পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করার নির্দেশ

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

বুধবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের উদ্দেশ্যে এক বিবৃতিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, সান্ধ্যকালীন কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে বলে এই কোর্স বন্ধ করা উচিত।

গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আব্দুল হামিদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্সের কঠোর সমালোচনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্স বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের ক্ষতি করছে।

তিনি এ বিষয়ের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন,এক শ্রেণির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছেন যা গোটা শিক্ষার পরিবেশের ক্ষতি করছে।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডিপার্টমেন্ট কোর্স, ইভনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও একশ্রেণীর শিক্ষক ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন।”

রাষ্ট্রপতির এমন সমালোচনার দুদিন পরেই এই পদক্ষেপ নিলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ২ হাজার ৭০০ মিটার

বসানো হলো পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান ‘৩-ই’। বুধবার সকালে পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জ মাওয়া প্রান্তের ১৭ ও ১৮ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। এর ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর দুই হাজার ৭০০ মিটার।

এর আগে, পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাওয়ার কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড-১ থেকে ১৭ ও ১৮ নম্বর খুঁটির উদ্দেশে তিয়ান-ই ক্রেনে করে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের ‘৩-ই’ স্প্যানটি নিয়ে রওয়ানা করবে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই বসানো হবে সেতুর ১৮তম স্প্যান।

গত ২৬ নভেম্বর বসানো হয় পদ্মা সেতুর ১৭তম স্প্যানটি। ওইদিন দুপুর সোয়া ২ টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে ‘৪ডি’ নম্বর স্প্যানটি ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয়।

সরকার ও দলীয় কার্যক্রম পৃথক নেতার পরিকল্পনা

আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন চমক। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনেও চমক থাকছে। জানা গেছে, সরকার ও দলীয় কার্যক্রম পৃথক নেতা দিয়ে চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনে বিশাল বিজয়কে সুসংহত, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা ও দলের পদ, দুই জায়গাতেই আছেন এমন কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো এক জায়গায় রাখার মনোভাব ইতিমধ্যে ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি ঘিরে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে তৈরি করতে চান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে দলীয় কাজ আর সরকারের কাজ যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনা আছে আওয়ামী লীগের। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভা নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। দলের অনেক সিনিয়র নেতা বাদ পড়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং প্রেসিডিয়ামের ১৫ সদস্যের মধ্যে শুধু ড. আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। চার যুগ্মসাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ডা. দীপু মনি, ৮ সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, কার্যনির্বাহী সংসদের দুই সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ও মুন্নুজান সুফিয়ান ঠাঁই পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের রাখা হয়নি। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলেও নেতৃত্বে বড়ো পরিবর্তন আনা হবে। যারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার মন্ত্রিসভায় থাকা কাউকে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ দিলে পরবর্তীতে তিনি মন্ত্রী থেকে বাদ পড়তে পারেন। জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় ও দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এমন এক নেতাকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাসাও করেছেন যে, তিনি দলে থাকবেন, নাকি মন্ত্রিসভায়? তখন ঐ নেতা মন্ত্রিসভায় থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। বর্তমান মন্ত্রিসভার ৯ জন সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে আছেন।

এদিকে এবার সম্মেলনে মূল আকর্ষণ কে হচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক? এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন কি না, সেই আলোচনাও চলছে সর্বত্র। গত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও বোন শেখ রেহানা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন বলে আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এবার তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের নাম আলোচনায় আছে। অপরদিকে চলমান শুদ্ধি অভিযানের কারণে কারা বাদ পড়ছেন সেটিও জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের মধ্যে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করেছেন। তবে সরকার ও দলীয় কার্যক্রম পৃথক নেতা দিয়ে চালানো হচ্ছে— এমন গুঞ্জনে সাধারণ সম্পাদক পদটিতে একাধিক সিনিয়র নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছেন তিন জন প্রেসিডিয়াম সদস্য, চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কাউন্সিলে সভাপতি পদটি ছাড়া অন্য যে কোনো পদেই পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা কেউই দলের জন্য অপরিহার্য নই। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে দলের দায়িত্ব পালন করব। দায়িত্ব পালনে আমি কোনো চাপের মুখে নেই। আমি শারীরিকভাবেও সুস্থ আছি।’

‘একমাত্র তারেকই পারেন খালেদাকে মুক্ত করতে’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একমাত্র তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই মুক্ত করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এমপি মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। গ্রাম পর্যায়েও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। বিএনপির আছে বিশাল কর্মীবাহিনী এবং তৃনমূল পর্যায়ে ব্যাপক নেতৃত্ব। তার ওপরে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি।

বিএনপির সাবেক এই এমপি বলেন, জনগণের মাঝে রয়েছে দলের প্রতি বিশেষ করে দেশমাতা খালেদা জিয়ার প্রতি বিশাল জনমত। এখন যদি দলের নেতৃত্ব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সত্যিকারভাবে ইচ্ছা পোষণ করেন যে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে তাকে মুক্ত করে আনবেন তাহলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের শুধু একটি নির্দেশেই সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভ ও দেশমাতার মুক্তির জন্য বিস্ফোরণ ঘটাবে।

‘বিএনপিতে এমন একজন নেতা বা কর্মী নাই যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করবে। গ্রাম-গঞ্জে পাতি পাতি নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি লোক এবং উনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সংযোগ আছে বলে দলে তাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রকাশ্য দেখিয়ে বেড়াচ্ছে।’

মেজর আখতার আরও বলেন, এই সব নেতাদের সামনে বিএনপির কারো টুশব্দটি করারও ক্ষমতা নাই। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশ ছাড়া আর কারো নির্দেশের তোয়াক্কা করে না।

‘তাই জনগণ মনে করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি সরাসরি নির্দেশ প্রদান করেন তাহলে এই সব নেতাসহ ত্যাগী নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে সবাই একযোগে রাস্তায় নেমে আসবে। যার ফলে সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে এবং ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।’

তিনি বলেন, জাতি তাকিয়ে আছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকে। এখন একমাত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই পারেন দেশমাতাকে মুক্ত করতে। জয় হবেই হবে।

আমার বাসায়ও পেয়াজ ছাড়া রান্না হয়

পেঁয়াজ নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। কেন ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুত করছে বুঝতে পারছি না। পেঁয়াজ নিয়ে এত অস্থির হয়ে যাওয়ার কী আছে?আমার বাসায়ও পেয়াজ ছাড়া রান্না হয়।

এ সময় সাকিব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসি যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় আমাদের খুব বেশিকিছু করার থাকে না। সারা বিশ্বের ক্রিকেটে সাকিবের একটা অবস্থান আছে। বিসিবি তার পাশে থাকবে বলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাকিবের উচিত ছিল বিষয়টি আইসিসিকে জানানো। যখন তাকে প্রস্তাব দিয়েছিল তখন সাকিব গুরুত্ব দেয়নি। সাকিব ভুল করেছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন আওয়ামী লীগই করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্যের হার কমেছে। উন্নয়নের ছোঁয়া দেশের মানুষ পাচ্ছে। ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যে সম্মান হারিয়ে গিয়েছিল, দেশের মানুষ সেটা আবার ফিরে পেয়েছে।

সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.