি করেছেন, তিনি কোনো খ্যাতির জন্য লালায়িত নন। তিনি আসলে একজন অন্তর্মুখী মানুষ। নিজেকে নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিস্ট বলেও বর্ণনা করেন তিনি।

ব্রেন্টনের ইশতেহারে দেয়া তথ্যমতে, দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডই প্রধান লক্ষ্য ছিল না। ক্রাইস্টচার্চের স্থানটি পরিকল্পনার তিন মাস আগেই বেছে নিয়েছেন।

হামলার জন্য স্থানটিকে বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন সাময়িক অবস্থান করে পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নিতে। এসে বুঝতে পারেন পশ্চিমের যেকোনো স্থানের তুলনায় নিউজিল্যান্ডে হামলার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

একই ধরনের চরমপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী নরওয়ের তরুণ অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিক ২০১১ সালের ২২ জুলাই বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি করে পৃথক স্থানে মোট ৭৭ জনকে হত্যা করেন। এ তরুণ মাত্র ২০ বছর বয়সে অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী প্রগ্রেস পার্টিতে যোগ দেন। হামলার দিন ব্রেইভিকও অভিবাসন ও মুসলিমবিরোধী ইশতেহার অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়েই এখন চলছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড। এর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসে রবার্ট গ্রেগরি বাউয়ার্সের নাম। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবুর্গে ইহুদি উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে প্রার্থনারত ১২ ইহুদিকে হত্যা করেন তিনি। এভাবে ২০১৭ সালে কুইবেক সিটিতে আলেজান্ডার বিসোনেট মসজিদের ছয় মুসলিমকে হত্যা করেন; ২০১৫ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেয়া নয় কৃষ্ণাঙ্গ খ্রিস্টানকে হত্যা করেন ডিলান রুফ। তাদের সবার মোটিভ একই।

সাউদার্ন পভার্টি ল’ সেন্টার নামে আইন সহায়তাবিষয়ক আমেরিকান অলাভজনক একটি সংগঠন সম্প্রতি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের অসংখ্য ষড়যন্ত্রের তথ্য জানিয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের, যেগুলো মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নস্যাৎ করেছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

গত মাসেও ক্রিস্টোফার পল হ্যাসন নামে এক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। মার্কিন কোস্টগার্ডের এ সাবেক লেফটেন্যান্ট কৃষ্ণাঙ্গ, প্রগতিশীল রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন এ ঘটনাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এ ঘটনাকে ‘চরমপন্থী ডান সহিংস সন্ত্রাসীর’ হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, দ্য গার্ডিয়ান

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি

আওয়ামী লীগ সরকার একপেশে নির্বাচন করে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০১৮’ এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশটির জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসবের মধ্যে ভরা ব্যালট বাক্স, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে হয়রানি, হুমকি, গণ গ্রেপ্তারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ যার কারণে অনেক বিরোধী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের জন্য বৈঠক, জনসভা, কিংবা স্বাধীনভাবে প্রচার চালানো কঠিন ছিল৷

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারীদের প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে অনুমতি ও ভিসা প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২টি ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ এনজিওর মধ্যে মাত্র সাতটিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা এনজিও ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানের সাহায্য নিয়েছে। এই পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাসে বিএনপি ও তার রাজনৈতিক জোটের বিরুদ্ধে মোট ১৩২৪ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ যেখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন ঘটনা ঘটেছে ২১১ টি৷ এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে প্রায় ৪,৩৫,০০০ বিএনপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ৷ যাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ এসব মামলার অনেকগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো৷

এদিকে চলতি মাসের গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশে জামায়াতের নেতা কর্মীদের মত প্রকাশের সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে৷ অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধনের সুযোগ না দেয়া, জামায়াতের নামে অফিস খুলতে না দেয়া সেই সঙ্গে নেতা ও সদস্যদের মত প্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার ক্রমাগত হরণ করা হচ্ছে৷

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও সরকার হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গণমাধ্যম প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব গণমাধ্যম সরকার ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তাদেরকে হয়রানি করছে সরকার৷ বিজ্ঞাপন থেকে তাদের আয়ের পথ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে৷ গণমাধ্যমগুলো সরকারের প্রতিক্রিয়া এড়াতে ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ’ আরোপ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়৷

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওই প্রতিবেদনে৷ বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে৷ কিন্তু সরকার মাত্র অল্প কয়েকটি নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে৷

সূত্র: ডি ডব্লিউ

ভারতে অস্ত্রের বড় উৎস ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তান যদি যুদ্ধ লাগে তাহলে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইসরাইলি অস্ত্র। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা বিষয়ক মূল অংশীদার হয়ে উঠেছে ইসরাইল। ভারতে সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারকে আধুনিক কর্মসূচির অধীনে এনে তাকে আরো আধুনিকায়ন করার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রযুক্তিগত ভূমিকা রাখছে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলের পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট অনলাইন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুত। তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ডলারে। ভারতের অস্ত্রবাজারে ইসরাইলের বিভিন্ন পর্যায়ের বড় বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুযোগ খুঁজেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ইসরাইল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), রাফায়েল এডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, ইসরাইল মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএমআই) এবং এলবিট। 

