বিএনপিকে ভারতের ৫ পরামর্শ!

অনলাইন ডেস্ক ঃ ঢাকায় নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বৈঠক করেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে।

ভারতীয় দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

সূত্র জানায়, এসময় রিভা গাঙ্গুলি তার সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে ৫টি পরামর্শ দিয়েছে। পরামর্শগুলো হলো- ১. বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংসদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা। তাদের কন্ঠস্বর যত কমই হোক না কেন, সংসদকেই সরকারের সমলোচনার মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা। ২. বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বিএনপিকে সত্যিকার একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পুনর্গঠন করা, ৩. স্বাধীনতাবিরোধী জামায়তের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া। ৪. আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির সকল ধরণের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া। ৫. আন্দোলন-সংগ্রাম না করে বিএনপি যেন জনগণের স্বার্থ এবং জনগনের ইস্যুতে আন্দোলন এবং কর্মসূচি যেন গ্রহণ করে, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সূত্র জানায়, রিভা গাঙ্গুলির দেওয়া পরামর্শগুলোর মধ্যে সবগুলো বিবেচনা করবে বলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানালেও তারেক রহমানের বিষয়টিতে তারা দ্বিমত পোষণ করেন। বিএনপি নেতারা জানান, তাদের দলে জিয়া পরিবার ভীষণ জনপ্রিয়। তাদের কাউকে বাদ দিলে বিএনপির তৃণমূল নেতারা আপত্তি তুলবে। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, তারা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু ভারত যদি বাংলাদেশে একদল কেন্দ্রীক সম্পর্ক স্থাপনের নীতি অবলম্বন করে তাহলে তখন বিএনপিকে ভারত বিরোধী অবস্থান নিতেই হবে।

এ ব্যাপারে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত কি বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত সবগুলো রাজনৈতিক দলকে সংসদে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ঢাকা থেকে এমভি মধুমতি কলকাতা যাবে

অনলাইন ডেস্ক : উড়োজাহাজে, ট্রেনে বা বাসে চড়ে হরহামেশাই আসা-যাওয়া করা যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। কিন্তু নৌপথে পণ্য পরিবহন চললেও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিবেশী দেশটিতে চলাচলের সুযোগ ছিল না। এবার নৌপথের সেই বাধা দূর হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে চালু হতে যাচ্ছে নৌযান যাত্রীসেবা। এদিন রাতে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের জাহাজ এমভি মধুমতি। একইভাবে কলকাতা নৌবন্দর থেকে বাংলাদেশের দিকে রওনা হবে ভারতীয় একটি নৌযান।

বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সেবা চালু করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে সফল হলে ঢাকা থেকে কলকাতায় নিয়মিতভাবে নৌযান চলবে। রুটটির পরিধি বাড়িয়ে উত্তর ভারতের আসামের গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সুন্দরবন, বরিশাল, চাঁদপুরের মতো আকর্ষণীয় এলাকার ওপর দিয়ে নৌযানগুলো ঘুরে যাবে।

বিআইডব্লিউটিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৯ মার্চ রাত নয়টা থেকে ঢাকার পাগলা মেরি এন্ডারসন জেটি থেকে এমভি মধুমতি জাহাজটি ছেড়ে যাবে। জাহাজটি বরিশাল, বাগেরহাটের মোংলা, সুন্দরবন, খুলনার আন্টিহারা- ভারতের হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতায় যাবে। বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব অত্যাধুনিক নৌযান দিয়ে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে।

ঢাকা-কলকাতা যাতায়াতের ভাড়া : এমভি মধুমতিতে যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ছয় শ। এর মধ্যে কেবিনগুলোতে ১৩০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, কেবিন ভাড়া ফ্যামিলি স্যুট (দুজন) ১৫০০০ টাকা, প্রথম শ্রেণি (যাত্রীপ্রতি) পাঁচ হাজার টাকা, ডিলাক্স শ্রেণি (দুজন) ১০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার প্রতিটি দুই হাজার টাকা এবং সুলভ ও ডিলাক্স শ্রেণির যাত্রীপ্রতি ভাড়া রাখা হবে দেড় হাজার টাকা। জাহাজে প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলের নাশতা, রাতের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এসব খাবার যাত্রীদের কিনে খেতে হবে। এ ছাড়া ভিসাও যাত্রীদের নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে। ভিসায় কোন পথে যাত্রীরা যাবেন এবং কলকাতা হয়ে ফেরত আসবেন সে বিষয় উল্লেখ ঘোষণা থাকতে হবে।

