মসজিদে নামাজ পড়ায় ৪৩ ইমাম আটক

শিরোমণি অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৪৩ জন ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজে জামাতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে দেশটির সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে গতকাল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে পুলিশ ৮৮টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং জন্য ৩৮ জন ইমামকে আটক করেছে। প্রাদেশিক সরকার ঘোষণা করেছিল যে, কোভিড-১৯ এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মসজিদে জুমার নামাজসহ জামাতে নামাজ পড়া যাবে না।

পাঞ্জাব সরকার পাঁচ ওয়াক্তের সাধারণ নামাজ ও জুমার নামাজের সময় সমস্ত মসজিদ তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কেবল মুয়াজ্জিন, ইমামসহ পাঁচ জনকে মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পুলিশ মসজিদগুলো পরিদর্শন করার সময় নির্দেশটি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দÐবিধি ধারা ১৮৬ (জনসমাবেশ বাতিলে সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেয়া), ১৮৮ (আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্তে¡ও সরকারি কর্মচারীকে সহায়তা না করা) এবং ২৬৯ (জীবনের জন্য বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ ঠেকাতে জারি করা বিধি-নিষেধ অমান্য করা) এর অধীন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

করোনা মুক্ত চীনের উহান, আতসবাজি

শিরোমণি অনলাইন ডেস্ক:করোনার উৎপত্তি যে শহর থেকে, সেই চীনের উহানে টানা তিন দিন কোনো কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েনি। সেখানকার জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শহরের তল্লাশিচৌকিগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব চৌকি বসানো হয়েছিল মানুষের যাতায়াত ঠেকাতে। উহানের এই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসাকে বিশ্বব্যাপী বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এই অর্জন উদযাপন করছে উহানবাসী। কেউ কেউ আতশবাজি পুড়িয়ে তল্লাশিচৌকি অপসারণ উদযাপন করছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত জানুয়ারি মাসে উহান শহর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপরও মানুষ যাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে ভাইরাসটি ছড়াতে না পারে, সে জন্য তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এমনটা জানিয়ে ইতিমধ্যে উহানে স্থাপিত ১৬টি অস্থায়ী হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ নিজ প্রদেশে চলে গেছেন। মানুষ কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে উহানের তল্লাশিচৌকি অপসারণ।

করোনায় করণীয় অনুসরণে জবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আহ্বান

মোঃ মাসুদ আলম,জগন্নাথ প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব ও দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশবাসী ও মুসল্লিদের প্রতি বিবৃতি দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক।

শুক্রবার বিভাগের ফেসবুক পেজে তারা এই বিবৃতিটি পোস্ট করেন।

বিবৃতিতে দেশবাসী ও মুসল্লিদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, ‘আপনারা অবহিত আছেন যে, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো মানব সভ্যতা আজ মহাবিপর্যয়ের সম্মুুখীন। চীন, ইতালি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো বিশ্বপরিমণ্ডল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে। পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ জরুরি অবস্থা জারি করেছে। মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু সৌদি আরবের পবিত্র হারামাইনে সর্বশেষ জুমা ও মসজিদের জামাত আদায় সর্বসাধরণের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মিশর, কুয়েত, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র একই অবস্থা। সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সবাই সচেতন না হলে কেবল সরকারের পক্ষে করোনা বিপর্যয় থেকে জাতিকে সুরক্ষা দেয়া অত্যন্ত দুরূহ হবে বলে আমরা মনে করি।’

‘আমাদের দেশ ও জাতিকে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি থেকে সচেতন করতে প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমরা এখন কঠিন সময় অতিক্রম করছি এবং সামনে আরও কঠিনতম সময় আসতে পারে। এমতাবস্থায় ইসলামি শরিআর উদ্দেশ্য (মাকাছিদ) অনুযায়ী জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্ম, বুদ্ধি-বিবেক, সম্পদ ও বংশের সুরক্ষা দিতে হবে। অভিজ্ঞমহল কর্তৃক এ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব (ভাইরাস ছড়ায় এ রকম বিষয়কে এড়িয়ে চলা) নিশ্চিতকরণ প্রাথমিক অত্যাবশ্যক করণীয় নির্ধারণ করার প্রেক্ষাপটে আমরা জাতিকে তা সর্বক্ষেত্রে অনুসরণের আহ্বান জানাই। ইসলামে জুমার বিকল্প থাকায় সামাজিক দূরত্ব রেখে ধর্মীয় ইবাদত পালন সম্ভব। নামাজ বাসগৃহে জামাতবদ্ধ হয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় জরুরি কারণে মসজিদে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সময় চলে যাবে এবং সুদিন আসবে।’