গত এক দশকে অস্ত্র কেনাবেচা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৩ সালে আইএমআই ভারতের কাছে ট্যাংক-শেল সরবরাহের জন্য স্বাক্ষর করেছে ২ কোটি ডলারের চুক্তি। এ ছাড়া ইসরাইলের কাছ থেকে নয়া দিল্লি কিনেছে টেভর রাইফেল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ভারতের কাছে মোট ১৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল। 
২০১৭ সাল নাগাদ ভারতের অস্ত্রবাজারে মোট যে পরিমাণ অস্ত্র আসে তার শতকরা ৪৯ ভাগই হলো ইসরাইলি। ২০১৭ সালে এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন। এ সময়ে তার সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা। 

ব্যবসা বিস্তৃত হলেও সবকিছু মসৃণভাবে অগ্রসর হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ২০১৬ সালে যে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল তা বাতিল করেছে ভারত।  আইএআই ও রাফায়েলের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি ভারত বাতিল করেছে ২০১৬ ও ২০১৮ সালের মধ্যে। এ ছাড়া তারা ২০০৯ সালে আইএমআইয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাদেরকে নিষিদ্ধ করেছে, যদিও রিপোর্ট আছে যে, ২০১৪ সালে ভারতের বাজারে ফিরেছে আইএমআই। 
ভারতীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী ইসরাইলে তৈরি স্পাইস কিট ব্যবহার করে তৈরি বোমা গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে ফেলে ভারতীয় বিমানবাহিনী। ফ্লাইট গ্লোবালের মতে, স্পাইস ১০০০ নির্দেশিত বোমা ভারতকে সরবরাহ করে ইসরাইল ৩৬ ডেসল্ট রাফায়েলস। এ ছাড়া ভারতের তেজাস জেটের জন্য সরবরাহ করা হয় স্পইস ২৫০। রাফায়েল এডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম থেকে ভারতের জন্য এটা ছিল একটি বড় বিপ্লব। দেয়া হয়েছিল পাইথন-৫, আই-ডারবি ইআর আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, লিচেনিং ৫ টার্গেটিং পড। ২০১৬ সালের একটি আর্টিকেল অনুযায়ী, এসব চুক্তির মূল্য ৫০ কোটি ডলার। 

২০১৭ সালে আই-এইচআইএস এক প্রতিবেদনে বলে, তেজাহ’র জন্য এক স্টোয়াড্রন যুক্ত হবে রাফায়েল আই-ডারবি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে। স্থানীয় ইন্ডিয়ান ডিআরডিও কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির অধীনে এগুলো দেয়ার কথা বলা হয়। 
ভারতের স্থল বাহিনী তাদের বিভিন্ন রকম অস্ত্রের আধুনিকায়নে ইসরাইলি অস্ত্র চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫৫ এমএম বন্দুক, এর সঙ্গে রয়েছে ইসরাইলের ট্রফি একটিভ প্রটেকশন সিস্টেম। ২০১৮ সালে এলবিট এবং অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অর্ধীনে অশোক লেল্যান্ডের চাকাযুক্ত যানের জন্য আর্টিলারি গান দেয়ার কথা বলা হয়। 

হুমকি থেকে রক্ষার জন্য ভারতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রাডার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে নয়া দিল্লি আইএআই-এর এলটা সিস্টেমের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর অধীনে ৮৩ টি এএলএম-২০৫২ রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সুট দেয়ার কথা বলা হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৫৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে আইএআই। তাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য স্কাই ক্যাপচার কমান্ড ও এন্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেম কন্ট্রোলের জন্য চুক্তি হয়। 

সমুদ্রেও শক্তিশালী ভারত। ২০১৫ সালে ভারতের নৌবাহিনী আইএআইয়ের বারাক-৮ এর সঙ্গে একটি সফল চুক্তি করে। ভারতে ডিআরডিও’র সঙ্গে যৌথভাবে তারা এএ রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করে। ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার তৈরি করে। ২০১৯ সালে আইএআই ঘোষণা করে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত একটি চুক্তির। এর অধীনে মধ্যম মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো ভারতের আকাশসীমাকে নিরাপত্তা দেবে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সম্পাদিক ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের চুক্তি হয়। এর অধীনে সাতটি জাহাজ দেয়ার কথা হয়। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ভারতের ভারত ইলেক্ট্রানিক্স লিমিটেডের সঙ্গে। 
ইসরাইলের এলবিট নামের প্রতিষ্ঠানটি আরো চুক্তি স্বাক্ষর করে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের সঙ্গে। এর অধীনে রয়েছে হার্মিস ৯০০ এবং হার্মিস ৪৫০, ইউএভি।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.