সময় যত লাগবে : ঢাকা থেকে ২৯ মার্চ রাত নয়টায় রওনা দিয়ে চাঁদপুর হয়ে ৩০ মার্চ ভোরবেলা বরিশালে যাত্রা বিরতি করবে এমভি মধুমতি। সেখান থেকে বাগেরহাটের মোংলায় কিছু সময় থামবে জাহাজটি। বাগেরহাট থেকে সুন্দরবনে ভেতরে যাবে এটি। সুন্দরবন ঘুরে মধুমতি জাহাজটি খুলনার কয়রার আন্টিহারার দিকে যাবে। সেখানে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে। আন্টিহারা হয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় যাবে। হলদিয়া থেকে সরাসরি কলকাতা চলে যাবে মধুমতি। সবশেষ গন্তব্য কলকাতা নৌবন্দরে পৌঁছাবে ৩১ মার্চ রোববার দুপুর ১২টার দিকে। রোববার কলকাতায় থেকে পরদিন ১ এপ্রিল ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে এমভি মধুমতি।


একইভাবে ২৯ মার্চ ভারতের সময় রাত নয়টার দিকে ভারতীয় একটি নৌযান বাংলাদেশের দিকে আসবে। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের একটি নৌযান বাংলাদেশে যাত্রী নিয়ে আসবে। ১৭ দিন ঘুরে নৌযানটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌপথ পাড়ি দেবে। নৌযানটি হলদিয়া দিয়ে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা হয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি আসবে ভারতীয় এই নৌযান। এর পর বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকায় আসবে। ঢাকা থেকে ভারতীয় নৌযানটি সিরাজগঞ্জ দিয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে আবার ভারতের আসামের দিকে চলে যাবে।

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাসে নিহত ২২

অনলাইন ডেস্ক: মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ইয়াবা নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের তৎপরতায় ইতোমধ্যে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এখনও আসছে ইয়াবার চালান। বিভিন্ন সময় তা ধরাও পড়ছে। অবস্থার পরিবর্তনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় গত দুই মাসে টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ (১ মার্চ) শুক্রবার ভোরে টেকনাফ উপজেলায় পুলিশ ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চার জন নিহত হয়েছেন।  এর মধ্যে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার আব্দুল জলিলের ছেলে নজির আহমদ (৪০) ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়ার মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩০)। অন্যদিকে সাবরাং এলাকায় বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন সদর ইউনিয়নের ডেইল পাড়ার কালু মিয়ার ছেলে আব্দুল শুক্কুর (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা ও ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরা সবাই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করে পুলিশ ও বিজিবি।    

আইনশৃঙ্খলা বহিনীর তথ্য মতে, গত বছরের মে মাসে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর শুধু কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত ৬১ জন নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে ৫১ জনের বাড়ি টেকনাফ উপজেলায়। তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত (দুই মাসে) কক্সবাজার জেলায় বন্দুকযুদ্ধে মোট ২৫ জন নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ২২ জন।

এদিকে চলমান অভিযানে যদি ইয়াবার চালান বন্ধ না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‌‘মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী, ফলে কেউ রেহাই পাবেন না। ইয়াবা ব্যবসা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করুন, তা না হলে পরিণতি ভালো হবে না এবং ইয়াবা বন্ধ করতে পুলিশ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করবে।’

র‌্যাব ও বিজিবির ভাষ্য মতে, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় গত এক মাসে (ফেব্রুয়ারি) র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে। এছাড়া মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক জন নিহত হয়। এসব ঘটনায় ২টি অস্ত্রসহ সাত জনকে আটক করা হয়। তার মধ্যে তিন জন রোহিঙ্গা। অন্যদিকে বিজিবির সদস্যরা গেল মাসে ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। বিজিবি এসব ঘটনায় ৪১টি মামলা ও আটক করে ২৬ জনকে।

স্থানীয় ও একাধিক সূত্র জানায়, সরকার মাদকের বিষয়ে কঠোর নীতি নেওয়ায় ইয়াবা কারবারিদের তৎপরতা কিছুটা কমেছে। টেকনাফ ঘিরে ইয়াবার রমরমা কারবারও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

দীর্ঘ দিন ‘সেফহোমে’ থাকার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা-অস্ত্র নিয়ে স্বেচ্ছায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সামনে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফের ১০২ জন ইয়াকারবারি। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এই উদ্যোগের পর টেকনাফে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে, নিহতের সংখ্যাও কমবে।