‘কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়-ই কঠোরতার পর প্রশ্বস্ততাও রয়েছে” (সূরা ইনশিরাহ : ৫)। মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধব্বনিতে আবার মসজিদের সারিগুলো মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হবে, ইনশাআল্লাহ। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াহি ওয়া সাল্লাম কাদা মাড়িয়ে মসজিদে না আসার অনুমতি দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু অনিবার্যকারণে বাসগৃহ ও অবস্থানস্থলে নামাজ পড়ার তাগিদ দিতে সাময়িকভাবে আজানের দুয়েকটি শব্দ পরিবর্তন করেছিলেন (বুখারী, ৬৬৬; মুসলিম,৬৯৭)। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াহি ওয়া সাল্লাম উতবান ইবন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে গিয়ে সুনির্দিষ্ট স্থানে নামাজ পড়ে এসেছেন যাতে তিনি ওই স্থানে নামাজ পড়তে পারেন (বুখারী, ৪১৫)।’

‘আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে হাদিস ও সিরাতের এসব ঘটনাবলি উপস্থাপনের জন্য প্রাজ্ঞ আলেম সমাজকে আহ্বান জানাই। জাতির এ দুর্যোগের মুহূর্তে প্রাজ্ঞ আলেম সমাজ বসে থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আলেম সমাজের বার্তা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সর্বশেষ একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রীও এরূপ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আলেম সমাজ তাদের করণীয় নির্ধারণ করে জাতিকে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। প্রত্যাশা করি, এর ফলে জনগণ জুমা, মসজিদে জামাত, ধর্মীয় জনসমাগমসহ হাট-বাজার, খেলার মাঠ, ভ্রমণকেন্দ্র, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদি স্থানে সামাজিক দূরত্বকে নিশ্চিত করবে।’

প্রিয় দেশবাসী! এমতাবস্থায় ইসলামের মহান শিক্ষা ও নৈতিকতা ধারণ করে আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীর প্রতি মনোযোগী হোন। অতি দ্রুত আল্লাহর রহমতের মাস রমজান এসে পড়বে। পরিস্থিতির কারণে কালোবাজারি ও মওজুদদারি বিষয়ে সংযমী হোন ও কাছের লোকদের সতর্ক করুন। আমরা মনে করি, এ ভয়ঙ্কর মহামারি থেকে একমাত্র মহান আল্লাহ-ই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। তাই আল্লাহর নিকট চোখের পানি ঝরিয়ে তওবা, ক্ষমা প্রার্থনা, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য কামনার আহ্বান করছি। আপনাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত দোয়া পড়ার অনুরোধ করছি।’

বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন

১. জবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন

২. বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন

৪. বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জবির প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল

৫. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম

৬. সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ নূরুল্লাহ

৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক

৮. বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারেক বিন আতিক

৯. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন

১০. সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল হোসাইন

১১. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম

১২. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আহসান উ

৬১ শতাংশ নাস্তিক চীনে করোনা নিয়ন্ত্রণ

শিরোমণি অনলাইন ডেস্ক : চীনে শতকরা ৯০ ভাগই ‘নাস্তিক’৬৫টি দেশে জরিপ চালিয়েছিল ‘গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনাল’৷ জরিপ থেকে বেরিয়ে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নাস্তিকেরও দেশ৷ সে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই প্রত্যক্ষ ভা পরোক্ষভাবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন৷ চীনের শতকরা ৬১ ভাগ মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেন, বাকি ২৯ ভাগ নিজেদের ধর্মে বিশ্বাসী নন বলে দাবি করেছেন৷

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে৷ শুরুতে চরম অব্যবস্থাপনা থাকলেও পরে নানা কাড়াকড়ি আরোপ করে চীন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে৷

সৌদির সব মসজিদে নামাজ স্থগিত

শিরোমণি অনলাইন ডেস্ক : মানুষের জীবন আগে। মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র দুটো স্থান, মক্কা এবং মদিনায় অবস্থিত দুটো মসজিদের বাইরের চত্বরে নামাজ আদায় স্থগিত করেছে সৌদি আরব সরকার।

সৌদি গেজেট পত্রিকা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কাবা এবং মসজিদে নববীর বাইরের চত্বরে নামাজ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই পদেক্ষপ সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মক্কা এবং মদিনার এই দুই মসজিদে নামাজ আদায়ের বিষয়টিকে কিছুটা সীমিত করা হলো।

দুবাই-ভিত্তিক গালফ নিউজ জানিয়েছে, মসজিদ চত্ত্বরে প্রতিদিনের নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজও স্থগিত করা হয়েছে।

মসজিদ আল হারাম এবং মসজিদে নববী ব্যতীত সৌদি আরবের বাকি সব মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া স্থগিত করে গত মঙ্গলবার নির্দেশ জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য যেসব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সবাইকে আহবান জানিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবে এখনো পর্যন্ত ২৭৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এর আগে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরা প্রতিরোধ করতে সতর্কতা হিসেবে বিদেশীদের জন্য ওমরাহ করার সুবিধা স্থগিত করে সৌদি আরব।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com