তবে এখন নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে সমুদ্রপথে কারবারিরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সমুদ্রপথে পাচারের সময় এক লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে গ্রেফতার করে কোস্টগার্ড। তাছাড়া টেকনাফে ইয়াবারোধে কড়াকড়ি জারি থাকায় মাদক কারবারিরা রুট পরিবর্তন করছে। এখন মিয়ানমার থেকে সরাসরি সমুদ্রপথে ও অন্যান্য রুটে ইয়াবা বড়ি কক্সবাজার, মহেশখালী, চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা, আনোয়ারা, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের (বিজিবির) অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, ‘মাদক ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইয়াবা বন্ধে বিজিবি সদস্যরা জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

গত দুই মাসের ‘বন্দুকযুদ্ধ’

১ মার্চ পৃথক বন্দুকযুদ্ধে চারজনের মৃত্যর ঘটনা ছাড়াও ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে টেকনাফের খারাং খালি তিন নম্বর স্লুইস গেইট এলাকায় বিজিবির ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিল্লাল হোসেন (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে দমদমিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন নুরুল আলম (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ থাকার কথা বলেছে র‌্যাব। একই দিন সাবরাংয়ের কাটাবুনিয়ায় বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বেল্লাল হোসেন (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এ ছাড়া পাঁচ নম্বর স্লুইস গেট এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি একইভাবে মারা যান মোহাম্মদ জাফর আলম (২৬) নামে এক রোহিঙ্গা। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়। মহেশখালীর কালমাদিয়া নামক স্থানে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বন্দুকযুদ্ধে’শাহাব উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। গত ২৮ জানুয়ারি নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (২০) ও মোহাম্মদ রফিক (৫৫) নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে ২৪ জানুয়ারি টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জন ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং মহেশখালীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’এক ডাকাত নিহত হন। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সামছু পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ২১ জানুয়ারি। টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়ায় ২০ জানুয়ারি বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ ওরফে মুছু (৩৫)। এছাড়া ৪ থেকে ১২ জানুয়ারি কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন আরও নয় মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে মাত্র একজন জেলা শহরের এবং বাকি আটজনই টেকনাফ এলাকার।

র‌্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারীদের বাইরে এখনও অনেক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়ে গেছে। ফলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসা কিছুটা কমলেও তা বন্ধ হয়নি। কিন্তু ইয়াবা বন্ধে র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “এক সময় ইয়াবা প্রবেশের মূল পয়েন্ট ছিল টেকনাফ। এ সূত্রে এ সীমান্তে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক কারবারিরা গুলি ছোড়ে ‘আত্মরক্ষার্থে’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও গুলি ছোঁড়ে। এতে ‘বন্দুকযুদ্ধ’র ঘটনা ঘটছে। এই সীমান্তে ইয়াবা কারবারির সংখ্যা বেশি তাই অভিযানও বেশি হচ্ছে।”

খালেদার জামিনের মেয়াদ বাড়লো

মানহানির দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর করে বৃদ্ধি করেছে হাইকোর্ট। তার আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, ঢাকা ও নড়াইলে দায়ের করা দুটি মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রথমে হাইকোর্ট ছয়মাসের জামিন দিয়েছিলো। পরে ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বর্ধিত করার আবেদন করি। আদালত শুনানি শেষে জামিনের মেয়াদ এক বছর করে বৃদ্ধি করেছে।

লুটপাটের মধ্যে গণতন্ত্র চলতে পারে না

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র চলতে পারে না যদি ফ্রি স্টাইলে লুটপাট চলতে থাকে। তিনি এ প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই পুলিশের ভূমিকা আছে।

সবাই চায় পুলিশ তার আইন মেনে দায়িত্ব পালন করুক। দেশের জনগণকে শ্রদ্ধা করুক, কারণ জনগণ ক্ষমতার মালিক। রোববার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণফোরামের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার যদি নিজেকে জনগণের সরকার মনে করে তাহলে অবশ্যই বৈষম্য হ্রাস করবে। কেউ দরিদ্র থাকবে আর কেউ সম্পদের পাহাড় গড়বে এটা তো স্বাধীনতার এত বছর পর কাম্য হতে পারে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা সফল হব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে বিতর্ক বা গলদ থাকলে সেখানে অবশ্যই একটা বিতর্ক থাকে। জনগণ আশা করে এখানে যে সরকার আছে সে সংবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। সংবিধানে যে কথাগুলো আছে। এখানে যারা আমাদের দেশ শাসন করবে তারা নির্বাচিত হতে হবে। তাদেরই কিন্তু দেশের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি সবাইকে নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.